ঢাকা, রোববার 18 November 2018, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ধাক্কা খেল বিরোধীরা

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে মামলায় সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকার ও রাজ্য নির্বাচন কমিশন জয়ী হওয়ায় বিরোধীরা ধাক্কা খেয়েছে।

আজ (শুক্রবার) সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির সমন্বিত বেঞ্চ পঞ্চায়েত মামলার রায়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী আসনে ফল ঘোষণা করা যাবে বলে রায় দিয়েছে। এরফলে ২০ হাজার ১৫৯ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে পারবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এ নিয়ে কারো কোনো অভিযোগ থাকলে ৩০ দিনের মধ্যে ইলেকশন ট্রাইবুন্যালে গিয়ে পিটিশন ফাইল করা যেতে পারে।

সুপ্রিম কোর্ট আজ কোলকাতা হাইকোর্টের ই-মনোনয়নের নির্দেশও বাতিল করে দিয়েছে।

আদালতে বিরোধীদের মূল অভিযোগ ছিল- রাজ্যে বিরোধী প্রার্থীরা ২০ হাজার আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারায় ৩৪ শতাংশ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শসকদলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছে। রাজ্যের বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেস দল শীর্ষ আদালতে অভিযোগ জানায় যে, তৃণমূল কংগ্রেসের ভয়াবহ সন্ত্রাসের ফলে পঞ্চায়েত নির্বাচনে তারা মনোনয়নপত্র  জমা দিতে পারেনি।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বিরোধীদের ওই অভিযোগ বস্তুত 'মাঠে-ময়দানে' লড়াইয়ের অভিযোগ। এর কোনো প্রামাণ্য নথি তারা দিতে পারেননি।

সুব্রত মুখোপাধ্যায়

আদালতের রায় সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘এটা পরাজয় শুধু নয়, একেবারে ‘বিরাশি সিক্কার চড়’ খাওয়ার মতো বিষয়। আদালতে মামলা করার জন্য বিরোধীদের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজে পশ্চিমবঙ্গের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে কথা বলেছেন, তখন এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করেছেন। অমিত শাহ (বিজেপি সভাপতি) তিনিও এ নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। আজকে মানুষের কাছে নতজানু হয়ে ওদের ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।’

রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এই জয় গণতন্ত্রের জয়। সিপিএম, বিজেপিসহ বিরোধীরা নানা উসিলায় উন্নয়নের ধারাকে স্তব্ধ করতে চাচ্ছিল। তাদের পরাজয় হয়েছে।’

 

দিলীপ ঘোষ

অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছিলাম। সব জায়গায় সুবিচার পাওয়ার রাস্তা বন্ধ হলে তখনই মানুষ আদালতে যায়। মহামান্য আদালত গত চার মাস ধরে বিষয়টি শুনেছেন, তথ্য প্রমাণ দেখেছেন। নির্বাচনি সহিংসতায় প্রায় ৭৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেজন্য আমাদের মনে হয়েছিল যেসব জায়গায় নির্বাচন হয়নি সেখানে নির্বাচন হওয়া উচিত। কিন্তু নির্বাচনের অধিকার ওরা দেননি। সুপ্রিম কোর্টের রায়কে আমরা মানব, ওরা যে রাস্তা দেখিয়েছেন (ট্রাইবুনাল) তার মধ্যদিয়ে আমরা সুবিচার পাওয়ার চেষ্টা করব।’

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘শীর্ষ আদালত এখনো অন্যত্র মামলার পথ খোলা রাখায় এই রায়ে তৃণমূল কংগ্রেসের উৎসাহের কিছু নেই৷’

রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, ‘শীর্ষ আদালত নিয়ম মেনে রায় দিয়েছে। কিন্তু বিরোধীরা ৩৪ শতাংশ আসনে প্রার্থী দিতে পারেননি এবং মানুষ ভোটে অংশ নিতে পারেননি এটাও সত্য ঘটনা।’

 

অধীর চৌধুরী

রাজ্য সরকারের হয়ে আদলতে লড়া আইনজীবী ও তৃণমূলের এমপি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কংগ্রেস-বিজেপি-সিপিএম সবাইকে একদম শুইয়ে  দিয়েছি। তিন জন মিলে গলা জড়াজড়ি করে এসেছিল। সবাইকে শুইয়ে দিয়েছি। আলকাতরা ঢেলে দিয়েছি সিপিএম-এর মুখে।’

পঞ্চায়েত মামলায় বিরোধীদের অভিযোগের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের পক্ষ  কোলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে লড়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন প্রক্রিয়া একবার শুরু হওয়ার পরে আদালত তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। বারবারই তিনি একথাই বলে এসেছেন। সুপ্রিম কোর্ট আজ সেই মর্মেই রায় দিয়েছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ