ঢাকা, শনিবার 25 August 2018, ১০ ভাদ্র ১৪২৫, ১৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দাম কমিয়ে ব্যবসায়ীদের চামড়া সংগ্রহ চট্টগ্রামে

বৃহওর চট্টগ্রামে এবার দু’দিনে প্রায় ৫ লাখ কুরবানির গরু, মহিষ ও ছাগলের চামড়া সংগ্রহ

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম মহানগরীসহ বৃহওর চট্টগ্রামে এবার দুইদিনে প্রায় ৫ লাখ কুরবানির গরু, মহিষ ও ছাগলের চামড়া সংগ্রহ করেছে চামড়ার আড়তদারেরা। এখন তা প্রক্রিয়াজাত করার কাজ চলছে জোরেসোরে।

সূত্র জানিয়েছে, চট্ট্রগ্রামে এবার চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল সাড়ে ৫ লাখ পিস। নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, মওসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়ার মূল্য কম বলে প্রচার করে খুব কমদামে চামড়া সংগ্রহ করেছে কুরবানি দাতাদের কাছ থেকে। ফলে গরিব দুঃখীরা তাদের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞিত হয়েছে। মওসুমী ব্যবসায়ীরা কম মুল্যে চামড়া সংগ্রহ করে তা আবার আড়তদারদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করেছে। এতে তারা লাভের মুখ দেখেছে বলে জানা গেছে।

তবে আড়তদারদের অভিযোগ মওসুমী ব্যবসায়ীর কারণে এবার বেশি দামে চামড়া সংগ্রহ করতে হয়েছে। মাঠ পর্যায় থেকে চামড়া সংগ্রহ করা মওসুমী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কারসাজি করে চামড়ার দাম বেশি রাখায় শেষ পর্যন্ত লাভের দেখা পাচ্ছেন না চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া আড়তদাররা। কুরবানির পর বুধবার সকাল থেকে পাড়ায় পাড়ায় মওসুমী ব্যবসায়ীরা কাঁচা চামড়া সংগ্রহ শুরু করে। পরে সেগুলো চট্টগ্রাম মহানগরীর চৌমুহনী এলাকাসহ বিভিন্ন স্পটে জড়ো করেন। সন্ধ্যার পর থেকে সেগুলো যেতে শুরু করে আতুরার ডিপোর আড়তে। রাতভর চামড়া সংগ্রহ করেন আড়তদারেরা। সেই সঙ্গে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ চলতে থাকে। পরেরদিনও একই কায়দায় চামড়া সংগ্রহ করা হয়।

জানা গেছে, এবার ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দর ফুটপ্রতি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা। তবে সরকারি দরে কাঁচা চামড়া কেনা যায়নি বলে ব্যবসায়ীরা জানান। চট্টগ্রামের ১১২ জন আড়তদার এবার প্রতিটি চামড়া ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু ওই দামে তাঁরা কিনতে পারেননি বলে জানা গেছে। 

রফিক নামের এক আড়তদার জানান, ৭০০ থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকায়ও চামড়া কিনতে হয়েছে। তিনি বলেন, চামড়ার চেয়ে ক্রেতা বেশি হওয়ায় বেশি দামে কিনতে হয়।

আতুরার ডিপোর আড়তদার মো. জাহাঙ্গীর বলেন, ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় আমরা চামড়া কিনতে পারিনি। আমাদের ৭০০-৮০০ থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকায়ও চামড়া কিনতে হয়েছে। তিনি বলেন, বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে কাঁচা চামড়ার খুচরা ব্যবসায়ীরা সবাই একযোগে দাম বাড়িয়ে দেয়। অনেকটা সিন্ডিকেটের মতো। সন্ধ্যার পর থেকে কাঁচা চামড়া আসাও কমে যায়। চামড়ার চেয়ে ক্রেতা বেশি। স্বাভাবিকভাবে দাম বেড়ে গেছে। আমাদের কাছে এটা একটা কারসাজি মনে হয়েছে। কারণ আমরা অনেক পাড়া-মহল¬ায় রাতেও চামড়া পড়ে থাকতে দেখেছি। ইচ্ছা করেই সেগুলো গতকাল সংগ্রহ করা হয়নি। বৃহস্পতিবার দর উঠে যাবার পর সেগুলো কিনে ডিপোতে নেবে খুচরা ব্যবসায়ীরা। 

আড়তদার মোহাম্মদ মুসলিম বলেন, কুরবানির অনেক আগে থেকেই আমাদের প্রত্যেককে অন্ত:ত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে রাখতে হয়। সেজন্য আমাদের বাড়তি দামে কাঁচা চামড়া কিনতে হয়েছে। না হলে পুরো টাকাটাই লস যাবে। ১০০০ টাকা দিয়ে চামড়া কিনে লবণ দিয়ে শুকিয়ে কোনোভাবেই সরকারি দরে বিক্রি করা সম্ভব নয়।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতি লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল কাদের বলেন, তাদের সমিতিভুক্ত ১১২ জন এবং বাইরের ৭২ জন মিলিয়ে দুইশর মত আড়তদার এবার চট্টগ্রাম অঞ্চলে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করছেন। এবার চট্টগ্রামে চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পাঁচ লাখের বেশি। ইতোমধ্যে  তা পুরণ হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন উপজেলার ব্যবসায়ীরা আরও  চামড়া সংগ্রহ করে লবণ দিয়ে রেখেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তিন-চারদিনের মধ্যে এসব চামড়া আড়তে এলে মোট চামড়ার পরিমাণ সাড়ে পাঁচ লাখের মত হবে। আবদুল কাদের বলেন, আমরা প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া কিনেছি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে ঠিকদামে বিক্রি করতে না পারলে আমাদের লোকসান গুণতে হবে। চট্টগ্রামের ট্যানারি দুটো এবার বন্ধ থাকায় ঢাকার মালিকদের কাছেই সব চামড়া বিক্রি করতে হবে। এক দেড় মাস পর ঢাকার ট্যানারি ব্যবসায়ীরা এসব চামড়া আড়তদারদের কাছ থেকে কিনে নেবেন।

৪ চোর গ্রেফতার

গত ২৩ আগস্ট চট্টগ্রামে পুলিশ ৪ চোরকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো- ১) মোঃ রবিন হোসেন রকি প্রঃ মোঃ রনি (২৩), পিতা- মোঃ বাচ্চু মিয়া, মাতা- জাহানারা বেগম , সাং ইলিয়টগঞ্জ, রায়পুর সুইচ গেইট, আলী ডাক্তারের বাড়ী, গ্রাম- অজ্ঞাত, উপজেলা/থানা- চান্দিনা, কুমিল্লা, বর্তমানে: লালখান বাজার, মতিঝর্ণা ৫নং গলি, মঞ্জু মিয়ার ভাড়াটিয়া, থানা- খুলশী, চট্টগ্রাম, ২) মোঃ রাব্বি হোসেন প্রঃ শিপন প্রঃ নুরীর নাতি (২০), পিতা- মোঃ কামাল উদ্দিন, মাতা- শিল্পী বেগম সাং-পাঁচগাঁও, আলী সেরাং এর বাড়ী,থানা- চাটখিল, নোয়াখালী, বর্তমানে  লালখান বাজার, মতিঝর্ণা, আলী নুর জাহানের বাড়ী, থানা- খুলশী, চট্টগ্রাম,৩) মো: আলী হোসেন (২২), পিতা- শহীদুল ইসলাম, মাতা- সীমা বেগম, সাং- ওমরপুর, ওমর ডাক্তারের বাড়ী, গ্রাম- অজ্ঞাত, উপজেলা/থানা- চান্দিনা, কুমিল্লা, বর্তমানে লালখান বাজার, মতিঝর্ণা, নজরুল সরকারের বাড়ী, গ্রাম- অজ্ঞাত, উপজেলা/থানা- খুলশী, চট্টগ্রাম, ৪) সুমি বেগম (২০), স্বামী- মোঃ খলিল, বর্তমানে লালখান বাজার, মতিঝর্ণা, এডভোকেট পিকু সাহেবের বাড়ীর ভাড়াটিয়া (ভাসমান), থানা- খুলশী, চট্টগ্রাম।

পুলিশ জানিয়েছে তারা লালখান বাজার এলাকায় একটি দোকানে চুরির সাথে জড়িত ছিল। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ