ঢাকা, শনিবার 25 August 2018, ১০ ভাদ্র ১৪২৫, ১৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঈদের দিন সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার : শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসচাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ৬ যাত্রী নিহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নামপরিচয় জানা যায়নি। তবে নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও চার পুরুষ রয়েছেন বলে জানা গেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লেমুয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের ফেনী সদর হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফেনী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক রাশেদ খান চৌধুরী ঘটনার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সংযোগ সড়ক দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উঠে এলে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দেয়। এতে মোট ৬ জন নিহত হয়েছেন। 

এছাড়া গতকাল কক্সবাজারের রামু ও উখিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। শুক্রবার বেলা ২টার দিকে রামুর জোয়ারিয়ানালা এলাকায় পর্যটকবাহী বাস ও বেলা ১২টার দিকে উখিয়ার উপকূলীয় সোনারপাড়া মেরিন ড্রাইভ সড়কে টমটমের ধাক্কায় এসব ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, কক্সবাজারের রামুতে পর্যটকবাহী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় বাপ্পি (১৯) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়। শুক্রবার বেলা ২টার দিকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামুর জোয়ারিয়ানালা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। নিহত বাপ্পী চকরিয়া উপজেলা সদরের মৃত গণি উদ্দিনের ছেলে ও চকরিয়া সিটি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার সঙ্গে আহত আশরাফ উদ্দিন (২০) ও একই এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। কক্সবাজার সদর হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ আপন হোসেন মানিক এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অপরদিকে, কক্সবাজারের উখিয়ার উপকূলীয় মেরিন ড্রাইভ সড়কে টমটমের ধাক্কায় জাফর আলম (৮) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। সে উখিয়ার উপকূলীয় জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনারপাড়া গ্রামের আলী হোছেনের ছেলে। শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। ইনানী পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এসআই আনিস জানান, পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে বিচে যাচ্ছিল জাফর। রাস্তা পার হবার সময় দ্রুতগামী টমটমটি জাফরকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়।

এদিকে ঈদের দিন সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ায় চার জন, সিরাজগঞ্জে ৩ জন, কুষ্টিয়ায় ৩ জন এবং লক্ষ্মীপুরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। সড়ক পার হওয়ার সময় মারা গেছেন আরও এক ব্যক্তি। সকালে উপজেলার মাঝিরাবন্দর এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গাইবান্ধাগামী আল হামরা পরিবহনের একটি বাস মাঝিরাবন্দর এলাকায় এলে সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বগুড়াগামী অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার চালকসহ চারজন আহত হন।

তাঁদের উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনজন মারা যান। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শাজাহানপুরের আড়িয়াবাজার এলাকায় মহাসড়ক পার হওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় এক নৈশপ্রহরী নিহত হন। বিকেলে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে দুজন ও সকালে সলঙ্গায় এক জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ২১ জন। বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলগামী ছাগলবোঝাই একটি ট্রাক কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল এলাকায় সেতুতে ওঠার সময় সড়কের পাশে উল্টে যায়। এ সময় ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে একজন (৪৫) এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে আরও একজন (৫০) মারা যান। পরে থানা-পুলিশ ১৫ জনকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। নিহত ও আহত ব্যক্তিরা সবাই ছাগল ব্যবসায়ী বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা থেকে গরু ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি ট্রাক রাজশাহী যাওয়ার পথে সকাল সাড়ে আটটার দিকে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের সলঙ্গা থানার চড়িয়া কামারপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাকটি রাস্তার পাশে উল্টে পড়ে। এ সময় নিচে চাপা পড়ে এক গরু ব্যবসায়ী মারাত্মক আহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পথে ওই ব্যবসায়ী মারা যান। এদিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কে আজ বেলা দুইটার দিকে ট্রাক ও মাহেন্দ্রের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। অপর দিকে একই সময়ে দৌলতপুরের তারাগুনিয়ায় ট্রাকচাপায় এক শিশু মারা গেছে।

এদিকে লক্ষ্মীপুরে রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ সড়কের শ্যামরা এলাকায় মাইক্রোবাস-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ফারুক হোসেন নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত ও মুকবুল হোসেন নামে আরো এক আরোহী গুরুতর আহত হয়েছে। নিহত ফারুক হোসেন রামগঞ্জ উপজেলা কলচমা এলাকার হোসেন মিয়ার ছেলে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ