ঢাকা, শনিবার 25 August 2018, ১০ ভাদ্র ১৪২৫, ১৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঈদের ছুটিতে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে উপচেপড়া ভিড়

 

স্টাফ রিপোর্টার : ঈদকে কেন্দ্র করে গত দুইদিন রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। শিশু-কিশোরদের সঙ্গে বাবা-মা বা আত্মীয়-স্বজন ঈদের আনন্দ উদযাপন করতে বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমিয়েছিলেন। তবে রাজধানীতে বিনোদনকেন্দ্র ঘুরেফিরে কয়েকটিই। এছাড়া বেশকিছু খোলামেলা জায়গায় বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে ছুটে যান নগরবাসী। যেমন হাতির ঝিল বা ধানমন্ডির লেক, এমনকী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও এর আশ-পাশের এলাকাও ছুটিছাটায় ভিড় করে মানুষ। কোরবানির ঈদের পরের দিন বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এর ব্যতিক্রম ছিল না। এসবের মধ্যে শাহবাগের শিশুপার্ক আর মিরপুরের চিড়িয়াখানায় ছিল ভিড়ে ঠাসাঠাসি অবস্থা। বিকেল পর্যন্ত ছিল এই ভিড়। বিকেল থেকে ভিড় বাড়ে হাতিরিঝিল এলাকায়, ধানমন্ডি লেক ও টিএসসি এলাকায়।

স্ত্রী ও দুই সন্তনকে নিয়ে শিশুপার্কে এসেছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রবিউল হাসান। ঈদে ছুটি না পাওয়ায় গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাটে যেতে পারেননি। এজন্য কোরবানির পরদিন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে শিশুপার্কে এসেছেন। বিকেল ৩টার দিকে তার জাতীয় জাদুঘর দেখবার কথা।

রবিউল বলেন, ঢাকায় তো বিনোদনকেন্দ্র বলতে ঘুরে-ফিরে এই শিশুপার্ক বা চিড়িয়াখানা। এর বাইরে আর যাওয়ার জায়গা নেই। বাচ্চাদের বায়না আর ফাঁকা রাস্তায় একটু ঘুরে বেড়াতে বেড়িয়েছেন বলে জানালেন তিনি। রাজিয়া খাতুন এসেছেন পুরানো ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড় এলাকা থেকে। সঙ্গে সঙ্গে ছোট বোন সাহিদা ও দুই সন্তান উপল ও চপল। তিনি বলেন, শিশুপার্কে অনেক ভিড়। সবাই সন্তানদের নিয়ে এসেছে। এজন্য প্রতিটি রাইডে ওঠার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। লাইন ধরে ধরে রাইডে উঠতে হয়েছে। তবু শিশুরা অনেক আনন্দ পেয়েছে।

চন্দ্রিমা উদ্যানে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মোহাম্মদপুর বছিলার বাসিন্দা ফরিদ হোসেন জানান, কুরবানির ঈদে তো ঈদের দিন মাংস কাটাকাটি আর রান্নাবান্না নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই ঈদের পরদিন স্ত্রী আর সন্তানদের নিয়ে বের হয়েছি। চন্দ্রিমা উদ্যান আর সংসদ ভবন এলাকায় একটু সময় কাটিয়ে আবার ফিরে যাবো।

বৃহস্পতি ও শুক্র বার দিনভর রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে মিরপুরের চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, চন্দ্রিমা উদ্যান, শিশুপার্ক, জাতীয় যাদুঘরে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে সরকারি ছুটির কারণে সামরিক জাদুঘর ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান নভোথিয়েটার বন্ধ থাকায় অনেককে ফিরে যেতে হয়েছে।

স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে নভোথিয়েটারে আসা নাভিদ ইকবাল ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এই শহরে তো ঘোরাঘুরির জায়গাই কম। তার ওপর ঈদের সময় এসব বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ রাখার কোনও মানে হয় না। অন্যান্য সময় ব্যস্ত থাকায় আসতে পারিনি বলে ঈদের ছুটির সময় আসলাম। কিন্তু এসে দেখি নভোথিয়েটার বন্ধ।

অবশ্য ঈদের ছুটিতে বিশেষ ব্যবস্থায় শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার ব্যবস্থা ছিল। শিশু-কিশোর ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ঈদের ছুটিতে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যাদুঘর কর্তৃপক্ষ।

মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা তাদের শিশু-সন্তানদের নিয়ে প্রবেশ করছে। এবার প্রবেশের জন্য বাহির পথের পাশে দিয়ে প্যান্ডেল করে অস্থায়ী প্রবেশ পথ তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন পশুপাখির সঙ্গে নিজের সন্তানদের পরিচয় করিয়ে দিতে এসেছেন মা-বাবারা।

চিড়িয়াখানায় প্রবেশের পর প্রথমেই পড়বে বানরের খাঁচা। সেখানেই সবচেয়ে বেশি ভিড়। খাঁচার ভেতরে বানরগুলো এদিক ওদিক ছুটছে, লাফালাফি করছে। এতে শিশুরাও আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠছে, সঙ্গে বড়রাও হেসে পড়ছেন গড়িয়ে। এরপর এক এক করে অন্যান্য পশুপাখির খাঁচার সামনের দিকে এগিয়ে যান দর্শনার্থীরা। কেউ কেউ সন্তানদের নিয়ে ওঠেন হাতির পিঠেও।

বিভিন্ন পশুপাখি দেখে যারা ক্লান্ত হয়ে গেছেন তাদের অনেকেই পথের থাকা আইলেন ও ঘাসে উপর বসে পড়েন। এছাড়াও চিড়িয়াখানার ভেতরে শিশুদের বিনোদনের জন্য থাকা পার্কেও ভিড় দেখা গেছে। গাছের গোড়ায় ও বিভিন্ন বেঞ্চিত বসে সময় কাটাচ্ছেন তারা।

নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছিলেন মোহসিন আলী। সঙ্গে তার দুই সন্তান ও স্ত্রী। পরিবারের সবাই মিলে আনন্দময় কিছু সময় কাটাতেই চিড়িয়াখানায় এসেছে তারা। মোহসিন আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার ছয় বছরের মেয়ে প্রায় সময় টেলিভিশনে সিংহ-বাঘ বানর দেখে। কিন্তু বাস্তবে এসব জীবজন্তু দেখতে কেমন, তা দেখানোর উদ্দেশ্যেই দুই সন্তানকে এখানে নিয়ে এসেছি। এক দিকে ঘোরাঘুরিও হলো, অন্যদিকে শিশু সন্তানরা জীবজনন্তু দেখতে পেলো।’

বিমানবন্দরের আশকোনা এলাকা থেকে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছেন আশিকুল ইসলাম। সঙ্গে তার স্ত্রী-সন্তান ও একটি ভাগনী। তিনি জানান, সন্তানের মানসিক বিকাশের জন্য একটু ঘরাঘুরি করছি। ঈদ গেল, এই ছুটির দিনে আত্মীয়দের বাড়িতে বেড়াতে যেতেও পারতাম। কিন্তু আমার শিশুসন্তানকে জীবজন্তর দেখাতে চিড়িয়াখানায় নিয়ে এসেছি। এই জীবজন্তুর গল্প দিয়ে হলেও সন্তানকে অনেককিছু জানাতে পারবো।

বাঘের খাঁচার সামনে নিলুফার ইয়াসমিন নামে এক দর্শনার্থী বলেন, ছেলেকে বাঘ মামা দেখাতে নিয়ে এসেছি। প্রায় সময় বাঘের গল্প বলে খাওয়াতে হতো। কিন্তু কোনোদিন বাঘ দেখানো হয়নি। তাই ছেলে আদরকে চিড়িয়াখানায় নিয়ে এসেছি। এছাড়াও একটু ঘোরাঘুরিও হচ্ছে। চিড়িয়াখানার পাশেই রয়েছে জাতীয় উদ্যান বোটানিক্যাল গার্ডেন। সেখানেও দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে।

ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজধানী এখন প্রায় ফাঁকা। যানজটের জন্য অতিষ্ঠ হয়ে ওঠা শহরের বাসিন্দারা এখন ফাঁকা রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে পারছেন ইচ্ছামতো। তাই অনেকে পুরো শহর ঘুরতে প্রাইভেটকার বা মোটরবাইক নিয়ে বেড়িয়েছেন। রাহুল নামে এক মটরবাইকার জানান, বন্ধুরা মিলে মোটরবাইক নিয়ে পুরো শহর ঘুরেছেন। এজন্য তাদের ঘণ্টা দেড়েক সময় লেগেছে। অন্যান্য সময় এটা চিন্তাই করা যায় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ