ঢাকা, শনিবার 25 August 2018, ১০ ভাদ্র ১৪২৫, ১৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়াকে বাসার খাবার খেতে দেয়া হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র ঈদুল আজহার দিনেও বাসা থেকে স্বজনদের আনা খাবার খেতে পারলেন না বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। নাতনি, পুত্রবধূসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একসাথে খাবার খাবেন বলে ঈদের দিন বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ স্বজনদের নেয়া সেই খাবার তার কাছে পৌঁছাতে দিলো না। খাবার নিতে না দিলেও বিএনপির চেয়ারপার্সন কারাবন্দী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন তার স্বজনেরা। ঈদের দিন বুধবার বিকেলে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন তারা। স্বজনেরা দেখা করলেও পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দলের সিনিয়র নেতাদের সাক্ষাতের কোনো অনুমতি দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করার সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনেক আগেই জমা দিয়েছিলেন তারা। কারা কর্তৃপক্ষ দেখার করার বিষয়ে পরোক্ষ সম্মতিও প্রদান করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় কারাফটকে অপেক্ষা করার পর সিনিয়র নেতাদের ফিরে যেতে হয় তাদের প্রিয় নেত্রীর সাথে দেখা না করেই।

বিএনপির চেয়ারপার্সনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার জানান, পরিবারের ২০ জন সদস্য দেখা করার জন্য বেলা তিনটার দিকে কারাফটকের কাছে যান। অবশ্য মাত্র ছয়জন স্বজনকে দেখা করতে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঈদ উপলক্ষে পরিবারের ২০ জন সদস্য বিএনপির চেয়ারপার্সনের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। তারা বাসা থেকে রান্না করা খাবারও সঙ্গে নিয়েছিলেন।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিকেল পৌনে চারটার দিকে খালেদা জিয়ার স্বজনেরা কারাগারের ভেতর ঢোকেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে বাইরে বেরিয়ে আসেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন তার বোন সেলিনা ইসলাম, বোনের স্বামী রফিকুল ইসলাম, ভাই সাঈদ এস্কান্দরের স্ত্রী নাসরিন সাঈদ, ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি, মেয়ে জাফিয়া রহমান ও তারেক রহমানের স্ত্রীর বোন শাহিনা খান।

বিএনপির চেয়ারপার্সনের সঙ্গে দেখা করে বাইরে এসে সেলিনা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে সুস্থ নন। তিনি তাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেলিনা ইসলাম বলেন, তারা অনুমতি নিয়েই বোনের (খালেদা জিয়া) জন্য বাসা থেকে খাবার নিয়েছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ। বাসার খাবার নিতে না দেয়ায় ঈদের দিন বিকেল পর্যন্ত তিনি কিছু খাননি।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সনের পছন্দের খাবারগুলোই বাসা থেকে রান্না করে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ সেগুলো নিতে দেয়নি। এদিকে ঈদের দিনেও খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ পাননি বিএনপির নেতাকর্মীরা। ঈদের নামায শেষ করে বেলা সাড়ে ১২টায় নাজিম উদ্দিন রোডে পুরনো কারাগারে গিয়ে তারা ফিরে এসেছেন। ঈদের দিন দলের চেয়ারপার্সনের সঙ্গে দেখা করতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস পুরনো কারাগারের নাজিম উদ্দীন রোডে যান।

কিন্তু আগে থেকেই নাজিম উদ্দীন রোডের মাথায় ব্যারিকেড তৈরি করে রাখে পুলিশ। সেখানেই বিএনপি নেতাদের আটকে দেয়া হয়। ব্যারিকেড উপেক্ষা করে সামনের দিকে আগানোর চেষ্টা করেননি বিএনপি নেতারা।

তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন অনুমতি চেয়ে বিএনপির প্যাডে লেখা চিঠি পুলিশকে দেখিয়ে বলেন, দেখা করার অনুমতি চেয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আমরা চিঠি দিয়েছি। তাছাড়া ঈদের দিন আত্মীয়-স্বজন এবং রাজনৈতিক সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ বন্দীর আইনগত অধিকার।

এ সময় দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা তাদেরকে বলেন, দেখা করার ব্যাপারে আমাদের কাছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশনা নেই। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দেশনা পেলে আমরা দেখা করতে দিতাম। এরপর পুলিশের সঙ্গে কথা না বাড়িয়ে দুপুর পৌনে ১টার দিকে নাজিম উদ্দীন রোড থেকে ফিরে যান বিএনপির সিনিয়র নেতারা। সিনিয়র নেতারা চলে যাওয়ার পর মহিলা দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ ঢাকা মহানগর বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মী সমর্থকরা নাজিম উদ্দীন রোডে দাঁড়িয়ে স্লোগান দেন। 

ঈদের দিনে খালেদা জিয়াকে বাসার খাবার খেতে না দেয়া নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঈদের দিন রাত ৮টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ব্রিফিং করে তিনি একথা বলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঈদের দিন খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে নেয়া খাবার দেয়া হয়নি। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এটা নজিরবিহীন ও অমানবিক ঘটনা। 

স্বজনরা জানান, অন্যদিনের ন্যায় ঈদের দিনও বেগম জিয়া ফজরের নামাযের পাশাপাশি তাহাজ্জুতের নামায আদায় করেন। তিনি বেশ কিছু সময় পবিত্র কুরআন শরীফ তেলোয়াত করেন। ঈদের দিন কারাগারের অভ্যন্তরে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আবেগঘন পরিবেশে কিছু সময় কাটালেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়ার পর পরিবারের ৬ সদস্য কারাগারে প্রবেশ করেন। বাকিরা অনুমতি না পেয়ে কারাফটক থেকেই ফিরে যান। পরিবারের পক্ষ থেকে আনা খাবার খেতে দেয়া না হলেও তিনি সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলেন। এটিকে বর্তমান সরকারের অভ্যাস বলে মনে করেন তিনি। বেগম জিয়া সবার সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানান।

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার নামে একটি গরু ও দুটি ছাগল কুরবানি দেয়া হয়েছে। লন্ডনে অবস্থানরত বড় ছেলে তারেক রহমানের পরামর্শে ঈদুল আজহার দিন সকালে রাজধানী গুলশান-২-এর বাসভবন ফিরোজায় পশু তিনটি কুরবানি দেয়া হয়। এ কুরবানি তত্ত্বাবধান করেন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি। বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয় সূত্রে এতথ্য জানা গেছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দ- পেয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দী আছেন খালেদা জিয়া। এ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও অন্য মামলায় জামিন হয়নি। ধর্মমতে, কুরবানি দিতে সক্ষম ব্যক্তি কোনও কারণে অনুপস্থিত থাকলে তার পরিবার বা স্বজনদের উদ্যোগে কুরবানি দেয়া যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ