ঢাকা, শনিবার 25 August 2018, ১০ ভাদ্র ১৪২৫, ১৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঈদে নির্বাচনী প্রচারণায় ক্ষমতাসীন আ’লীগ

 

স্টাফ রিপোর্টার: আগামী ডিসেম্বরেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। যদিও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে দেশে বিদেশে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। এখন পর্যন্ত বিরোধী নেতাকর্মীরা মাঠেই নামতে পারছেনা। তাদের সভা সমাবেশে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা চলমান। প্রশাসনসহ সর্বস্তরে দলীয়করণ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সশস্ত্র মহড়া এখনো বিদ্যমান। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচন যে সুষ্ঠু হবে তার নিশ্চয়তা দেয়া যাবেনা। নির্বাচনে অংশ নিতে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার, খালেদা জিয়ার মুক্তি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, মত প্রকাশের স্বাধীনতাসহ বেশ কিছু দাবিতে আন্দোলন করছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিএনপির কোনো দাবিই মানা হবেনা। যথা সময়েই সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতাসীনদের অধীনেই নির্বাচন হবে। বর্তমান সরকারের মেয়াদ আগামী ২৮ জানুয়ারি শেষ হবে। সে অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

নির্বাচন নিয়ে যখন পক্ষে-বিপক্ষে তর্ক বিতর্ক চলছে, নির্বাচন অনুষ্ঠানে এখনো শতভাগ অনিশ্চয়তা থাকলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা বসে নেই। বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে তারা বেশ সক্রিয়। তবে হামলা-মামলাসহ নাজেহালের ভয়ে বিরোধী প্রার্থীদের এবারের ঈদেও তেমন সরব দেখা যায়নি। তবে আওয়ামী লীগ আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে পুরোদমেই। কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে জোরেশোরে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছে ক্ষমতাসীন দলটি। 

দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা একটি নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই অন্য নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। সেই হিসাবে তারা সব সময়ই নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে মাঠে রয়েছে। আর তারা একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য এ বছরের শুরু থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় রয়েছে। ক্রমে এই গতি বাড়ছে। আগামী দিনেও বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। জানা গেছে, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়ে এগুচ্ছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের তফসিল হবে নবেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। ফলে নির্বাচনের জন্য আর মাত্র চার মাসের মতো সময় বাকি রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, গত ২৬ জানুয়ারি দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ১৫টি টিমে বিভক্ত হয়ে দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফরের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন। ওই টিম এরই মধ্যে সাংগঠনিক জেলায় সফর শেষ করেছে। এছাড়া দলের প্রতিটি সংসদীয় আসনে দলের নেতারা যাচ্ছেন; বিভিন্ন সভা, সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। সাধারণ জনগণ যেন আবারও নৌকায় ভোট দেন সে আহ্বান জানানো হচ্ছে। এর বাইরে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দেশের বিভিন্ন এলাকা সফর করছেন। প্রথমে তিনি বিভাগীয় শহরগুলোতে যান। এখন তিনি জেলা পর্যায়ে সফর করছেন। আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ গঠনের আগ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর এই সফর চলবে বলে জানা গেছে।

এদিকে নির্বাচনি প্রচারণার পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন ও ভোটকক্ষে দলের পক্ষে দায়িত্ব পালনে পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। নিজের সফর, সাংগঠনিক সফর ছাড়াও শেখ হাসিনা দলের কেন্দ্রীয় নেতা, সংসদ সদস্য ও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের যার যার এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ঈদের আগেও তিনি সবাইকে এলাকায় গিয়ে ঈদ উদযাপনের নির্দেশ দেন। নির্দেশ দেন সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির কথা জনগণকে জানাতে।

জানা গেছে, নেতাকর্মীরা যাতে এলাকায় যেতে পারেন সে জন্য প্রধানমন্ত্রী ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় স্বল্প সময়ের মধ্যে শেষ করে দেন। সে সময় তিনি নেতাদের এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আপনারা সবাই যার যার এলাকায় চলে যান। সরকার কী কী উন্নয়ন কাজ করেছে, তা তুলে ধরেন। জনগণ খুশি হয়ে ভোট দিলে আমরা ক্ষমতায় যাবো। না হলে নেই।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতাকর্মী এবার কোরবানির ঈদের দুই-তিনদিন আগেই ঢাকা ছেড়েছেন। ঈদের পরেও তারা কয়েক দিন এলাকায় থাকছেন। তারা ঈদের দিন ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ছাড়াও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী দিনেও এটি অব্যাহত থাকবে।

জানতে চাইলে পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সব সময়ই এলাকার জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। কুরবানির ঈদ উপলক্ষে তিনি আগেভাগেই এলাকায় এসেছেন। ঈদের আগে তিনি একাধিক স্থানে জনসংযোগ করেছেন। ঈদের দিন সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। আরও কয়েক দিন এলাকায় থেকে গণসংযোগ চালিয়ে যাবেন। সরকারের উন্নয়নের কথা বলে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করবেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী কুরবানির ঈদের আগেই এক দফা নিজ নির্বাচনি এলাকায় ঘুরে এসেছেন। ঈদের দিন ঢাকায় নামাজ আদায় ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর তিনি আবারও ছুটে গেছেন এলাকায়।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও দলের সংসদ সদস্য মুহম্মদ ফারুক খান ঈদের দিন ঢাকায় থাকলেও ঈদের আগে টানা চারদিন এলাকায় ছিলেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। জনগণের সমস্যার কথা শুনে তাৎক্ষণিক সমাধান দেন। সরকারের উন্নয়নের কথা বলেন। নৌকার জন্য ভোট চান।

সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের আরও প্রায় চার মাস বাকি থাকলেও ইতোমধ্যে নিজ নিজ এলাকায় প্রচারণা শুরু করেছেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নির্বাচনের আগে ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান এলে একে ঘিরে তারা বাড়তি প্রচারণার সুযোগ পান। ঈদুল আযহা আসন্ন সংসদ নির্বাচনের আগে শেষ ঈদ। তাই কুরবানির এই ঈদ উদযাপনের সুযোগে গণসংযোগের কাজ সারতে নিজ নিজ এলাকায় ফিরেছেন ক্ষমতাসীন দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। এমনকি, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের যারা আগে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতেন না, নিবার্চনকে সামনে রেখে তারাও নিজ নিজ এলাকায় ফিরেছেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে এলাকায় অবস্থান করে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নেতাকর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করার পাশাপাশি ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের ছুতোয় ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। সূত্রমতে, এবার চট্টগ্রামের অধিকাংশ সংসদ সদস্য নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপন করেছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, দলের সব এমপি, মনোনয়ন প্রত্যাশী ও কেন্দ্রীয় সব নেতাকে যার যার এলাকার ঈদ উদযাপন করতে বলা হয়েছে। নির্বাচনের আগে এটাই শেষ ঈদ। ফলে গণসংযোগ করতে এই ঈদ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে সবাইকে অবহিত করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, এবারের ঈদে এলাকার মানুষকে সময় দেওয়ার জন্যে একটি মৌখিক নির্দেশনা রয়েছে। নির্বাচনের আগে এ ধরনের বিশেষ উপলক্ষ আর পাওয়া যাবে না। তাই ঈদকে কেন্দ্র করে সবার এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে বলা হয়েছে। 

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ঈদে ব্যাপক গণসংযোগ চালালেও বিরোধী প্ক্ষ তেমন সুযোগ পায়নি। তবে অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে এলাকায় যোগাযোগ করেছেন। যারা শোডাউন করে নিজের উপস্থিতির জানান দিতে চেয়েছিলেন তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা ও ক্ষমতাসীনদের হুমকির কারণে পারেনি নি। নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকাতে যাচ্ছেন বিএনপিসহ বিরোধী জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ঈদুল আযহাতেও অনেক প্রার্থী নিজ এলাকাতে ঈদ করেছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঈদেও পরদিন তার নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও গিয়েছেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও নিজনিজ এলাকাতে গিয়েছেন। তবে অনেকেই বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে বাসা থেকেই বের হতে দেয়া হয়নি। স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দাকর মোশাররফ হোসেন তার নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা গিয়েছেন। ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এবার নিজনিজ এলাকাতেই ঈদ উদযাপন করেছেন। লোক সমাগম করে প্রচারণা চালাতে না পারলেও ঘরোয়াভাবে প্রচারণা চালিয়েছেন তারা। এলাকার খবরাখবর নিয়েছেন। সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য সব প্রার্থীই এবারের ঈদটাকে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ