ঢাকা, শনিবার 25 August 2018, ১০ ভাদ্র ১৪২৫, ১৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জৈন্তা-জাফলংয়ের পর্যটন শিল্পের উজ্জ্বল  সম্ভাবনা ॥ প্রয়োজন সঠিক উদ্যোগ

জৈন্তাপুর থেকে গোলম সরওয়ার বেলাল: ভারতের মেঘালয় সীমান্তের পাদদেশে অবস্থিত প্রাকৃতিক নৈস্বর্গিক খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের সবুজ সমারোহে বেস্টিত জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলা। পর্যটন শিল্পের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে এ দুই উপজেলা কে নিয়ে। প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সরকারী বেসরকারী পোষ্টকতার অভাবে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশে গড়ে উঠতে পারছেনা অবকাঠামোগত উন্নয়ন। ফলে দেশ বিদেশের ভ্রমন পিপাশু পর্যটকরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। প্রতি বছরের মত এবার ও পবিত্র ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে ব্যাপক পর্যটক আগমনের সম্ভবনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে সরকার পর্যটন শিল্প থেকে ব্যাপক রাজস্ব আয় করতে পারতো। সিলেট জেলার উত্তর পূর্বর সীমান্ত জনপদ জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলা এক সময় জৈন্তা রাজ্য নামে পরিচিত ছিল কালের বিবর্তনে জৈন্তা রাজ্য আজ প্রাকৃতিক শোভা মন্ডিত পর্যটন শিল্প হারিয়েছে যাচ্ছে। জৈন্তা-জাফলং দেশ বিদেশী পর্যটকদের কাছে অতি পরিচিত একটি নাম। মেঘালয়ের পাদদেশে অবারিত সবুজের সমারোহ ও খাসিয়া জৈন্তা গোয়াইনঘাট পাহাড় বেষ্টিত উপজেলা প্রকৃতিগতভাবে একেবেকে যাওয়া সড়ক উঁচু নিচু পাহাড়, পাহাড়ের বুক চিড়ে বয়ে আসা ঝর্ণা ধারা, সিলেটের নীল নদ নামে পরিচিত সারী নদী, সারি সারি চা বাগান সে সঙ্গে রয়েছে হরিপুর অঞ্চলে প্রাকৃতিক সম্পদ, সোয়াম ফরেষ্ট, বিছনাকান্দি মায়াবতি ঝর্ণা সব মিলিয়ে দুই উপজেলায় রয়েছে পর্যটকদের জন্য বিনোদনের আকর্ষণীয় স্থান। পর্যটন এলাকা নিয়ে জৈন্তা গোয়ইনঘাট এর গর্ব এই জনপদকে ঘিরে রয়েছে পর্যটন শিল্পের উজ্জ্বল সম্ভাবনা। উদ্যোগ আর পৃষ্ঠপোষকতা পেলে জৈন্তা গোয়াইনঘাট ও জাফলং এলাকায় গড়ে উঠতে পারে পর্যটন কেন্দ্র। জেলা শহর থেকে সহজেই যে কোন ধরনের গাড়ি ব্যবহার করে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সহজেই যাতায়াত করা যায়। মাঝে মধ্যে সড়ক পথে বিড়ম্বনা থাকলেও এক নজর পর্যটন এলাকাগুলোর দৃশ্য দেখতে আসা ভ্রমণ পিপাসুরা ক্ষনিকের বিড়াম্বনার কথা ভুলে যায়। এখানে সবুজ আলোর কালো সমারোহে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা আকাশ চুয়া পাহাড়ের নৈস্বর্গিক দৃশ্য ভ্রমন কারিদের করে আবেগ তাড়িত এছাড়া খাসিয়া পল্লীর আদিবাসিদের সংষ্কৃতি ভিন্ন মাত্রায় রয়েছে বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবন ধারা। জাফলং এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যুগ যুগ ধরে অনেক কবি সাহিত্যিক এবং দেশি বিদেশী পর্যটকদের করেছে মুগ্ধ করেছে। জৈন্তা জাফলং রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস, বালু পাথর যাকে কেন্দ্র করে দেশে গড়ে উঠেছে প্রচুর শিল্প প্রতিষ্ঠান। এসব কারণে জৈন্তা জাফলং ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসিম। জৈন্তায় রয়েছে প্রাচীন জৈন্তা রাজ্যের ঐতিহাসিক নিদর্শন এসব দেখে পর্যটকরা সহজেই বুঝে নিতে পারে জৈন্তা রজ্যের অতীত ইতিহাস। ভারতের ডাউকি থেকে নেমে আসা পাথর সহ বয়ে চলা নূড়িগুলো পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলে। ডাউকি নদী জাফলং কে বিভক্ত করেছে দুইভাবে একদ্বারে রয়েছে জাফলং চা বাগান এবং আদিবাসি খাসিয়াদের সংস্কৃৃতিক একাডেমি। এখান থেকে আদিবাসি খাসিয়াদের প্রসঙ্গে ব্যপক জ্ঞান লাভ করা সম্ভব। জৈন্তা জাফলং এর পর্যটন শিল্প ছাড়াও এ এলাকায় বসবাস কারি নৃতাত্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান পর্যটকদের দারুন ভাবে আকৃষ্ট করে তাদের সংষ্কৃতি। এসব দেখে পর্যটকদের জীবন যেন প্রবাবিত হয় ভিন্ন এক নতুন ধারায়। সম্প্রতি সময়ে জাফলং কে পর্যটন শিল্প হিসাবে গড়ে তুলতে সরকারী বেসরকারীভাবে গড়ে তুলা হয়েছে ভ্রমণ পিপাসুদের নিরাপদ আবাসন স্থল তবে পর্যটকদের তুলনায় খুবই সীমিত উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নেয়া হলে জৈন্তা জাফলং কে বিশ্বের মানচিত্রে পর্যটন নগরী হিসেবে সহজেই স্থান করে নেয়া সম্ভব। ফলে এলাকার মানুষ যেমন অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ফিরে পাবে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে সাংষ্কৃতিক ঐতিহ্্য বিকশিত হবে। 

বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংষ্কৃতিক অবস্থা বিবেচনা করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে পর্যটনের অবকাঠামোগত সংস্কার আবাসন, পরিবহন, খাদ্য, বিনদোন, ইত্যাদি‘তে বিনিয়োগ বাড়তে হবে। এলাকার স্থানীয় জনগোষ্ঠী পর্যটনের প্রান শক্তি ধারক ও বাহক। পর্যটকরা স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে নানা ধরনের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা বহন করে নিয়ে যান। বাণিজ্যকরণের সরকারী বে-সরকারীভাবে পরিচালিত পর্যটকদের আবাসন, খাদ্য, পানীয়, কেনাকাটা, বিনোদন ইত্যাদি সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। এতে স্থানীয় নাগরিকরা অর্থনীতি‘র নতুন মাত্রা দিন দিন বিকশিত হচ্ছে। আগামীতে এই চিত্র আরও বিকশিত হলে পর্যটন ও পুরাকৃতি সমৃদ্ধ এই জনপদ একটি রূপকল্প হিসেবে বিশ্বের কাছে উপাস্থাপন করা সম্ভব বলে অনেকেই মনে করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ