ঢাকা, শনিবার 25 August 2018, ১০ ভাদ্র ১৪২৫, ১৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রাম মহানগরীসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদুল আযহা পালিত

চট্টগ্রাম ব্যুরো : ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, যথাযোগ্য মর্যাদা, বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ত্যাগের মহিমায় গত বুধবার চট্টগ্রাম মহানগরীসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদুল আযহা পালিত হয়েছে। 

বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে ঈদুল আযহার প্রথম ও প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজের পর খুতবায় দেশ এবং দেশের মানুষের কল্যাণ কামনা করা হয়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় সকাল পৌনে ৮টায় জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে ঈদুল আযহার প্রধান জামাতে ইমামতি করেন জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের খতিব সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল কাদেরী।

 ঈদের জামাতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ব্যবসায়ী-শিল্পপতিসহ নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মুসল্লীদের সমাগম ঘটে। এখানে ঈদ জামায়াতে নামাজ আদায় করেন বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান, সাবেক মেয়র ও মন্ত্রী মীর মো. নাছির উদ্দিন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, নগর বিএনপির সভাপতি ডা.শাহাদাত হোসেন ও সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। ঈদ জামাতে শেষে রাজনৈতিক দলের নেতারা ভেদাভেদ ভুলে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করেন। জানান ঈদের শুভেচ্ছা।

একই ময়দানে সকাল পৌনে ৯টায় ঈদের দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুসল্লীরা। এছাড়া নগরীতে এবার সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ১৬৮টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটির উদ্যোগে নগরীর ৯৩টি স্থানে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 ঈদের নামায শেষে ধর্মপ্রান মুসলমান নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দ্যেশে গরু,ছাগল কোরবানী দেন। এদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন চট্টগ্রামে কুরবানির পশু জবাইয়ের জন্য ৩৭০টি স্থান নির্ধারণ করে দিলেও তাতে সাড়া দেয়নি নগরবাসী। তারা নিজেদের পছন্দমত জায়গায় পশু কুরবানি দেন। নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাসিন্দাদের অধিকাংশকে বাড়ির আঙ্গিনায়, ফ্ল্যাট বাড়ির গাড়ি পার্কিংয়ে এবং অলি-গলিতে পশু জবাই দিয়ে চামড়া ছাড়াতে এবং মাংস কাটতে দেখা যায়। সিটি করপোরেশেনের নির্ধারিত জায়গায় পশু জবাই না করার কারণ জানতে চাইলে লোকজন জানায়, সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানটি একটু দূরে। সেখানে গরু নিয়ে যাওয়া এবং কুরবানির পর মাংস নিয়ে আসতে কষ্ট হবে। তাই বাড়ির কাছেই কুরবানি দিয়েছি। 

ঈদুল আযহা উপলক্ষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরীতে নিরাপওা ব্যবস্থা জোরদার করে।চট্টগ্রাম মহানগরীতে পোশাক পরিহিত পুলিশের সাথে সাদা পোশাক পরিহিত গোয়েন্দা পুলিশসহ তিন হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়। যেসকল নগরবাসী ঈদ উপলক্ষে শহর ছেড়েছেন তাদের বাসাবাড়ির নিরাপত্তার জন্য বিশেষ মোবাইল টিম মোতায়েন ছিল। নগরীর প্রধান ঈদ জামায়াত জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে ঈদের জামায়াতে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হয়। কুরবানির পশুর চামড়া যাতে অবৈধভাবে পাচার হতে না পারে তার জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক ছিল।

ঈদ উপলক্ষে নগর ভবনসহ নগরীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভবনে আলোকসজ্জা করা হয়। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, এতিমখানা এবং জেলা প্রশাসনের সমাজসেবা অধিদফতর পরিচালিত চট্টগ্রামের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ