ঢাকা, শনিবার 25 August 2018, ১০ ভাদ্র ১৪২৫, ১৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সৈয়দপুরে জাতীয় পার্টি দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৮

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা : নীলফামারী -৪ আসনে থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীর পোস্টার ছিড়ে ফেলার অপবাদ দিয়ে এ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব শওকত চৌধুরীর সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২১ আগষ্ট সন্ধ্যা রাতে মনোনয়ন প্রত্যাশী এরশাদ ভাগ্নের পরামর্শ দাতা সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক নামের এক ব্যক্তি শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার আদানী মোড়ে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায় এই অভিযোগ করা হয়। এসময় আহত হয় ৮ জন। আহতরা হলেন, গোলাহাট ১ নং ওয়ার্ড যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল, রাজু আহম্মেদ, ওবায়দুল ইসলাম, খালেকুজ্জামান, আশিক কে স্থানীয় ১০০ শয্যা হাসপাতাল ও আদনান, দীলিপ ও রানু কে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থান রয়েছেন।

সাংসদ আলহাজ্ব শওকত চৌধুরী জানান, ২৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পল্লী বন্ধু এরশাদ সৈয়দপুর শহরের ৫ মাথা মোড় এলাকায় এক পথসভা করার ঘোষণা দেন। এ নিয়ে শহরে শুরু হয় সাজসাজ রব। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের আগমনে পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে দেওয়া হয়। এমনিভাবে মনোনয়ন প্রত্যাশী এরশাদ ভাগ্না আদেলুর রহমান আদেলেরও পোস্টার শোভা পায় শহরজুড়ে। কিন্তু জাতীয় পার্টির কথিত সর্মথক সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক নিজ স্বার্থ হাসিলের উদ্দ্যেশে জাতীয় পার্টিতে বিভক্ত করে, অশান্ত করার নিল নকশা তৈরি করেন। ২১ আগস্ট তার নিজ কারখানার লোকজনদের দ্বারা আদিলুর রহমান আদেলের পোস্টার ছিড়ে ফেলে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপান তিনি। ওই দিন সন্ধ্যা রাতে শওকত চৌধুরীর লোকজন পল্লী বন্ধুর আগমনে মোটরসাইকেল মিছিল বের করে আদানী মোড় এলাকায় যাওয়ার সাথে সাথে তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়া হয়। এসময় শুরু হয় সংঘর্ষ। ওই সংঘর্ষে আহত হয় ৮ জন। তিনি বলেন, সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক ওই সংঘর্ষে লিপ্ত থেকেও ক্ষান্ত হননি। ২৩ আগস্ট পল্লী বন্ধুর নির্দেশে পথসভা করার আয়োজন করা হলেও পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ সাহেবকে ভুল বুঝিয়ে অন্য পথ দিয়ে রংপুর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর নিয়ে যাওয়া হয়। এতে পথসভায় অপেক্ষমান প্রায় ৪০ হাজার জাতীয় পার্টির সমর্থকদের নিরাশ করা হয়। ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করে সমর্থকরা। নিজ স্বার্থ হাসিলের উদ্দ্যেশে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পল্লী বন্ধু এরশাদ সাহেবের ভাগ্নার সর্মথকদের সাথে ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি করে এ পার্টিকে বিভক্ত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। এতে করে এ আসনের সাংসদ পদটিও অন্যের হাতে চলে যাওয়ার আশংকা করছেন তিনি। ২১ আগস্ট রাতে সাংসদ আলহাজ্ব শওকত চৌধুরীর সমর্থকদের মারধর ও গাড়িভাংচুর নিয়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে শহর জুড়ে। যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে যাওয়া আশংকা করছেন অনেকেই।

জাতীয় পার্টির জেলা সহ-সভাপতি সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিকের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি অভিযোগ করেন, আদেলের ব্যানার ফেস্টুন লাগানোর সময় শওকত চৌধুরীর লোকজন রাজুর উপর হামলা চালায় এবং তাকে মারডাং করে। ব্যানার ফেস্টুন এবং ভ্যান চালককে আটক করে নিয়ে শওকতের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ব্যানার ফেস্টুন আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এর পর আদানী মোড়ে আমার অফিসে চৌধুরীর লোকজন হামলা চালিয়ে আমাদের লোকজনকে মারডাং করে। এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি পরিদর্শন করছেন। শহরে ব্যানার ফেস্টুন লাগাইতে তার লোকজন বাঁধা দিচ্ছে। 

মনোনয়ন প্রত্যাশী এরশাদ ভাগ্না আদেলুর রহমান আদেল অভিযোগ করে বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দিবে সে ভোট করবে। জনগনের কাছে ভোট চাইতে পারি। আমরা কোথাও বর্তমান এমপির বিরুদ্ধে কোন অপপ্রচার করছি না। আমরা দলের স্বার্থে এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে এ আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে নিতে কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমান সংসদ সদস্য শওকত চৌধুরী নিদের্শে তার লোকজন আমার ছোট ভাইয়ের উপর হামলা চালায়। এবং সে গুরুত্বর আহত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ