ঢাকা, শনিবার 25 August 2018, ১০ ভাদ্র ১৪২৫, ১৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সরিষাবাড়ীতে আউসের বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে আনন্দের হাসি

রাশেদুল ইসলাম (জামালপুর) থেকে: জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ীতে আউশ ধানের ফলন ভাল হয়েছে। বৃষ্টিপাত, পানি সেচ, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ও কৃষি অফিসের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের সঠিক নির্দেশনাএবং তত্বাবধানের ফলে আউশ ধানের চাষ লক্ষ মাত্রার চেয়ে এবার অনেক বেড়েছে। অসময়ে বাড়তি আউশ ধানের ভাল  ফসল  পেয়ে কৃষক  -কৃষানী  খুশি। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়,চলতি মৌশুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১০৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ করা হয়েছে। গত বছর কৃষি অফিসের তত্বাবধানে কৃষকদের বুঝিয়ে স্বল্প  পরিমানে আউশ আবাদে উদ্ভুদ্ধ করা হয়েছিল। চলতি বছর আউশের আবাদ আশানুরুপ হয়েছে । গত সোমবার উপজেলা কৃষি আফিসার আব্দুল্লা আল মামুন ৪ নং আওনা ইউনিয়নের  দৌলতপুর ব্লকে আউশ ধানের নমুনা শস্য কর্তন প্রত্যক্ষ করতে গিয়ে বলেন, গত বছর আউশ ধানের ভাল ফলন দেখে এবার আউশ ধান চাষে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। বীজ উৎপাদনকারী চাষিদের নিকট ধানের বীজ সংগ্রহ  করে অনেক কৃষক আউশ ধান ব্রি-ধান-২৬, ৪৮ নেরীকা মিউ -১০ চাষ করেন। সরোজমিনে গিয়ে দেখাযায়,৪ নং আওনা ইউনিয়নের দৌলতপুর ব্লকের আউশ ধানের আবাদ সবচেয়ে ভাল হয়েছে। দৌলতপুর গ্রামের কৃষক মন্টু, ইদ্রিস, কাইয়ুম, মোতালেব, মোয়াজ্জেম ও জয়নাল-জানান, পানির কম ব্যাবহার করে কম খরচে স্বল্প সময়ে বোরো ধানের মতই ভাল ফলন হয় বলে আমরা আউশ ধান আবাদ করেছি। কাবারিয়া গ্রামের কৃষানী নারগিছ বেগম  জানান,বাড়তি ফসল আউশ ধান আবাদে যেমন স্বল্প সময়ে, কম খরচে ঘরে ধান আসে তেমনি গো-খাদ্যের সংকট থেকেও রক্ষা পাওয়া যায় কাজেই আগামীতে আমরা আরো বেশি জমিতে আউশ ধানের আবাদ করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল কাদের , রেজুয়ান ও  আঞ্জুমনোয়ারা বেগম  জানান,দুই ফসলি জমিতে কৃষকগন তিনটি  ফসল উৎপন্ন করার পরামর্শ ও সুযোগে পেয়ে এখন অনেকেই আউশ ধান আবাদের প্রতি আকৃষ্ট  হচ্ছে। এ বছর আউশ আবাদে প্রতি  হেক্টর জমিতে ৪.৫ মেঃটন ধানের ফলন হয়েছে। তারা আরও জানান, আউশ ধানে রোগবালাইও কম, তেমন কীটনাষক ব্যবহার করতে হয়না। আউশ দানের ফলন ভাল হওয়ায় কৃষকদের মাঝে উৎসাহ বেড়েছে। আশা করা যাচ্ছে আগামিতে কৃষকগন আরও বেশি আউশ ধানের আবাাদে ব্যাপক মনোযোগী হয়ে উঠছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ