ঢাকা, শনিবার 25 August 2018, ১০ ভাদ্র ১৪২৫, ১৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নানা সংকটে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা (যশোর): যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার সংকটে চিকিৎসা সেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে। হাসপাতালে গাইনী বিশেষজ্ঞ সংকটে গর্ভবতী মায়েদের সেবা (এএনসি কর্ণারে) দিচ্ছেন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসাররা (এসএসিএমও)। চিকিৎসা সেবায় অনভিজ্ঞ এসকল এসএসিএমও দিয়ে চিকিৎসা দেয়ায় জটিল গর্ভবতী রোগীদের যে কোন ধরণের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা করছেন রোগীর স্বজনেরা। 

অন্যদিকে হাসপাতালের আলট্রাসোনোগ্রাফি মেশিনটি ১০ জুলাই চালুর কয়েকদিনের মধ্যে আবারো বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে গর্ভবতী রোগীরা পড়েছেন নানা জটিলতায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিনা বেগম বলছেন গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকটের কারণেই এ ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। তিনি বলেন বারবার চিকিৎসক চেয়েও না পেয়ে সম্প্রতি সিজারিয়ান রোগীদের জন্য সিভিল সার্জনকে বলে একজন গাইনী ডাক্তারকে নিয়ে আসা হয়েছে কয়েকদিনের জন্য। তিনি হাসপাতালে  গাইনী চিকিৎসকসহ ডাক্তার দেয়ার জন্য উর্দ্ধতন মহলের কাছে এক প্রকার আকুতি জানিয়েছেন। আলট্রাসোনোগ্রাফি মেশিনের বিষয়ে ডাক্তার সেলিনা বলেন এ বিষয়টি ডা. নাহিদ সিরাজ ভাল বলতে পারবেন। তিনিই মেশিনটি চালাতেন। ডা. নাহিদ সিরাজ বলেন মেশিনটি ২০১১ সালে দেয়া। দির্ঘদিন ব্যবহার না করার কারণে মেশিনটি বারবার বিকল হয়ে পড়ছে। 

গাইনী বিশেষজ্ঞসহ চিকিৎসক সংকটের কারণে ২০০৪ সাল থেকে প্রসূতি ও মাতৃস্বাস্থ্য সেবায় পরপর ১০ বার দেশের সেরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরস্কার পাওয়া হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে রোগীর চাপের কারণে হাপতালটিতে পোস্টিং পেয়েও চিকিৎসকরা আসতে চাননা বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

হাসপাতালের প্রসূতি সেবা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে গত জুলাই মাসে হাসপাতালে গর্ভবতী ডেলিভারি রোগী ভর্তি ছিলেন ৩৬৯ জন। এদের মধ্যে ৭৬ জনের সিজারিয়ান ডেলিভারি এবং ১৪৫ জনের স্বাভাবিক ডেলিভারি হয়েছে। জটিল গর্ভবতী ভর্তি ছিলেন ৭৭ জন। গর্ভ পরবর্তী জটিলতাক্রান্ত রোগী ছিলেন ২৮ জন। জুলাই মাসে প্রসব পরবর্তী জটিলতাক্রান্ত ১৯৬ নারী এবং ২২৪ জন শিশু হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রসব পরবর্তী মোট চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন ৮৬১ রোগী।

একদিকে চিকিৎসক সংকট অন্যদিকে ডাক্তাররা সঠিক সময়ে আউটডোরে চিকিৎসা না দেয়ায় হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রম এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে।  রোগীদের অভিযোগ সকাল আটটা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত রোগী দেখার কথা থাকলেও চিকিৎসকরা ১০টার আগে কেউই আউটডোরে রোগী দেখেন না। আবার ১০টার পরে চেম্বারে বসলেও একটার পরে আর রোগী না দেখে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টিটিভদের সাথে সময় কাটান। তবে ব্যতিক্রম রয়েছেন ডা. রফিকুজ্জামান, ডা, সুরাইয়া পারভীন, ডা. নাহিদ সিরাজ ও ডা. সুব্রত কুমার বাগচী। তারা অনেক সময়ে অফিস টাইমের পরও রোগীদের সেবা দেন বলে কয়েকজন রোগী জানিয়েছেন।

এসব বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সেলিনা বেগম বলেছেন চিকিৎসক সংকটের কারনে এএনসি কর্ণারে এসএসিএমও দিয়ে গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। মাঝে মধ্যে সেখানে ডা. সুরাইয়া পারভীনকে বসানো হচ্ছে। আবার মাঝে-মধ্যে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সুব্রত কুমার বাগচী ১৫ দিনের ছুটিতে রয়েছেন। ফলে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য সিভিল সার্জনকে বলে ডা. ফারিয়াকে আপতকালীন চিকিৎসক হিসেবে নিয়ে এসে সিজার করানো হচ্ছে। ডাক্তার ইউনূসের বিষয়ে তিনি বলেন বারবার মিটিং করে তাদের সঠিক সময়ে রোগী দেখতে বললেও তারা মানছেন না। ডা. ইয়াসির আরাফাতের বিষয়ে তিনি বলেন সেখানে তো রোগী কম থাকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ