ঢাকা, শনিবার 25 August 2018, ১০ ভাদ্র ১৪২৫, ১৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কেসিসির কসাইখানা দূরে হওয়ায় যত্রতত্র পশু জবাই

খুলনা অফিস: খুলনা মহানগরীতে যত্রতত্র পশু জবাই ও গোশত বিক্রি চলছে। পশু জবাইয়ের তদারকিও যথাযথ হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট স্থানে গোশত বিক্রি ও পশু জবাই করা হচ্ছে না। এতে দিনের পর দিন পরিবেশ বিনষ্ট হলেও কর্তৃপক্ষ অনেকটা নির্বিকার। নগরীতে ভেটেরিনারি সার্জন ও স্যানেটারি ইন্সপেক্টর থাকলেও তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) সূত্রে জানা যায়, নগরীতে ১৭৫টি বৈধ মাংস বিক্রির দোকান রয়েছে। এসব মাংসের দোকানগুলো সকল আইন মেনেই গোশত বিক্রি করে থাকে। তবে, বিশেষ দিবসসহ বিভিন্ন উপলক্ষে ৫০টি দোকানে অবৈধভাবে পশুর গোশত বিক্রি হয়ে থাকে। নগরীতে অবৈধ গোশত বিক্রির দোকান শতাধিক। এসব অবৈধ দোকানের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যে তারা অভিযান পরিচালনা করে থাকেন বলে জানান। কেসিসির ভেটেরিনারি দপ্তর নিয়মিত নজরদারী করলে এসব অবৈধ গোশত দোকান বন্ধ হয়ে যেত বলে নগরবাসী মনে করেন।

নগরীতে শতাধিক স্থানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ও ফুটপাতে গরু-ছাগলের গোশত বিক্রি হয়ে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-নগরীর সামসুর রহমান রোড মাতৃসদন হাসপাতালের বাউন্ডারি ওয়ালের সাথে কর্ণারে একটি মাংস বিক্রির দোকান রয়েছে। এখানে বসেই চলে ছাগল জবাই ও গোশত বিক্রির কাজ। ব্যস্ততম এ সড়কের মোড়ে গোশত বিক্রির বিষয়টি পথচারিদের খুবই বিড়ম্বনায় ফেলে। নগরীর কাস্টম গেটে, খালিশপুর চিত্রালী বাজারে, পিপলস গোল চত্বরে, মজিদ সরণি মোল্যা বাড়ির মোড়, রেলিগেট মোড়, নিরালা মোড়, নিরালা শিশু পল্লীর সামনে প্রতি শুক্রবার গরুর গোশত বিক্রি করা হয়। দৌলতপুর চুনুর বটতলা মোড় ফুটপাতে গরুর গোশত বিক্রি করা হয়। নগরীর সাহেবের কবরখানার মোড়ে ছাগলের মাংসের দোকানে প্রকাশ্যে ছাগল জবাই করার দৃশ্য দেখা যায়। এমন কি সাপ্তাহিক গোশত বিহীন দিবসে (সোমবার) নগরীর অনেক দোকানে গরু-ছাগলের গোশত বিক্রি করতে দেখা যায়। 

অভিযোগ রয়েছে, মহেশ্বরপাশা বাজারে যারা গরু-ছাগলের গোশত বিক্রি করে থাকে, তারা কেসিসির নির্ধারিত কসাইখানায় না গিয়েই অন্য কোথাও গরু-ছাগল জবাই দিয়ে থাকে। 

এদের মধ্যেই একজন গোশত বিক্রেতা রেলিগেটে অবৈধভাবে গোশত বিক্রি করে থাকে। ফুলবাড়িগেট বাজারের মাংস ব্যবসায়ীদের একই অবস্থা। কেসিসির কসাইখানা দূরে হওয়ায় তারা ওই কসাইখানায় না গিয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় গরু-ছাগল জবাই দিয়ে থাকে।

অভিযোগ রয়েছে, ভেটেরিনারি সার্জন ও স্যানেটারি ইন্সপেক্টরদের দায়িত্বহীনতার কারণেই নগরীতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গোশত বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। 

এ ব্যাপারে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সিনিয়র ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রেজাউল করিম জানান, তার অধীনে থাকা স্যানেটারি ইন্সপেক্টরদের কঠোরভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে। শুক্রবারে নগরীর অননুমোদিত স্থানে গরু-ছাগল জবাইয়ের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, এসব পশু জবাই করা হয় অধিকাংশ বিয়েসহ সামাজিক অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে। সামাজিক অবস্থাকে বিবেচনা করে অস্থায়ীভাবে এসব গরু-ছাগল জবাই বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে, কোনো কোনো সময় এসব অনুষ্ঠান আয়োজকদের পশু জবাইখানায় গরু-ছাগল জবাই না দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। 

এছাড়া কেসিসির দু’টি আধুনিক কসাইখানা রয়েছে। গল্লামারি ও খালিশপুর নিউমার্কেটে এ দু’টি কসাইখানা রয়েছে। এ কসাইখানার বাইরে গরু-ছাগল জবাই দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। 

তারপরও কিছু গোশত ব্যবসায়ী ও কসাইরা গোপনে কসাইখানার বাইরে গরু-ছাগল জবাই দিয়ে থাকে। অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় বলে তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ