ঢাকা, শনিবার 25 August 2018, ১০ ভাদ্র ১৪২৫, ১৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নালিতাবাড়ীতে চাল সংগ্রহে অনিয়ম

আল-হেলাল, নালিতাবাড়ী, (শেরপুর) সংবাদদাতা: দেশের শেষ সীমান্তবর্তী শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়  সরকারি চাল সংগ্রহে চলছে অনিয়ম। খাদ্য বিভাগের কিছু কর্মকর্তা আর মিল মালিকদের একটি সিন্ডিকেট প্রতি মৌসুমে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে এ দুর্নীতি উপজেলা খাদ্য বিভাগে চলে এলেও, তা রোধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এমন অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত কয়েকজন চাল কল মালিকের। উপজেলার রানীগাঁও এলাকার জান্নাত চালকলের বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের ঋণ খেলাপি মামলা হয়েছে। মিল বন্ধ রেখে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে কলা বাগান করা হয়েছে। অথচ চলতি মৌসুমে এ মিলের নামে ৪৪.২৮০ টান চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। মিলের মালিক যথারীতি বরাদ্দ পাওয়া চার সরবরাহ দেখিয়েছেন। একই এলাকার লিয়াকত চাল কল। বিদ্যুৎ সংযোগই নেই। এ মিলটিকে সাপ্তাহিক ৩০ টন উৎপাদন ক্ষমতা দেখিয়ে চাল সরবরাহের চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছে এবং ১৬.৫৯০ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। একই অবস্থা পৌরশহরের গড়কান্দা এলাকায় মেসার্স মুমু চালকল, মেসার্স শাপলা চালকল, শাহপরান চালকল, মনির চালকল, হাবিব চালকল, রানীগাঁও এলাকায় মেসার্স হাসিনা মজিদ চালকল, সিটপাড়া এলাকায় মেসার্স চৌধুরী মিনি অটো চালকল, হাবিব চালকল, শাহিন চালকল, শিমুতলা এলাকায় মেসার্স নুর চালকল, আইডিয়াল চালকল, আড়াইআনী বাজার এলাকায় মোসার্স জুয়েল চালকল, সাহা এ্যন্ড মল্লিক চালকল, মিতালী চালকল, কালীনগর এলাকায় মেসার্স জায়েদা ও নয়াবিল এলাকায় মেসার্স মা চালকল, রাজনগর এলাকায় মেসার্স আতিক অ্যান্ড আশিক চালকল, ভাই ভাই চালকল, নন্নী বাজার এলাকায় মেসার্স রুবেল চালকল। চুক্তিবদ্ধ ৭৫টি মিলের মধ্যে ২২টি মিল একদম বন্ধ। এসব মিলের বিদ্যুৎ বিলও নেয়া হচ্ছে মিনিমাম চার্জ হিসেবে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকার বিদ্যুৎ বিল করা হয়। মিল মালিকরাও মিল বন্ধ থাকার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেন। 

পৌরশহর এলাকার শাহ পরান চালকলের মালিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কয়েক বছর ধরে আমার মিল বন্ধ আছে। আগামী বছর থেকে মিল চালু করার ইচ্ছা আছে। এ বছর আমি অন্য মিল থেকে চাল কিনে গুদামে দিচ্ছি। 

নন্নীর রুবেল চালকলের মালিক আব্দুর রফিক বলেন, আমি এ বছর উৎপাদনে যাইনি। বাজারের একজন মিল মালিক আমাকে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে। সব কিছু সেই দেখতেছে। আমি আর কিছুই জানিনা। আবার যে কয়জন মিল মালিক নিজের প্রতিষ্ঠানে চাল উৎপাদন করে গুদামে নিয়ে যাচ্ছেন তারাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে। তাদের অভিযোগ বস্তাপ্রতি ৩০ থকে ৫০ টাকা পর্যন্ত সেলামি না দিলে তাদের চাল নেয়া হয় না। অবশ্য খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তা অস্বীকার করেন। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে নালিতাবাড়ী উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি চাল ৩৮ টাকা দরে ৪ হাজার ২৫২ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চুক্তিবদ্ধ মিলের সংখ্যা ৭৫টি। ২ আগষ্ট পর্যন্ত এ অভিযান চলবে। অভিযোগ যাচাইয়ে স্থানীয় মিল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদের সঙ্গে কথা বললে তিনি দৈনিক সংগ্রামকে জানান, মিলগুলোকে চুক্তিবদ্ধ করার জন্য উপজেলায় আলাদা কমিটি আছে। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই। 

তিনি বলেন, যখন চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছে তখন মিল সচল ছিলো। এখন চাল দেয়া শেষ হয়েছে। তাই হয়তো মিলও বন্ধ রয়েছে। তিনি দূর্ণীতি অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করেন। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আঃ কাদের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগটি অস্বীকার করেন। 

ধান চাল সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ও ইউএনও মোঃ আরিফুর রহমান বলেন, আমি অভিযোগটি শুনেই খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসিএলএসডি) বিষয়টি তদন্ত করার দায়িত্ব দিয়েছি। তদন্তের প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ