ঢাকা, রোববার 23 September 2018, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ১২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরস্পরবিরোধী অবস্থানে আ. লীগ ও বিএনপি

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের পরস্পরবিরোধী অবস্থান দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকমহল।

বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি দাবি করে আসছে- নির্বাচনে সাধারণ মানুষের মতামত প্রতিফলন ঘটতে হবে। আর নির্বাচনে তারা ভোটই দিতে না পারে, তাহলে সেটা ভোট হতে পারে না।

বিগত ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বিএনপি নেতারা বলছেন, এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অর্থবহ হয় না, প্রহসনে পরিণত হয়। এ জন্য বিএনপি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি জানিয়ে আসছে।

বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে কখনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। তাই আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমস্যাগুলো সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেছেন, বিএনপিকে বাদ দিয়ে কেউ নির্বাচন করতে চায় না। সরকার চায় সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন কিন্তু বিএনপি নিজেরাই নিজেদের যদি বাদ দেয় তাহলে আমাদের কী করার আছে?

তবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির বলেছেন, ‘শূন্যমাঠে সরকারকে আর খেলতে দেওয়া হবে না। গত ৫ জানুয়ারির মতো আবারো একতরফা নির্বাচন হলে জনগণ প্রতিহত করবে। বেআইনি কাজ করে যাবেন একের পর এক, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেবেন, আর জনগণ বসে থাকবে, জনগণ আঙুল চুষবে- এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। আওয়ামী লীগের নেতাদের চিরকাল ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন, এবার দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে।"

রিজভী দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, “নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। বেগম জিয়ার নেতৃত্বেই বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।”

তোফায়েল আহমেদ

ওদিকে, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ গতকাল তার নিজ নির্বাচনী এলাকা ভোলায় আওয়ামী লীগের জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় স্পষ্ট করে বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর আসবে না। সংবিধান অনুসারে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অধিনেই বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে হবে। যদি না আসে তবে বিএনপি নামক দলটির অস্তিত্ব থাকবে না।

কমিশনের ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র সঙ্গে সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই।

বদিউল আলম মজুমদার

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের পরস্পরবিরোধী অবস্থান প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক- এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় যেখানে প্রশাসন দারুণভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে, সেখানেও একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। আলোচনার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পন্থায় এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।

এদিকে, সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন গতকাল চট্টগ্রাম নগরীতে নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মী ও আগত অতিথিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়কালে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচন সবদলের অংশগ্রহণ থাকবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে।-পার্স টুডে

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ