ঢাকা, শুক্রবার 21 September 2018, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা সংকট: ''দাতাগোষ্ঠি ও সরকার সমূহ ব্যর্থ হয়েছে''

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের অসাধারণ মানবাতার পরিচয় দানের এক বছর অতিক্রম হলেও রোহিঙ্গারা এখনো নিজেদের ভাগ্য নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে বলে জানিয়েছে ‘ডক্টর উইদাউট বর্ডার’।

তারা বলছেন, মিয়ানমার সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠী ও সরকারগুলো রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন বন্ধ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে প্রয়োজনীয় নেতৃত্ব প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

পাশাপাশি, জাতিসংঘ নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বাংলাদেশে প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ৩১.৭ শতাংশ অর্থায়ন করতে সক্ষম হয়েছে।

ডক্টর উইদাউট বর্ডার বলছে, মিয়ানমার কর্তৃক রোহিঙ্গারা বাস্তুচ্যুত ও শরণার্থী সঙ্কট সৃষ্টি করা হলেও আশ্রয়দাতা রাষ্ট্রগুলো তাদের বিরুদ্ধে কোনো রকম আইনী ব্যবস্থার দিকে যেতে আগ্রহী নয়।

মিয়ানমার সরকারি বাহিনী দ্বারা অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়ে গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে সাত লাখেরও বেশী রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশ আশ্রয় নিয়ছে।

বাংলাদেশের দক্ষিণাংশের জেলা কক্সবাজারের বিভিন্ন অঞ্চলে আশ্রয় নেয়া এসব রোহিঙ্গারা অবর্ণীয় দুঃখ দুর্দশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক এই প্রতিষ্ঠানটি।

গত ১২ মাসে ডক্টর উইদাউট বর্ডার ১৯টি স্বাস্থসেবা বা ভ্রাম্যমান ক্লিনিকের মাধ্যমে ছয় লাখ ৫৬ হাজার ২০০ জনকে সেবা দেয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মোট রোহিঙ্গার দুই-তৃতীয়াংশ।

তারা জানায়, প্রথমে তারা শুধু আঘাত প্রাপ্তদের স্বাস্থ্য সেবা দিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে সময়ের সাথে সাথে ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদেরও সেবা দেয়া হয়।

ডক্টর উইদাউট বর্ডারের বাংলাদেশ মিশন প্রধান পাভলো কলোভস বলেন, আমরা ক্যাম্পগুলোতে সব চেয়ে বেশী দেখতে পাচ্ছি ডায়রিয়ার মতো বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ, যা কাম্য নয়।

সংস্খাটির দেয়া তথ্যানুসারে, জনসংখ্যার সবচেয়ে মৌলিক চাহিদার সাথে মিলিত অবকাঠামো এখানে এখনো স্থির হয়নি, ফলে তাদের (রোহিঙ্গা) কল্যাণ হচ্ছে না।

‘আমরা এমন অবস্থায় রয়েছি যেখানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঠিক পরিস্থিতি নির্ণয় করাও কঠিন’ উল্লেখ করে কলোভস বলেন, রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে আইনী স্বীকৃতি দিতে অথবা তাদের কোন আইনগত বৈধতা প্রদান না করায় তারা দুর্বলতার অবস্থানে রয়েছে।

সংষ্থাটি বলছে, রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে অর্থায়ন মাত্র ১৬.৯ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে, ফলে তাদের সবার সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে স্বাস্থ্যসেবা পায়নি ফলে, তাদেরকে প্রয়োজিনীয় টিকাও দেয়া হয়নি। যা রোগ প্রতিরোধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ডক্টর উইদাউট বর্ডার তাদের বিভিন্ন ভ্রাম্যমান ক্লিনিকও সাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রয়োজনীয় টিকা দানের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সেবাই কাজ করে যাচ্ছে।

সূত্র: ইউএনবি নিউজ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ