ঢাকা, রোববার 26 August 2018, ১১ ভাদ্র ১৪২৫, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সৌর আলোয় রাতের আঁধার  জয় করছে যমুনা চরবাসী

 

এম,এ,জাফর লিটন,শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : সৌর বিদ্যুতের আলোয় রাতের আঁধার জয় করে বদলে যেতে শুরু করেছে যমুনা চরের মানুষের জনজীবন। অথচ এক সময় সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথে গোটা যমুনা চরে নেমে আসতো ঘুটঘুটে অন্ধকার। পিনপতন নীরবতায় পুরো চরজুড়ে কোন কলোহল দেখা যেতনা। অন্ধকার যেখানে ছিল চরবাসীর নিত্যসঙ্গী। যুগ যুগ ধরে যমুনাচরবাসী যেখানে হ্যারিকেন আর কূপির আলোয় রাত কাটাতো। সেই যমুনাচরের ঘরে ঘরে এখন শোভা পাচ্ছে সৌর বিদ্যুতের সোলার। যমুনা চরের শাহজাদপুর উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জীবনযাত্রার ভাগ্য বদলে দিয়েছে সৌরবিদ্যুতের আলো। উন্নয়নবঞ্চিত যমুনাচরবাসী রাতের আঁধার জয় করে ঘরে ঘরে জ্বালাচ্ছেন ঝিলমিল আলো। ঘরকে আলোকিত করার পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার ব্যাপারেও এগিয়ে আসছেন তাঁরা। সরে জমিনে ঘুরে, যমুনা চরের বানতিয়ার, ভাটদিঘুলিয়া, ছোট ও বড় চানতাঁরা, শ্রীপুর, রতনদিয়ার চর, ঠুটিয়ারচর গ্রামের সিংহভাগ বাড়ীতেই ঘরের চালে শোভা পাচ্ছে। সৌর বিদুৗতের মাধ্যমে চরাঞ্চলের মানুষ এখন চালাচ্ছেন, কম্পিউটার, টেলিভিশন, সিডি প্লেয়ার, ফ্যান, মোবাইলচার্জসহ বিভিন্ন ইলেকট্রিক পণ্য। বর্তমানে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় চরবাসীর জীবনে লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। প্রায় ৫/৬টি সৌর বিদ্যুৎ কোম্পানী যমুনাচরকে আলোকিত করার প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। খুবই স্বল্প মূল্যে চরবাসীর জন্য সোলার বিক্রি করছে। সর্বনি¤œ ১০ ওয়াট থেকে সর্বোচ্চ ১৩০ ওয়াট পর্যন্ত সৌর বিদ্যুতের সোলার প্লান্ট স্থাপন করা হচ্ছে চরাঞ্চলে। সৌর আলো সম্পর্কে বানতিয়ারের সামাদ মেম্বর জানান, সৌর বিদ্যুতের ফলে পল্লী বিদ্যুতের ঘাটতি পূরুণ করে আমরা এখন আলোকিত হয়েছি।  এখন যমুনা চরের ছোট ছোট বাজার গুলিতে টিভি, সিডি দেখছে মানুষ গভীর রাত পর্যন্ত। কুরশি ধীতপুর বাজারে রয়েছে স্যাটালাইট ঢিস লাইন স্থাপন। অনায়াসেই ২০-২৫টি বাংলাদেশি চ্যানেল দেখা যাচ্ছে। তাই বিদ্যুতের সব সুবিধাই দেখা যাচ্ছে চরবাসীর মাঝে। এ ব্যাপারে কৈজুরী ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ও সোনাতনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ফজলু জানান, সৌর বিদ্যুতের সোলার দিয়ে যেমন চরবাসীকে আলোকিত করা হয়েছে তেমনি বদলে গেছে জীবনযাত্রার মানও। তাঁদের ছেলে-মেয়েরা সৌর আলোয় লেখাপড়া করেছে গভীর রাত পর্যন্ত। এ ব্যাপারে কৈজুরী ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, সৌর বিদ্যুরতর সোলার দিয়ে যেমন চরবাসীকে আলোকিত করেছে। তেমনি বদলে গেছে জীবনযাত্রার মান। এখন যমুনা চরের ছেলে-মেয়েরা গভীররাত পর্যন্ত সৌর বিদ্যুতের আলোয় লেখাপড়া করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ