ঢাকা, রোববার 26 August 2018, ১১ ভাদ্র ১৪২৫, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনা ওয়াসার দুই আঞ্চলিক  কার্যালয়ের যাত্রা শুরু নভেম্বরে

খুলনা অফিস : আড়াই বছরের নির্মাণ কাজ শেষে আগামী নভেম্বর মাসে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে খুলনা ওয়াসার দুই আঞ্চলিক কার্যালয়। নগরীর খালিশপুর ও দৌলতপুর থানা এলাকার প্রায় ২৫ হাজার গ্রাহক এই কার্যালয় থেকে সেবা পাবেন। বর্তমানে পানি সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যার জন্য তাদের ৬ নম্বর ঘাটে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যেতে হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় যেতে ভোগান্তির শেষ থাকে না গ্রাহকদের। নতুন কার্যালয় দু’টিতে কাজ শুরু হলে গ্রাহকদের এই ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। খুলনা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নগরীর লোয়ার যশোর রোডের পুরাতন অফিসেই কার্যক্রম শুরু করে। পরে ২০১৫ সালে ৬ নম্বর ঘাটের নতুন কার্যালয়ে স্থানান্তর হয় ওয়াসার কার্যক্রম। এতে ভোগান্তি বাড়ে গ্রাহকদের। কারণ এই কার্যালয় থেকে খানজাহান আলী থানার দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার। আবার নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের লবণচরা এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দূরত্বও প্রায় ৭/৮ কিলোমিটার। ছোট-খাটো সমস্যার জন্যও এই পথ পাড়ি দিতে হয় গ্রাহকদের। সূত্রটি জানায়, ২০০৮ সালে ওয়াসার নিয়মিত গ্রাহক ছিলো ১৩ হাজারের কিছু বেশি। ২০১৮ সালে এই গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ হাজার। এছাড়া পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় আরও ৪৫ হাজার গ্রাহককে সংযোগ দেয়া হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এই ৬৫ হাজার গ্রাহককে এক সঙ্গে সেবা দেয়া একটি কার্যালয়ের পক্ষে সম্ভব হবে না। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই ২০১৫ সালের আঞ্চলিক কার্যালয় দু’টি নির্মাণের উদ্যোগ নেন ওয়াসার বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক খান সেলিম আহমেদ বলেন, নগরীর চরের হাটে ওয়াসার রিজার্ভার ও ওভারহেড ট্যাংকের পাশে একটি এবং মহেশ্বরপাশা মাইলপোস্ট এলাকায় আরেকটি কার্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে। চার তলা ভিতের ওপর দুই তলা কার্যালয় দু’টি নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আধুনিক সব ধরনের সুযোগ সুবিধা সেখানে রয়েছে।

সরেজমিন কার্যালয় দু’টি ঘুরে দেখা গেছে, দুই তলা ভবন নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক কাজ প্রায় শেষ। প্রতিটি তলায় ৫টি করে কক্ষ রয়েছে। এছাড়া প্রকৌশলীদের সভার জন্য পৃথক কক্ষ রয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, চালু হওয়ার পর এই কার্যালয়ে নতুন সংযোগের জন্য আবেদন, সংযোগে সমস্যার সমাধান, পানির বিলের সমস্যা, পানির সমস্যাসহ সব ধরনের সেবা পাওয়া যাবে। স্থানীয় ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর খুরশিদ আহমেদ টোনা বলেন, এখন সামান্য কোনো সমস্যা হলেই গ্রাহকদের জন্য ৬ নম্বর ঘাট যেতে হয়। 

নতুন কার্যালয়টি শুরু হলে এসব সমস্যা থাকবে না। ঘরের কাছে গিয়েই গ্রাহকরা সেবা পাবে। খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আবদুল্লাহ বলেন, ওয়াসার সেবা গ্রাহকদের হাতের নাগালে রাখতে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডকে ৪টি ভাগে ভাগ করে হয়েছে। ৪টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে এই সেবা দেয়া হবে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাহকরা চরেরহাট কার্যালয়ে, ১ থেকে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাহকরা মহেশ্বরপাশা কার্যালয়ে এবং বাকি ১৫টি ওয়ার্ডের গ্রাহকরা পুরাতন ওয়াসা ভবনে এসে সেবা নিতে পারবেন। পুরাতন ভবনেই দু’টি অঞ্চলের অফিস থাকবে। 

পুরাতন ওয়াসা ভবনে এখন জনবল রয়েছে। নভেম্বর মাসে বাকি দুই আঞ্চলিক কার্যালয়ে লোকবল পাঠানো হবে। ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, ভবন তৈরিসহ অন্যান্য কাজ সঠিকভাবে শেষ হয়েছে। এখন অফিসগুলো চালু এবং প্রকল্পের পানি সরবরাহ শুরু হওয়া পর্যন্ত বতর্মান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ওই পদে থাকা প্রয়োজন। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানান তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ