ঢাকা, রোববার 26 August 2018, ১১ ভাদ্র ১৪২৫, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তাড়াশে অভাবী মানুষের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে

শাহজাহান তাড়াশ সিরাজগঞ্জ : তাড়াশ উপজেলায় চাল ডাল চালের মূল্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বাজার উর্ধ্বমুখী হওয়ায়  বাড়ছে অভাবী মানুষের নিরন্ন মিছিল। এক দিকে টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদী খাল-বিল ডুবে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পরেছে দিনমজুর সাধারণ মানুষ। অপরদিকে  উপজেলার অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি কৃষি শিল্পর মুল্য স্থিতিশীলতা স্মরণকালের ভয়াবহ দুরবস্থা এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা থমকে দিয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য শিল্পের নাজুক অবস্থা মরার উপর খাড়ার ঘা’এ পরিণিত হয়েছে। বিশেষ করে দিন এনে দিন খাওয়া, মধ্যবিত্ত আর নিম্ন আয়ের মানুষের এখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। প্রতি বছর এ মৌসুমে  তাড়াশের দিনমজুরদের অনেকেই সিলেট ও রাজশাহী এলাকায় ধান কাটা শ্রমিক হিসেবে পাড়ি জমালেও সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলায় অকাল বন্যায় ধানক্ষেত ডুবে যাওয়ায় ঐ অঞ্চলের কৃষকদের পাশাপাশি তাড়াশ দিনমজুরদের কপাল পুড়েছে। বাজারে নতুন ধান উঠলেও চালের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে আসেনি । কিন্তু একদিকে বন্যা অপরদিকে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের  মধ্যে নাভিঃশ্বাস এনে দিয়েছে। সাধারণ দিনমজুর,নিম্ন আয়ের ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের পক্ষে ৫০ টাকা কেজি চাল ক্রয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। খরচের তুলনায় আয় না থাকায় ক্রমান্বয়ে ঋণগ্রস্থ হচ্ছে মানুষ। ফলে দরিদ্র মানুষের মত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষও ছুটছেন জনপ্রতিনিধিদের দুয়ারে। কয়েকমাস আগে সরকার কর্তৃক খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর মাধ্যমে ১০টাকা কেজি চাল বিক্রি করলেও তা এখন বন্ধ আছে। ডিলারগণ নির্দিষ্ট কার্ডের বাইরে কাউকে চাল দেয়নি। ফলে প্রতিটি ইউনিয়নে দুইজন ডিলার নিয়োগ করলেও চাহিদার তুলনায় অতিনগণ্য। নির্দিষ্ট কার্ডের বাইরেও অধিক সংখ্যক অভাবী মানুষের আকূতি লক্ষ করা গেছে সরে জমিনে ঘুরে। কিন্তু কার্ডের বাইরে চাল না দেওয়ার সুযোগ না থাকায় রিক্ত হস্তেই ফেরৎ যেতে হয়েছে অভাবী মানুষদের। দিন যত গড়াচ্ছে  তাড়াশ উপজেলায়  অভাবী মানুষের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। বিশেষ করে মৎস্য শিল্পের দুর্দিন আর কৃষি শিল্পের নাজুক পরিস্থিতি শ্রমজীবি মানুষকে বেকার করছে। সবকিছু মিলিয়ে তাড়াশ উপজেলার সর্বত্র নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে হাহাকার, আর দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে চলছে নিরব দূর্ভিক্ষ। আগামী ৫ মাস খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ১০টাকা কেজি চাল বিক্রি বন্ধ থাকায় গরীব ও দুস্থ্যদের অভাবকে আরও তরান্বিত করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ