ঢাকা, রোববার 26 August 2018, ১১ ভাদ্র ১৪২৫, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মাইকের আজানের উচ্চস্বর নিয়ে আপত্তি ধর্ম অবমাননা নয় : নাহদাতুল উলামা

২৫ আগস্ট, রয়টার্স : ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সংগঠন নাহদাতুল উলামা শুক্রবার ঘোষণা দিয়েছে, মাইকের আজানের উচ্চস্বর নিয়ে আপত্তি জানানো ধর্ম অবমাননার আওতায় পড়ে না। বরং এরকম আপত্তিকে গঠনমূলক সমালোচনা হিসেবেই দেখা উচিত। ব্যক্তিগত কথোপকথনে আজানের উচ্চস্বর নিয়ে আপত্তি জানানো চীনা বংশোদ্ভূত একজন খ্রিস্টান মহিলার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। ২০১৬ সালের ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে সুমাত্রার একটি আদালত ধর্ম অবমাননা দায়ে অভিযুক্ত নারীকে সম্প্রতি সাজাও দিয়েছে। বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার আদালতের দেয়া ওই রায়ের নিন্দাও জানিয়েছে নাহদাতুল উলামা। মেইলিয়ানা নামের যে ইন্দোনেশীয় নারীর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মামলা চলেছে তিনি চার সন্তানের জননী। আদালতের রায়ে তার দেড় বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার ইন্দোনেশিযার সবচাইতে বড ইসলামি সংগঠন ধর্মীয় বিষয়ে আরও বেশি সহনশীলতার আহ্বান জানিয়েছে। অভিযুক্ত নারীর আইনজীবী আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়ে উল্লেখ করেছেন, ২০১৬ তালে তার মক্কেল ব্যক্তিগত কথোপকথনে মসজিদে ব্যবহৃত মাইকের উচ্চ শব্দ নিযে আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তার বক্তব্যকে এমনভাবে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন তিনি আজানেরই বিরুদ্ধাচরণ করেছেন।

প্রায় চার কোটি সদস্যের সংগঠন নাহদাতুল উলামার আইন বিভাগের প্রধান রবিকিন এমহাস বলেছেন, ‘মাইকে দেওয়া আজানের শব্দ অনেক বেশি, এমনটা বললে তাকে ধর্ম অবমাননা হিসেবে গণ্য করা যায় না। বরং ইন্দোনেশিয়ার মতো একটি বহুত্ববাদী সমাজে এমন অভিযোগকে মুসলমানদের গঠনমূলক সমালোচনা হিসেবেই দেখা উচিত।

ইন্দোনেশিযার প্রেসিডেন্ট অভিযুক্ত নারীর বিরুদ্ধে থাকা ধর্ম অবমাননার মামলার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তার মুখপাত্র জহান বুডি বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি আইনি বিষযে হস্তক্ষেপ করেন না’

রযটার্স লিখেছে, ইন্দোনেশিয়ার বেশিরভাগ মসজিদে মাইক ব্যবহার করে আজান দেওয়া হয়। কিন্তু তা মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য। তবে কিছু কিছু মসজিদে আজান ছাড়াও দীর্ঘ সময ধরে মসজিদে খুতবা দেওয়া হয়। দেশটির মসজিদ কাউন্সিল মাইক ব্যবহার করে খুতবা দেওয়াকে অপ্রয়োজনীয় আখ্যা দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ