ঢাকা, রোববার 26 August 2018, ১১ ভাদ্র ১৪২৫, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বদেশে ফিরতে রোহিঙ্গাদের তীব্র আকুতি

 

* বিশ্ব বিবেকের নীরবতায় হতাশ

শাহনেওয়াজ জিল্লু, কক্সবাজার : বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢল শুরুর এক বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল ২৫ আগস্ট। গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যের সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের নিধনে অভিযান শুরু করে। পূর্ব পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত এই অভিযানে নিহত হয়েছে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা। ধর্ষণের শিকার হয়েছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরী।

বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের হিসাব অনুযায়ী মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১০ লাখে দাঁড়িয়েছে।

গেল বছর এইদিনে নিজ দেশের সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনে প্রাণ হারান অসংখ্য রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু। জীবন বাঁচাতে সেদিন থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে শুরু করে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গারা। আর সেই দিনকে তাদের জীবনের কালদিন হিসেবে ঘোষণা করেছে বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠী।

গতকাল শনিবার (২৫ আগস্ট) উখিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গারা সেদিনের ঘটনার বিচার চেয়ে ও নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের উখিয়ার কুতুপালং বাজারের সামনের প্রধান সড়কে মাথায় লাল ফিতা বেঁধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

তাদের দাবি একটাই সম্মানের সাথে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে তাদের অধিকার বুঝিয়ে দিতে হবে। মায়ানমারে নির্যাতনের স্বীকার রোহিঙ্গারা তাদের নির্যাতনের বিচার চায়। রাখাইনে তারা সহায় সম্বল নিয়ে বাঁচতে চায়। অধিকার ছাড়া তারা মায়ানমারে ফিরে যাবেনা।

এদিকে কালোদিবস উপলক্ষে কুতুপালং ক্যাম্পের ব্লক-৩ এ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ আমাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য। কিন্তু আমরা কতদিন এদেশে থাকবো? আমরা দিনে দিনে এদেশের বোঝাতে পরিণত হচ্ছি। তাই আমরা ফিরে যেতে চাই স্বদেশে। আন্তর্জাতিক মহলকে অনুরোধ, মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগ করুন যাতে সরকার দ্রুত আমাদের নিয়ে যায়। নিরাপদ প্রত্যাবাসন বিলম্ব করতে মিয়ানমার সামরিক জান্তা টালবাহানা শুরু করেছে। বিশ্বমোড়লরা কেন মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর বিষয়ে নিশ্চুপ এটি আমাদের মাথায় ঢুকছে না।

তবে বিক্ষোভটি কারা আয়োজন করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নায্য অধিকার আদায়ের জন্য কোনো কিছুই আয়োজন করতে হয় না। এখানে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসেছে।

বিক্ষোভ মিছিলে থাকা মোঃ আয়ুব নামের এক রোহিঙ্গা বলেন, আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই আমরা আজকের এই বিক্ষোভ করেছি। আমরা কি চাই তাই জানানোর জন্যই আমাদের এই প্রয়াস।

তিনি আরও বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। আর সেজন্য আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা চাই। আমরা সেদিন ঘটনার জন্য দোষীদের বিচার চাই।

গত এক বছরেও মিয়ানমারের পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা স্বদেশ ফেরা নিয়ে রয়েছেন অনিশ্চিয়তায়। রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের এক বছর পূর্তিকে সামনে রেখে উত্তর রাখাইনে এখন সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে বার্মিজ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। একই সঙ্গে রাখাইন রাজ্যের মংডু, বুথিডাউং শহরে সান্ধ্যাকালীন কারফিউর মেয়াদ আরো দুই মাস বাড়ানো হয়েছে।

বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা ঢুকে পড়ার পর বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের ডিজিটাল নিবন্ধনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরে পাঁচ দফা প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মিয়ানমার বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী, কিন্তু বাস্তবে অনেক দূরের। এ কারণে দুই দেশের সম্পর্কে আস্থা স্থাপন করা যাচ্ছে না। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের জাতিগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকার করে না। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল দেখেছে গ্রামের পর গ্রামের আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পুড়ে যাওয়া পাতাহীন তালগাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে।

রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতির বিষয়টিকে মিয়ানমার প্রথমদিকে সামরিক সংঘাত হিসেবে দেখাতে চেয়েছিল। এ কারণে তারা ১৭ বার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে। যুদ্ধের জন্য উস্কানি দিয়েছে নানাভাবে। কিন্তু বাংলাদেশ সংযম প্রদর্শন করেছে এবং দ্বিপাক্ষিক উপায়ে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে।

গত বছরের নভেম্বরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তিও হয়েছে। তবে এখনো প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি মিয়ানমার। এছাড়া রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তারা সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতিও দেয়নি।

 

মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসন দাবি : এদিকে বিবিসি ও বাংলাট্রিবিউন জানায়, বাংলাদেশের মিয়ানমার সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গারা তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবিতে গতকাল শানিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১১টা পর্যন্ত টেকনাফ এবং উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী ও মধুরছড়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে একযোগে বিক্ষোভ করেছেন। ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা সংকটের এক বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে তারা কর্মসূচি পালন করেন।

উখিয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো আবুল খায়ের জানান, ‘আজ সকালে হঠাৎ করেই রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে রাস্তার নামার চেষ্টা করে। আমরা বাধা দিলে তারা উখিয়া ও বালুখালীর বিভিন্ন ক্যাম্পের ভেতরেই শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করে। রোহিঙ্গারা প্রতিবাদ স্বরূপ প্রায় দুই ঘণ্টা তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’

এসব বিক্ষোভ সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতারা বলেছেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থি মগরা আমাদের ওপর নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ ও বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে আমাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে হয়েছে। কিন্তু, এক বছর পার হয়ে গেলেও আন্তর্জাতিক মহল এখনও পর্যন্ত কোনো ধরনের সুরাহা করতে পারেনি। আমরা আমাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে চাই ফেরত যেতে। এজন্য আমাদের নিরাপদ পরিবেশ, নাগরিকত্ব ও একটি রাষ্ট্রের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।

উখিয়ায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘রোহিঙ্গা নির্যাতনের এক বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু, আমাদের ভাগ্যের কোনও উন্নয়ন হয়নি। এজন্য আন্তর্জাতিক মহলকে নাড়া দিতে আজকের এই বিক্ষোভ সমাবেশ।’

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ‘সকাল থেকে আমরা আমাদের ব্লকে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছি। এতে করে অন্তত আমাদের মনে একটু হলেও শান্তি আসবে। আমরা আমাদের অধিকার ফিরে পেতে চাই। আমরা দেশে ফিরে যেতে চাই।’

উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের লালু মাঝি বলেন, ‘আমাদের এই বিক্ষোভ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে। আমরা আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য এই বিক্ষোভ সমাবেশ করছি। আজ এক বছর পার হলেও আমরা সুষ্ঠু বিচার নিয়ে সন্দিহান। আমরা বিচার চাই, মিয়ানমারের শাস্তি চাই।’

১৯৮০ সালে আইন করে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার পর মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর দমন নিপীড়ন শুরু করে। এরপর নানা অজুহাতে রোহিঙ্গাদের ওপর নেমে আসে বর্বর নির্যাতন। গত ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সাল থেকে রোহিঙ্গারা অধিক সংখ্যায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে। মিয়ানমার সেনাবহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর এবং ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট ভয়াবহ নির্যাতন শুরু করে।

মূলত ২০১৭’র আগস্টের পর থেকে ধাপে ধাপে সামরিক প্রচারণা চালিয়ে সেখানকার বাসিন্দাদের রোহিঙ্গাবিদ্বেষী করে তোলা হয়। ফলে নিপীড়নের মুখে প্রায় ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে নতুন পুরোনো মিলিয়ে এখন ১১ লাখ ১৬ হাজার ৪১৭ জন তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গা বাংলাদেশের অশ্রয় শিবিরে অবস্থান করছেন। এর বাইরেও দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রায় তিন লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এখনো মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসা বন্ধ হয়নি।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গাদের নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিম-লে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। কীভাবে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন করা যায় সেই ব্যাপারে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক বিশ্ব ও বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু প্রত্যাবাসনের কোনও প্রক্রিয়ায় এখনও সেভাবে চোখে পড়েনি। ছোট পরিসরে উদ্যোগ নেয়া হলেও কোনো গতি নেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায়।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো আবুল কালাম বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের তরফ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, জীবিকা, অবাধ চলাচল, শিক্ষাসহ যেসব মৌলিক অধিকার রয়েছে, সেসব বিষয় নিশ্চিত করতে মিয়ানমার বিলম্ব করছে। অবশ্য মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে খুব দ্রুত মিয়ানমারের একটি দল বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবে এবং অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।’ পার্সটুডে।

ভোগান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির বেড়াজালে আটকে আছে রোহিঙ্গাদের জীবন ---এমএসএফ : আন্তর্জাতিক মানবিক চিকিৎসা সংস্থা মেডিসিনস স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) বা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স বলেছে, রোহিঙ্গাদের আইনি মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি, অপরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে তৈরি ক্যাম্পগুলোতে মানবেতর জীবনযাপন ইত্যাদির কারণে এখনো তাদের জীবন ভোগান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির বেড়াজালে আটকে রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটের এক বছর পূর্তিতে এক বিবৃতিতে এমএসএফ জানিয়েছে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত ‘শুদ্ধি অভিযান’-এর কারণে যে ভয়াবহতা ও ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়, এতে প্রায় ৭ লাখ ৬ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। এই শরণার্থীরা পূর্ববর্তী সহিংসতা থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ২ লাখ শরণার্থীর সঙ্গে যুক্ত হয়। ফলে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ৯ লাখ ১৯ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, গত ১২ মাসে সংস্থাটির ১৯টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা মোবাইল ক্লিনিকে ৬ লাখ ৫৬ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অর্ধেকের বেশি রোগী সহিংসতাজনিত আঘাতের চিকিৎসা নিলেও, ক্যাম্পের ঘনবসতি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে তারা পরবর্তী সময় অসুস্থ হয়।

এমএসএফের বাংলাদেশ অফিসের হেড অব মিশন পাভলো কলোভস বলেন, এখনো ক্যাম্পের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হচ্ছে ডায়রিয়া। মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণের জন্য যে অবকাঠামো প্রয়োজন, তা এখনো অনুপস্থিত। এর ফলে মানুষের সুস্থ স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে।

সরকারের বরাদ্দ ৪০০ কোটি, আসবে অনুদানও : মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য প্রথম বছর বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে উল্লেখযোগ্য খরচ হয়নি। তবে দ্বিতীয় বছরের জন্য সরকার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। এছাড়া অনুদান আসবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। গত একবছর সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে উল্লখযোগ্য খরচ না হলেও ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে সরকার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। ২০১৮-১৯ বাজেটেও রোহিঙ্গা খাতে পৃথকভাবে আরও ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে হতে পারে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল বলেন, ‘প্রথম বছর সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে উল্লেখযোগ্য কোনও ব্যয় নির্বাহ করা হয়নি। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনসহ (ইউএনএইচসিআর) বিভিন্ন দাতাসংস্থা, বিভিন্ন দেশ ও সংগঠনের পক্ষ থেকে যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা হয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে সরকারি অর্থ বরাদ্দের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে ৫০০ কোটি টাকা। তবে রাস্তাঘাট নির্মাণ থেকে শুরু করে টয়লেট, টিউবওয়েল, ল্যাট্রিন ও গোসলখানা নির্মাণ, বিদ্যুতের লাইন টানা ও চিকিৎসা খাতে প্রায় ২০০ কোটির বেশি ব্যয় হয়েছে। ৪ হাজার একর বনভূমি উজাড় হয়ে যাওয়ায় মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে পরিবেশের। আর রোহিঙ্গা শিবিরে সামরিক-বেসামরিক মিলিয়ে ৩ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন। যাদের বেতন-ভাতা থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচ সরকারের তহবিল থেকেই বহন করা হচ্ছে।

 রোহিঙ্গাদের জন্য প্রতিবছর সরকারের প্রয়োজন হবে অতিরিক্ত আরও প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। বিপুল পরিমাণ এই অর্থ জোগাড়ে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। গত ৩-৬ মে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় এডিবি’র ৫১তম বার্ষিক সভায় এ সংক্রান্ত পৃথক একটি সেশনের আয়োজন করা হয়। ওই সেশনে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সেখানে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এডিবি প্রেসিডেন্ট তাকিহিকো নাকাওকে এ বিষয়ে বিশেষ নজর দেয়ার অনুরোধ জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ