ঢাকা, রোববার 26 August 2018, ১১ ভাদ্র ১৪২৫, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ হবার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান

 

স্টাফ রিপোর্টার: ভোটের অধিকার ও হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হবার পাশাপাশি আগামী দিনের আন্দোলনের সফলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার সাথে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এক ঘন্টা সাক্ষাতে এসব নির্দেশনা দেয়া হয় বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী সেপ্টেম্বরে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট গঠন ও নির্বাচন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা পেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

দীর্ঘ এক ঘন্টা সাক্ষাৎ শেষে কারাফটকের সামনে সাংবাদিকদের  বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ম্যাডাম জনগণের ভোটের অধিকার ও হারানো গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র রক্ষায় একসাথে কাজ করতে হবে। কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

চেয়ারপার্সনের শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম জিয়া শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। তবে ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) মনোবল অত্যন্ত শক্ত আছে। ফখরুল বলেন, ম্যাডাম শারীরিক দিক দিয়ে অসুস্থ আছেন। বেশ অসুস্থ। আমি আগে তাকে দেখেছি, তার চাইতে অবস্থা এখন ভালো নয়। আমার কাছে মনে হয়েছে তিনি ব্যথায় খুব কষ্ট পাচ্ছেন। তবে ম্যাডামের মনোবল অত্যন্ত শক্ত আছে। উনি দেশবাসীকে মনোবল দৃঢ় রাখতে বলেছেন।

জনগণের উদ্দেশ্যে তার কোনো বার্তা আছে কিনা প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ম্যাডাম বলেছেন তারা যেন সজাগ থাকে, সচেতন থাকে। গণতন্ত্রের জন্য যে সংগ্রাম চলছে সেই সংগ্রাম যেন অব্যাহত রাখে তারা।

কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে গতকাল শনিবার বিকেল ৪টার দিকে কারাগারে প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বেরিয়ে আসেন বিকাল ৫টার পরপরই। দুপুরের দিকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে চেয়ারপার্সনের একান্ত সচিব আবদুস সাত্তারের মাধ্যমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাক্ষাতের বিষয়টি জানানো হয়। এরপর মহাসচিব বিষয়টি নিয়ে লন্ডনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সাথে আলোচনা করেন। এরপর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশ ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পরামর্শক্রমে একাই সাক্ষাতের জন্য কারাগারে যান ফখরুল।

সাদা পায়জমা- পাঞ্জাবী পরে কারাগারে প্রবেশ করেন বিএনপি মহাসচিব। জানা গেছে, প্রথমে কারাগারের ভেতরে অতিথি কক্ষে তাকে নিয়ে বসানো হয়। মির্জা ফখরুলের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর প্রথম সাক্ষাতে অসুস্থ দলের চেয়ারপার্সনকে দেখে আবেগপ্রবণ অবস্থায় সালাম ও কুশল বিনিময় করেন বিএনপি মহাসচিব।

বিএনপি মহাসচিব আবেগতাড়িত কন্ঠে বলেন, আমি ম্যাডামকে এভাবে দেখবো চিন্তাই করতে পারিনি। এটা আমার জন্য বেদনার। ঈদের দিন বাসার খাবারের প্রতীক্ষায় তিনি দীর্ঘ সময় কোনো খাবার খাননি। পরে আইজি প্রিজনের অনুরোধে সন্ধ্যায় খাবার খেয়েছেন।

সাংগঠনিক বিষয় কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এরকম প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, সাংগঠনিক বিষয় কোনো আলোচনা হয়নি, রাজনৈতিক কোনো বিষয় আলোচনা হয়নি। তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। তিনি আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে  দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। 

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আমাদের অবস্থার কথা জানিয়েছি। আমরা আশা করছি দ্রুতই তার জামিন হবে। বিএনপি মহাসচিব জানান, দলের চেয়ারপার্সনের সাক্ষাতের বিষয়টি স্থায়ী কমিটির সদস্যদের অবহিত করতে শুক্রবার রাতে গুলশানের কার্যালয়ের নেতাদের বৈঠকে রয়েছে। 

গত ১৩ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর ঈদের দিন সাক্ষাতের জন্য মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির ১৩ জনের তালিকা দিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। কিন্তু ঈদের দিন তাদের সাক্ষাৎ মেলেনি। বিএনপি মহাসচিব সর্বশেষ গত ৬ এপ্রিল কারাগারে খালেদা জিয়ার সাথে একা সাক্ষাৎ করেছিলেন। তবে মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ৭ মার্চ ও ২৮ এপ্রিল দুই দফায় খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেন। 

এর আগে ২২ আগস্ট, পবিত্র ঈদুল আযহার নামায শেষে বেলা সাড়ে ১২টায় নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে যান মির্জা ফখরুল। কিন্তু ওইদিন তাকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। সেসময় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান ও মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। তবে ওইদিন বিকালে কারাবন্দী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন পরিবারের ৬ সদস্য।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা ট্রাষ্ট মামলায় সাজার পর থেকে খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দী রয়েছেন। মূল মামলায় তিনি জামিনে থাকা হাস্যকর কিছু মামলায় তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ