ঢাকা, রোববার 26 August 2018, ১১ ভাদ্র ১৪২৫, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সড়ক দুর্ঘটনায় গত তিন দিনে নিহত অর্ধশতাধিক ॥ আহত শতাধিক

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় গত তিনদিনে অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও শতাধিক যাত্রী। বাস উল্টে, বাস চাপা, বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষসহ বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। 

জানা যায়, গতকাল শনিবার নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নাটোর-পাবনা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ১২ জন ও হাসপাতালে নেয়ার পর একজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১২ জনই লেগুনার যাত্রী। একজন বাসের যাত্রী। এছাড়াও বাসের ১৯ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, লেগুনাচালক ঠাকুরগাঁওয়ের রহিম আলী (২৮), নাটোরের বড়াইগ্রাম নারায়ণপুরের রজুফা বেগম (৫০) ও শেফালী বেগম (৪৫), জামাইদিঘার লগেনা বেগম (৬৫), পাবনা দাশুড়িয়ার মিরকামারি গ্রামের শাপলা আক্তার (২০) ও টাঙ্গাইলের গোপালপুরের রোকন সেখ (২২)।

এদিন বিকেল ৪টার দিকে লালপুরের কদিমচিলান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এসময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে ১৯ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। সংবাদ পেয়ে বনপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ ও নাটোর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়।

স্থানীয়রা জানান, বিকেল ৪টার দিকে পাবনা থেকে রাজশাহীগামী চ্যালেঞ্জার পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বনপাড়া থেকে ঈশ্বরদীগামী লেগুনার সংঘর্ষ ঘটে। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলছিল। বনপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসূন নূর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, উদ্ধার কাজ চলছে। বিস্তারিত পেতে অপেক্ষা করতে হবে।

একইদিনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণে হারিয়ে খাদে পড়ে দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৫ জন। শনিবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার জিংলাতলী এলাকা এ ঘটনা ঘটে।

হাইওয়ের পুলিশের ইলিয়টগঞ্জের ইনচার্জ নুরুল ইসলাম জানান, দাউদকান্দি উপজেলার জিংলাতলী এলাকায় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ২ জন নিহত হন। বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। 

অপরদিকে রাজশাহী মহানগরীর কাটাখালি থানার সমসাদিপুর এলাকায় ব্যাটারিচালিত ভ্যানের চাকা খুলে গিয়ে দাদা ও নাতির মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- দেওয়ানপাড়া এলাকার ভ্যানচালক দাদা নাজিম উদ্দিন (৫০) ও তার নাতি আরাফাত আলী রাফা (২)। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী আছিয়া বেগম ও আরেক নাতি কালাম। তারা বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শনিবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

রাজশাহীর কাটাখালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঈদ উপলক্ষে স্ত্রী ও দুই নাতিকে নিয়ে ভ্যান চালিয়ে কাপাশিয়া এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন নাজিম। তাদের ভ্যানটি সমসাদিপুর এলাকায় পৌঁছালে পেছনের একটি চাকা খুলে যায়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তারা রাস্তার ওপর ছিটকে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই নাজিম উদ্দিনের মৃত্যু হয়। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে এবং রামেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার নাতি দুই বছরের রাফাও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তার বাবার নাম কাউসার। 

ওসি মেহেদি হাসান বলেন, নিহত নাজিম উদ্দিনের লাশ ঘটনার পর পরই তার স্বজনরা নিয়ে গেছেন। এছাড়া রাফার লাশ রামেক হাসপাতালের রয়েছে। এ ঘটনায় কাটাখালি ও রাজপাড়া থানায় পৃথক অপমৃত্যুর মামলা হবে।

এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় পিকনিকের একটি বাস উল্টে অন্তত অর্ধশত যাত্রী আহত হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার সিংগারোল গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের বয়স ১৩ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসী জানায়, সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সাটিয়া (ঈদগাঁ জামাতপাড়া) থেকে অর্ধশত যাত্রী নিয়ে সুরুচি এন্টারপ্রাইজের বাসটি (বগুড়া-জ-১১-০১৩৯) দিনাজপুরের স্বপ্নপুরী বিনোদন কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। আধা কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করার পর একটি রিকশাভ্যানকে সাইড দিতে গিয়ে বাসটি রাস্তার পাশে ধানক্ষেতে পড়ে উল্টে যায়। এতে বাসের প্রায় সব যাত্রীই আহত হন। 

খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে ইকবাল (১৬), রুপালী (১৪) ও শাহনাজ (১৪) নামে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পীরগঞ্জের ইউএনও এডব্লিউএম রায়হান শাহ্ ও থানার ওসি চিত্ত রঞ্জন রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ওসি চিত্তরঞ্জন রায় জানান, পিকনিকের বাসটি একটি ভ্যানকে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধানক্ষেতে পড়ে উল্টে যায়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়ায় যাত্রীবাহী একটি বাসের ধাক্কায় সিএনজি চালিত অটোরিকশার ৬ জন যাত্রী নিহত হয়। নিহত ও আহত সবাই অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন।  উপজেলার লেমুয়া ভাঙ্গার তাকিয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, লেমুয়া ভাঙ্গার তাকিয়া এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করছিল। মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় হাইওয়ে পুলিশ ওই অটোরিকশাকে ধাওয়া দেয়। এ সময় চালক অটোরিকশা নিয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করলে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের নিচে পড়ে দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও তিনজন মারা যান।

এছাড়াও গত তিনদিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় আরও যাত্রী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সবমিলে ঈদ পরবর্তী তিন দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় অর্ধশতাধিক যাত্রী নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও শতাধিক আরহী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ