ঢাকা, রোববার 26 August 2018, ১১ ভাদ্র ১৪২৫, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দৌলতপুরে ঈদ উপলক্ষে শতাধিক স্পটে কোটি টাকার রমরমা মাদক ব্যবসা

 

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : শুধু ঈদ উপলক্ষে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের শতাধিক স্পটের খুচরা মাদক বিক্রেতারা কোটি টাকার মাদক ব্যবসা করেছে। দৌলতপুরের মাদক সেবীসহ জেলা ও জেলার বাইরের বিভিন্ন অঞ্চলের মাদক সেবীরা বেপরোয়া গতিতে মোটরযান চালিয়ে তাদের পরিচিত মাদক স্পটে ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজা সেবন করে একই গতিতে ফিরে যাচ্ছে। আর এ চিত্র নিত্যনৈমিত্তিক হলেও ঈদের আগের দিন থেকে অদ্যাবধি বেড়ে হয়েছে দ্বিগুনেরও বেশি। 

অনুসন্ধানে জানাগেছে, দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর, বিলগাথুয়া, জামালপুর, মুন্সিগঞ্জ, চল্লিশপাড়া, চিলমারী, চরচিলমারী, বাংলাবাজার ও উদয়নগর সীমান্তসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে ফেনসিডিল, গাঁজা ও হেরোইনের বড় বড় চালান পাচার হয়ে বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে বড় চালানগুলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার হয়। আর ছোট ছোট মাদকের চালাল মাদক ব্যবসায়ীদের হাত বদল হয়ে দৌলতপুরের শতাধিক খুচরা মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যায়। আর এসব খুচরা মাদক ব্যবসায়ীরা উচ্চ মূল্যে মাদক সেবীদের কাছে তা বিক্রয় করে থাকে। তবে ঈদ বা বিভিন্ন মওসুম আসলে খুচরা ব্যবসায়ীদের কদরও বেড়ে যায়। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুন বা তিনগুন বা তার চেয়েও বেশি মূল্যে মাদক সেবীদের কাছে এসব মাদক বিক্রয় করে থাকে তারা।

দৌলতপুরের উল্লেখযোগ্য মাদক স্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে খলিশাকু-ি বাজার, শ্যামপুর বাজার, বোয়ালিয়া বাজার, গোয়ালগ্রাম বাজার, শেহালা-নাটনাপাড়া বাজার, আদাবাড়িয়া বাজার, প্রাগপুর বাজার, বিলগাথুয়া, মহিষকু-ি মাঠপাড়া, মহিষকু-ি বাজার, জামালপুর, পাকুড়িয়া, ভাগজোত বাজার, মুন্সিগঞ্জ বাজার, মুন্সিগঞ্জ ভাঙ্গাপাড়া, ক্রোফোর্ডনগর, ডাংমড়কা বাজার, মথুরাপুর বাজার, হোসেনাবাদ বাজার, ফিলিপনগর, বৈরাগীরচর, তারাগুনিয়া বাজার, স্বরূপপুর ব্র্যাক অফিসপাড়া, আল্লারদর্গা বাজার, আল্লারদর্গা পশুহাট বাজার, সোনাইকুন্ডি বাজার, কল্যানপুর বাজার, কল্যানপুর বটতলা, কল্যানপুর গাইনপাড়া, সাদীপুর, সাহাপুর, জয়রামপুর, মাজিদিয়াড়, চরদিয়াড় ও বালিরদিয়াড় বাজার অন্যতম। আর এসব মাদক ব্যবসা স্পট এলাকায় গড়ে ওঠা খুচরা মাদক ব্যবসায়ীরা শতাধিক স্পটে মাদক বিক্রয় করে থাকে। সময় ও সুযোগ বুঝে মাদক সেবীদের সাথে যোগাযোগ সাপেক্ষে স্পট পরিবর্তন করে তারা মাদক বিক্রয় করে থাকে।

উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ ও ক্রোফোর্ডনগর এলাকায় গিয়ে নাম পরিচয় গোপন রেখে খুচরা মাদক ব্যবসায়ী সজিব, সাদেক, নিহাজ, নুরতাজ, জাহাঙ্গীর, আলামিন ও বিপদ আলীর সঙ্গে আলাপচারিতায় জানাযায়, তারা প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ২০ পিস ফেনসিডিল বিক্রয় করে থাকে। তবে ঈদ বা বিভিন্ন উৎসব এলে এর দ্বিগুণ, তিনগুণ আবার কোন কোন ক্ষেত্রে চারগুণও বিক্রয় হয়। আবার অনেক সময় ছোট খাট নেতারা আসলে তাদের ফ্রিও দেয়া লাগে। ঈদ উপলক্ষে তারা প্রতি পিস ফেনসিডিল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা করে বিক্রয় করছে। এতে তাদের বছরের অন্যান্য সময় গড়ে প্রতিদিন ৪ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা এবং উৎসব মওসুমে তা অনেকগুণ বেড়ে যায়। তারা বলেন এ ব্যবসায় লাভ যেমন আছে ঝক্কি ঝামেলও বেশি। যদিও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ব্যবসা করি তারপরও মাঝে মধ্যে বিভিন্ন ধরনের উটকো ঝামেলায় পড়তে হয়। তখন খরচ একটু বেশি।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, তার ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি স্পটে মাদক বিক্রয় হয়ে থাকে। তবে আগের তুলনায় মাদক ব্যবসা অনেক কমে গেছে।

মাদক ব্যবসা ও অভিযানের বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি শাহ দারা খান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান জোরালো আছে। মাদক ব্যবসা জোরালো হওয়ার সুযোগ নেই। ঈদের আগে মাদক বিরোধী অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী বা বিক্রেতা আটক হয়েছে এবং মাদক উদ্ধারও হয়েছে।

দৌলতপুরের সচেতন মহলের অভিমত, মাদক বিরোধী অভিযানের পাশাপাশি উল্লেখিত মাদক স্পট এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মোটরযানে চলমান পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তিকে জিঞ্জাবাদ ও তৎক্ষনাত তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দৌলতপুরের খুচরা মাদক ব্যবসা অনেকাংশে কমে যাবে।

মসজিদের হিসাব চাওয়া নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭       

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মসজিদের হিসাব চাওয়া নিয়ে সংঘর্ষে অন্তত ৭ জন মুসল্লি আহত হয়েছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকু-ি মাঠপাড়া গ্রামে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে মুসল্লিগণ মসজিদের সভাপতি কাম ক্যাসিয়ার মকলেচ আলীর কাছে হিসাব চায়। মুসল্লিদের হিসাব না দিয়ে মকলেচ আলী মসজিদ থেকে বের হয়ে বিষয়টি তার আত্মীয়-স্বজনকে জানায়। এ ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যরাতে মকলেচ আলীর সাথে আসাদুল হক নামে এক মুসল্লির কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১৫-১৬ জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্বিত হয়ে একে অপরের ওপর হামলা, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়। প্রায় ঘন্টা ব্যাপী চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের খলিল (২২), আমিরুল (৪৫), রিপন (৩২), আসাদুল (৫৫), ফরিদ (৫০), লুহু (২৫) ও মকলেচ (৪০) আহত হয়। এদের মধ্যে ৪ জনকে দৌলতপুর হাসপাতালে এবং ২ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

উল্লেখ্য মকলেচ আলী একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। কয়েকদিন আগে সে মাদকসহ গ্রেপ্তার হলে দৌলতপুর থানা পুলিশ তাকে জেলহাজতে পাঠায়। জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারও সে একই ব্যবসায় নিয়োজিত হলে অবৈধ অর্থে মত্ত হয়ে মুসল্লিদের সাথে বাকবিতন্ডা ও জড়িয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ