ঢাকা, রোববার 26 August 2018, ১১ ভাদ্র ১৪২৫, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজস্ব কমেছে ৪৫ লাখ টাকা কেসিসির কুরবানির পশুর হাটে খামারীদের কান্না 

 

খুলনা অফিস : খামারীদের কান্না ও হতাশায় শেষ হয় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) এবারের কুরবানির পশুর হাট। ঈদের আগের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে হাটে বিভিন্ন স্থান থেকে গরু আসতে থাকে। কিন্তু সেই তুলনায় ক্রেতা ছিলো না। ফলে সন্ধ্যার পর থেকে গরুর দাম একেবারে পড়ে যায়। রাত ১০টার পর থেকে কুরবানির হাট ছিলো প্রায় ক্রেতাশূন্য। ফলে বাধ্য হয়ে কম দামে পশু বিক্রি করে দেন গরু ব্যবসায়ী ও খামারীরা। যারা কম দামে গরু বিক্রি করেননি, তারা ভোর বেলায় গরু ফেরত নিয়ে যান। সবার চোখেই ছিলো কান্না ও হতাশা। ব্যবসায়ীরা জানান, গতবছর ঈদের আগের দিন জোড়াগেট কুরবানির পশুর হাটে গরুর সংকট দেখা দেয়। ফলে উপায় না পেয়ে বেশি দামে কুরবানির গরু কিনতে বাধ্য হন মানুষ। এবারও শুরুর দিকে গরুর দাম বেশি ছিলো। এ জন্য হাটে না এসে আশপাশের গ্রাম ও উপজেলা থেকে গরু কেনেন নগরীর সামর্থ্যবান মুসলমানরা। যার কারণে এবার হাটে কুরবানির গরু বিক্রি হয়েছে কম।

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত হাটে ৭হাজার ৩২টি গরু ও ছাগল বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫ হাজার ৩৮২টি গরু ও ১ হাজার ৬৪২টি ছাগল। এ থেকে কেসিসির রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮১ টাকা।

গতবছর হাটে ৮ হাজার ৩৯৪টি গরু ও ছাগল বিক্রি হয়েছিলো। এর মধ্যে ছিল ৬ হাজার ৭৩৭টি গরু ও ১ হাজার ৬৫৭টি ছাগল। এ থেকে কেসিসির রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ কোটি ১০ লাখ ৩০ হাজার ৩৪৩ টাকা। অর্থাৎ এ বছর হাটে ১ হাজার ৩৫৫টি গরু ও ৭টি ছাগল কম বিক্রি হয়েছে। রাজস্ব কমেছে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে হাটে ৭ হাজার ৬২৭টি গরু, ৫টি ভেড়া ও ১ হাজার ৬১২টি ছাগল বিক্রি হয়েছিল। এ থেকে কেসিসির রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১ কোটি ৯৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৩ টাকা।

কেসিসির হাট পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ও কাউন্সিলর শামসুজ্জামান মিয়া স্বপন জানান, ভারত থেকে গরু না আসায় হাট শুরুর প্রথম দিকে পশুর আমদানি নিয়ে মানুষ সংশয়ে ছিল। এই সুযোগে দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল গরু ব্যবসায়ীরা। এজন্য নগরীর ক্রেতারা এবার বাইরে থেকে গরু কিনেছে। আবার মাওয়া ও আরিচা ঘাটে যানজট থাকায় এ অঞ্চলের গরুগুলো ঢাকায় যেতে পারেনি, মাঝপথ থেকে তারা খুলনায় ফিরে আসে। ফলে শেষ দিন হাটে গরুর আমদানি বেড়ে যায়। এতে দাম পড়ে যায়। প্রসঙ্গত, নগরীর জোড়াগেটে গত ১৬ আগস্ট থেকে কুরবানির পশুর হাট শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে ঈদের দিন ভোর সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত হাট পরিচালিত হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ