ঢাকা, রোববার 26 August 2018, ১১ ভাদ্র ১৪২৫, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঈদের ছুটিতে প্রাকৃতিক কন্যা জাফলং ও বিছনাকান্দিতে পর্যটকদের ঢল

সিলেটের প্রাকৃতিক কন্যা জাফলংয়ে ঈদুল আযহার ছুটিতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় -সংগ্রাম

 

কবির আহমদ ও গোলাম সারোয়ার বেলাল, গোয়াইনঘাট (সিলেট) থেকে ফিরে : শুধু সিলেট থেকে নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে টানা ছুটি থাকায় সিলেটের প্রাকৃতিক কন্যা জাফলং, বিছনাকান্দি ও রাতারগুলে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। নান্দনিক এই পিকনিক স্পটগুলো পর্যটকদের ধারণ করতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণ পিয়াসুদের নিরাপত্তা দিতে সিলেট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক ব্যবস্থা নেয়া হয়। পাশাপাশি পর্যটন পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদেরও তৎপর দেখা যায়। জাফলং ও বিছনাকান্দির সৌন্দর্য্য দেখে পর্যটকরা যেমন মুগ্ধ, আবার বিছনাকান্দির রাস্তাঘাটে ছোট ছোট পুকুর সমতুল্য গর্ত দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা পর্যটকরা। সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে প্রতি আকৃষ্ট সারাদেশের ভ্রমণ পিয়াসু মানুষ। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখতে বছর জোড়ে পর্যটকদের উপস্থিতি থাকে চোখে পড়ার মত। দুই ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে সিলেটের পিকনিক স্পটগুলো। সিলেটের হোটেল-মোটেলে গুলোতে তিল ধারণের টাই নেই। গত শুক্রবার হজরত শাহজালাল ও শাহপরাণ (রহ.) মাজার মসজিদগুলোতে ছিল লোকে-লোকারণ্য। 

ঈদুল আযহার টানা ছুটিতে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব মিলে ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করতে যেন ঢল নেমেছিল সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং জিরোপয়েন্টে, জিরোপয়েন্ট ঘেঁষা ভারতীয় ঝুলন্ত ব্রিজ, ফাটাছড়া মায়াবি ঝর্ণা, বিছনাকান্দি, রাতারগুল, পান্তুমাইসহ সিলেটের নয়নাবিরাম নান্দনিক পর্যটন স্পট সমূহে। গত বুধবার ঈদুল আযহার দিন থেকে শুরু করে গত শুক্রবার পর্যন্ত জাফলং, ফাটাছড়া মায়াবি ঝর্ণা, বিছনাকান্দি, রাতারগুল সোয়াম ফরেষ্ট, পান্তুমাই সর্বত্রই পর্যটকদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। লোকে-লোকারণ্য যেন পুরো পিকনিক স্পট এলাকাসমূহ। বাস, ট্রাক, মিনি বাসসহ ছোট যানবাহনে করে ভ্রমণ পিয়াসু মানুষজন এখানে এসে ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। সবুজ সতেজতায় নিজেকে আবৃত্ত করতে তাড়া ছুটে আসেন প্রকৃতির দূরগোড়ায়। দিগন্ত জোড়া পাহাড়, ছোট বড় টিলা, পাহাড়ের গায়ে সবুজ লক্ষ লক্ষ গাছের সারী, পিয়াইনের বুকচিরে বয়ে চলা প্রবাহমান পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ স্ফটিক জল, নুড়ি পাথর, চা বাগান, গহিন বন, হিজল করচের অরণ্য ঘেরা সবুজ বেষ্টনী, পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা ঝর্ণা ধারায় গা ভিজিয়ে ছবি সেলফিতে নিজেদের আবদ্ধ করে আনন্দে ভাগাভাগি করছেন আগত পর্যটক দর্শনার্থীরা। শনিবারসহ আরো কয়েকদিন পর্যটকদের আনা-গোনা থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

এদিকে, সিলেট তামাবিল মহাসড়কসহ সবকটি সড়কের বেহাল অবস্থায় দূর্ভোগ ও ভোগান্তি পড়তে হয়েছে পর্যটকদের। বিগত ৩দিনের পর্যটক দর্শনার্থীর চাপে এখানকার সড়ক সমূহে পর্যটকবাহী বাস, মিনিবাসসহ যানবাহনের সৃষ্ট যানজটের কারণে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। জাফলং থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরবর্তী পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল যানজটে আটকা পড়া যানবাহনের সারী। কাদা পানি মাড়িয়ে পর্যটকরা ছুটে গেছেন প্রকৃতির একেবারে কাছাকাছি। আগত পর্যটক দর্শনার্থীদের পদভারে ভরপুর হয়ে উঠেছে এখানকার সবকটি হোটেল, মোটেলসহ রাত্রি যাপনের সবকটি কটেজও। হোটেল, রেস্টুরেন্টগুলোর বিকিকিনিও বেড়েছে বহুগুণ।

প্রাকৃতিক কন্যা জাফলংয়ে কথা হয় নড়াইল থেকে আসা ফাতেমা বেগমের সাথে। তিনি তার দুই সন্তানকে নিয়ে স্বামীর সাথে এসেছেন জাফলংয়ে ঘুরতে। সকালে বিছনাকান্দিও ঘুরে এসেছেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ গৃহিনী ফাতেমা বেগম বলেন, পাহাড়গুলো মহান আল্লাহপাকের অনেক নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম নিদর্শন। কিন্তু রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থায় ক্ষুব্ধু ফাতেমা বেগম বলেন, এখানে বোধয় পর্যটন সংশ্লিষ্ট কেউ নেই। থাকলে রাস্তাঘাটের এমন নাজেহাল অবস্থা হতো না। তার মতো অনেকেই ক্ষুব্ধ রয়েছেন।   

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিৎ কুমার পাল জানান, জাফলং, ফাটাছড়া মায়াবি ঝর্ণা, রাতারগুল, বিছনাকান্দিসহ সবকটি পর্যটন স্পটের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে সরকার আন্তরিক। ইতিপূর্বে পর্যটকদের যাতায়াত সহজতর করনে সংগ্রাম বিজিবি ক্যাম্পের উত্তর পার্শ্ব দিয়ে পর্যটকরা পিয়াইন নদীতে সরাসরি নামার জন্য একটি সিঁড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল জলিল জানান, গোয়াইনঘাটের সবকটি পর্যটন স্পটসমূহে বেড়াতে আসা পর্যটক, দর্শনার্থী ও ভ্রমণ পিয়াসুদের সার্বিক নিরাপত্তায় থানা পুলিশ সজাগ রয়েছে। ট্যুরিষ্ট পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ