ঢাকা, রোববার 26 August 2018, ১১ ভাদ্র ১৪২৫, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের সামরিক জান্তাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিতে কোর্ট ট্রাস্ট-এর উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় ­-সংগ্রাম

 

স্টাফ রিপোর্টার : রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের সমরিক জান্তাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে কোস্টাল অ্যাসোসিয়েশান ফর সোস্যাল ইনফরমেশন ট্রাস্ট। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবসনের জন্য চীন, রাশিয়া ও ভারতকে উদ্যোগ নিতেও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট ইতিহাসের নিষ্ঠুর গণহত্যা থেকে প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। সেই সময় অগণিত মানুষ ধর্ষণ-খুনের শিকার হন। বক্তারা বলেন, আজ (২৫ আগস্ট) সেই ভয়াবহতার এক বছর অতিবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীরা পলিথিনের ছাউনিতের নিচে ভয়াবহ গরমে, প্রবল বৃষ্টিতে মানবেতর জীবনযাপন করে চলছেন।

বক্তরা আরও বলেন, বিশ্ববাসী এই ভয়াবাহ দুর্ভোগ চোখের সামনে দেখেও একটিবারের জন্যও এর পেছনে দায়ী মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও সরকারকে অভিযুক্ত করেনি। একবারও তাদের কেউ বলছেন না, রোহিঙ্গাদের নিজ বাসভূমে ফিরে যাওয়ার অধিকার আছে, স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকার তাদের রয়েছে। কাউকে বলতে শুনছি না, প্রায় ৫ লাখ শিশুর একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অধিকার তাদের আছে কিংবা প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও সুস্থ থাকার অধিকার তাদের রয়েছে। এই সংগঠনের পক্ষ থেকে মানববন্ধনে কয়েকটি দাবি জানানো হয়েছে---আর্ন্তজাতিক অপরাধ আদালতের অধীনে গণহত্যার জন্য মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সরকারকে অভিযুক্ত করে ন্যায়বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। সেইসঙ্গে চীন, রাশিয়া ভারতসহ সব দেশকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে; জাতিসংঘ শুধু ত্রাণ বিতরণ নিয়ে ব্যস্ত থাকলে হবে না, দোষীদের বিচার বিষয়ে সোচ্চার ও হত্যা, ধর্ষণের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায় করে দিতে হবে; রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক মর্যাদা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে কাজ করতে হবে; ত্রাণ বিতারণ ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার নামে কক্সবাজারে একদল মানুষ বাণিজ্য করছে। এ কারণে দ্রুত রোহিঙ্গাদের জন্য কত সহায়তা এসেছে, সেই টাকা-পয়সা কোথায় ব্যয় হচ্ছে এসবের হিসাব করতে হবে। 

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কৃষক ফেডারেশনের সেক্রেটারি এস এম মারুফ উদ্দিন, ইকুইটি বিডি’র মডারেটর রেজাউল করিম, রোহিঙ্গা বিশেষজ্ঞ বরকতুল্লাহ মারুফ, আমিনুল হক চৌধুরীসহ অন্যরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ