ঢাকা, রোববার 26 August 2018, ১১ ভাদ্র ১৪২৫, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মুক্তিপণের জন্য ছাত্রকে অপহরণ ॥ প্রাইভেট শিক্ষক আটক

স্টাফ রিপোর্টার : মুক্তিপণ আদায়ের জন্য রাজধানীর মধুবাগ এলাকা থেকে সাবেক ছাত্র সামিরকে অপহরণের কথা র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছেন মাদরাসা শিক্ষক মো. মঈনুল ইসলাম। র‌্যাব-৩ এর সিপিসি-২ স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি রবিউল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল শনিবার র‌্যাব-৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (অপারেশন) এএসএম শাখাওয়াত হোসেন জানান, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বিমানবন্দর স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধারসহ অপহরণকারীকে আটক করা হয়। আটক অপহরণকারী হাফেজ মো. মঈনুল ইসলাম (২৪) নোয়াখালী জেলার সোনাপুর সাঈদাতুল আবরার মাদরাসার শিক্ষক।

র‌্যাব জানায়, অপহরণের শিকার শিশুটির নাম মো. সামির (৮)। সে বরিশালের কোতোয়ালি থানার বুখাইনগর গ্রামের মো. কাওসার আহম্মেদ পিন্টুর ছেলে। সামিরের বাবা একজন মাইক্রোবাস চালক। তারা হাতিরঝিল থানা এলাকার মধুবাগের একটি বাসায় বাস করেন। 

র‌্যাব-৩ এর সিপিসি-২ স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি রবিউল ইসলাম বলেন, ‘গত এক বছর ধরে সামিরকে প্রাইভেট পড়াতেন মাদরাসা শিক্ষক মঈনুল ইসলাম। তিন মাস আগে সে নোয়াখালীর একটি মাদরাসায় চাকরি পেয়ে চলে যান। তবে সামিরের পরিবারের সঙ্গে সে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রেখে আসছিল। অপহরণের উদ্দশ্যেই সে আবার ঢাকায় আসে। পরে সে হাতিরঝিল মধুবাগের বাড়ির সামনে থেকে সামিরকে ফুসলিয়ে বিমানবন্দর আশকোনায় তার এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে যায়।’ তিনি বলেন, ‘আসামী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়- সামিরকে নিয়ে তার বন্ধুর বাসায় ওঠার পর তার বন্ধু শিশুটির সম্পর্কে জানতে চায়। সে তখন তার আত্মীয় বলে পরিচয় দেয়। পরে মোবাইল ফোন ও চিঠির মাধ্যমে সামিরের পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং শর্ত দেয়া হয় যে শুধু সামিরের মা একা ওই মুক্তিপণের টাকা নিয়ে আসবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী এটাও স্বীকার করেছে যে- এই ঘটনার বিষয়ে তার বন্ধু কিছুই জানতো না। অপহরণের পরিকল্পনাটি সে একাই করেছিল।’

র‌্যাব-৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (অপারেশন) এএসএম শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিশুর বাবার কাছ থেকে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে ২৩ আগস্ট বিকাল ৪টার দিকে হাতিরঝিলের মধুবাগ ৩৩১/সি নম্বর বাসার সামনে থেকে শিশু মো. সামিরকে অপহরণ করা হয়। পরে ভুক্তভোগীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩ এর সিপিসি-২ এর একটি দল গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে বিমানবন্দর স্টেশন এলাকা থেকে অপহরণকারী মো. মঈনুল ইসলামকে আটক এবং শিশু সামিরকে উদ্ধার করে।’ তিনি বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে আসামী জানায়- সে মোহাম্মদপুরের নূরানী তালীমূল কোরআন মাদরাসা থেকে হাফেজ হিসেবে পাস করেছে। সে কওমি মাদরাসা থেকেও কিতাব বিভাগে জালালাইন কিতাব পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে। গত এক মাস পূর্বে সে নোয়াখালী জেলার সোনাপুর সাঈদাতুল আবরার মাদরাসার নূরানী বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হয়।’ অপহরণকারী মঈনুল ইসলাম নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার কুতুবপুর গ্রামের মো. মনিরুল ইসলামের ছেলে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানায় র‌্যাব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ