ঢাকা, রোববার 26 August 2018, ১১ ভাদ্র ১৪২৫, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে রুপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার এক বছরেও শেষ হয়নি

শাহজাহান তাড়াশ সিরাজগঞ্জ থেকে : এক বছরেও শেষ হয়নি সিরাজগঞ্জের তাড়াশের মেধাবী কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার। ছয় মাস ধরে আপিল শুনানি ঝুলে আছে হাইকোর্টে। কবে নাগাদ শেষ হবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। এদিকে অভিযুক্তদের বিচার ও তার শাস্তি নিজের জীবদ্দশায় দেখে যেতে চান রূপার মা হাসনা বেগম (৫৫)। আজ ২ আগস্ট পূর্ণ হলো সিরাজগঞ্জের তাড়াশের আসানবাড়ী গ্রামের মৃত জেলহক প্রামাণিকের মেয়ে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যার এক বছর। গত বছর এ দিনে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা শেষে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। হত্যার পর টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায় পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে রূপার লাশ ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্ত্বরা। গত বছরের ২৮ আগস্ট এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) গ্রেফতার করে পুলিশ। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে নারী শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে রূপা হত্যার দায়ে ৪ আসামীর ফাঁসি ও ১ জনের ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও আর্থিক জরিমানার ঘোষণা করা হয়। মামলার বাদী ও রূপার বড় ভাই হাফিজুর রহমান জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন। এরপর ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও চাঞ্চল্যকর ওই মামলায় আজ পর্যন্ত শুনানিই শুরু হয়নি। তিনি বলেন, আমরা দ্রুতততম সময়ে ১৭১ দিন পর টাঙ্গাইল অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ প্রথম আদালতে মামলার রায় ঘোষণায় সন্তুষ্ট হয়েছিলাম। কিন্তু উচ্চ আদালতে আসামী পক্ষের আপিলের পর মামলাটি গত ৬ মাসেও শুনানি না হওয়ায় হতাশ হয়েছি। তাছাড়া বিজ্ঞ আদালত আর্থিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ছোঁয়া পরিবহনের ওই বাসটি রূপার পরিবারকে দেওয়ার আদেশ প্রদান করেন। তাও কার্যকর হয়নি।

রূপার মা হাসনা হেনা বলেন, আমরা নিম্ন আদালতে দ্রুত বিচার পেয়েছিলাম। কিন্তু উচ্চ আদালতে গিয়ে মামলাটি দীর্ঘসূত্রতার কবলে পড়ে গেছে। রূপা হত্যার পর ২০১৭ সালে ১ সেপ্টেম্ব¦র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম দ্রুততম সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে রূপা হত্যার বিচারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তারও বাস্তব প্রতিফলন না দেখে হতাশ রূপার পরিবারের সদস্যরা।

তাড়াশে বিদ্যুতের তারে আটকে কিশোর নিহত

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিদ্যুতের তারে আটকে এক কিশোর নিহত হয়েছে। গতকাল জেলার তাড়াশের হামকুড়িয়া গ্রামের আলালের ছেলে বাপ্পি (১৫) বিদ্যুতের তারে আটকে নিহত হয়। জানা যায়, বাপ্পি পাবনার চাটমোহর উপজেলার স্থল গ্রামের সাইদুলের বিয়ে বাড়িতে ডেকোরেটর সেট করতে গেলে ছেড়া তারে সট লেগে আটকে যায়। তারে জড়িয়ে ওইভাবেই প্রায় ১৫ মিনিট ওখানে বসে থাকে। বিয়ে বাড়ির সবাই তাকে দেখেছে কিন্ত সে যে আটকে আছে তা কেউ টের পায়নি। ছেলেটির নড়াচড়ার গতিবিধি না পেয়ে তার নিকটে গেলে বিদ্যুতে জড়িয়ে থাকার প্রমাণ মেলে। পার্শবর্তী হাসপাতালে নেওয়ার পথেই ছেলেটি মারা যায়। এ ব্যাপারে তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ তদন্ত ফজলে আশিক জানান, আমরা কোন খবর পায় নাই। ছেলেটির করুণ মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ