ঢাকা, রোববার 26 August 2018, ১১ ভাদ্র ১৪২৫, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঈদ উল আযহার ছুটিতে খুলনার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে উপচেপড়া ভিড়

খুলনা অফিস : রূপসা সেতু থেকে বনবিলাস চিড়িয়াখানা। খুলনা মহানগরীর পার্কগুলোসহ পার্শ্ববর্তী ফাঁকা জায়গার সব স্থানেই ছিল উপচেপড়া ভিড়। ঈদের ছুটিতে এবারের আবহাওয়াও ছিল তুলনামূলক ভাল। তাই ঘোরাঘুরির জন্য নগরবাসী বেছে নিয়েছিলেন এসব জায়গাকে। কোন কোন পার্কে নতুন নতুন রাইড সংযোজন করায় দর্শনার্থীদের সংখ্যাও বেড়েছে। যদিও ২/১টি পার্ক কর্তৃপক্ষ বলছেন তুলনামূলক দর্শনার্থী বাড়েনি। তবে ঈদের ছুটিতে খুলনার মানুষ বিনোদনের জায়গা খুঁজতে ভিড় জমিয়েছিলেন নগরীর বিভিন্ন পার্কে।

ঈদের দিন বিকেল থেকেই রূপসা সেতুতে পর্যটকদের ভিড় ছিল লক্ষ্যনীয়। ভিড় বাড়ে গতকাল শনিবারও। বিনোদনের জন্য নগরীতে তেমন কোন জায়গা না থাকায় ফাঁকা জায়গা হিসেবেই এটিকে খুঁজে নেয় নগরবাসী। একই ধরনের ভিড় ছিল নগরীর রুজভেল্ট জেটি সংলগ্ন ঘাট এলাকায়। খুলনা সিটি কর্পোরেশন সেখানে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ওয়াকওয়েসহ কিছু দর্শনীয় স্থাপনা তৈরি করায় বিনোদনের জন্য সেটিকেও বেছে নেয় নগরবাসী। এছাড়া ঈদের দিন বিকেল থেকে নগরীর জাতিসংঘ শিশুপার্কে শুরু হয়েছে ঈদ মেলা। যা শেষ হয় গতকাল শনিবার। শনিবার এবং ঈদের ছুটি থাকায় গতকাল এ পার্কেও ছিল প্রচুর ভিড়।

শিরোমনির গিলাতলা ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন বনবিলাস চিড়িয়াখানা ও বনবিলাস শিশুপার্কেও ছিল উপচেপড়া ভিড়। সেখানকার শিশুপার্কেও সংযোযিত হয়েছে নতুন নতুন রাইড। শিশুরা একের পর এক মেতেছিল রাইড নিয়ে।

গত বছরের ঈদের চেয়ে এবারের ঈদ-উল-আযহায় নগরীর খালিশপুরস্থ ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশুপার্কে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। এমনটি জানিয়ে পার্কের জেনারেল ম্যানেজার মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, আগের চেয়ে পার্কের দৃশ্যপট বদলেছে, পরিবেশ ভাল হয়েছে, বাম্পার কার সংযোজন হয়েছে, ফোয়াড়া চত্বর, ব্রীজের আকর্ষণেও মানুষ আসছে আগের চেয়ে বেশি। চীন থেকে আরও কিছু রাইড আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেগুলো সংযোজন হলে পার্কের চিত্র আরও বদলে যাবে।

পার্কের ম্যানেজার একাউন্টস্ শেখ মাহাতাব হোসেন বলেন, গত কুরবানির ঈদের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে দর্শনার্থীর সংখ্যা। 

ছেলেকে নিয়ে পার্কে ঘুরতে আসা এইচ এম আলাউদ্দিন বলেন, খুলনায় বিনোদনের তেমন কোন জায়গা নেই। ছুটির দিনে স্ত্রী, সন্তান নিয়ে ঘুরে বেড়ানোরও ভাল কিছু নেই। পার্কগুলো পরিণত হয়েছে কপোত-কপোতিদের আড্ডাস্থলে। এতে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে পার্কগুলোতে গেলেও অনেক সময় বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। এসব ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে আর একটু সজাগ দৃষ্টি রেখে অন্তত:পক্ষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘোরা যায় এমন পরিবেশ তৈরি করা উচিত বলেও তিনি মনে করেন।

নগরীর ৬নং ঘাট এলাকায় ঈদের তিন দিনই ছিল নোংরা পরিবেশ। কুরবানির হাট শেষ হয়ে গেলেও জোড়াগেট থেকে ভৈরবের পাড় ঘেঁষা রাস্তা ছিল অপরিষ্কার। গরুর গোবর, খড়কুটা ও ময়লা আবর্জনায় দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশে অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন নগরীর বিনোদনপ্রেমী সাধারণ মানুষ। ভৈরব তীর ঘিরে সিটি কর্পোরেশনের করা দৃষ্টি নন্দন পরিবেশে ঘুরতে এসে সকলেই বিপাকে পড়েছেন। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে দর্শনার্থীদের পদচারণা ও হাটের ময়লা আবর্জনা মিলেমিশে একাকার ছিল। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছেন আগত দর্শনার্থীরা।

সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, নগরীর জোড়াগেট মোড় থেকে ৬নং ঘাট এলাকার ভৈরব তীরবর্তী রাস্তা পর্যন্ত গোবর, কাদা, খড়কুটা দিয়ে পরিবেশ ছিল নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত। হাট শেষের পর থেকেই এই অবস্থা। এই পরিবেশেই হাজার হাজার মানুষ তাদের পরিবারের স্বজনদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। শত শত ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেছে ভৈরবের পাড়ে। সকলেই নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশে নিজেদের ঈদ বিনোদন উপভোগ করছেন। নোংরা পরিবেশ দেখে সকলেই হতবাক হয়েছেন। কেউ কেউ রাগে ক্ষোভে ফিরে গেছেন। নগরীর স্বল্প সংখ্যক বিনোদন কেন্দ্রে ঈদে পর্যাপ্ত ভিড় লেগেই ছিল। সাধারণ মানুষের বিনোদনের তেমন জায়গা না থাকায় অনেকেই ৬নং ঘাট এলাকায় নদীর পাড়ে নিয়মিত ঘুরতে আসেন। কিন্তু কুরবানির হাট শেষ হলেও কেন ময়লা পরিষ্কার করা হয়নি এমন প্রশ্ন ছিল সকলের কাছে।

পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন মঈনুল ইসলাম নামে একজন ব্যাংকার। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঈদ ছাড়াও প্রতিদিনই ভৈরবের তীরে শত শত মানুষ ঘুরতে আসেন। ঈদে আরও বেশি মানুষ আসবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশে আমরা আশাহত হয়েছি। কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল হাট শেষ হওয়ার সাথে সাথে ময়লা পরিষ্কার করা। তা না করায় আমাদের এই বিপত্তি সহ্য করতে হচ্ছে।

২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাসুজ্জামান মিয়া স্বপন বলেন, ঈদের প্রথম দিন শ্রমিকরা নগরীর কুরবানির ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করেছে। পরদিন তাদের বিশ্রাম দেয়া হয়েছে। তৃতীয় দিন থেকে তারা ময়লা অপসারণের কাজ শুরু করবে। শ্রমিক স্বল্পতার কারণে এমনটি হয়েছে।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, আমি নিজে বৃহস্পতিবার ৬নং ঘাট এলাকা পরিদর্শন করেছি। শ্রমিকরা পরিষ্কার করার কাজ শুরু করেছে। ২/১ দিনের মধ্যে পুরো এলাকা পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এবারের ঈদে খুলনার বিনোদন ও ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য নতুন সংযোজন শেখ রাসেল ইকোপার্ক। শহরের কোলাহল থেকে নিরিবিলি পরিবেশে রূপসা নদীর তীরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কণিষ্ঠপুত্র শহিদ শেখ রাসেলের নামে সরকারি উদ্যোগে তৈরি ইকোপার্কটি নজর কাড়ছে সবার।

শিশুরা যেমন কাটাচ্ছে আনন্দময় সময়, বড়রাও তেমনি অবসর সময়টা উপভোগ করছেন হাসি আর আড্ডায়। ভীড় হয়েছে নগরীর দক্ষিণ দিকে বটিয়াঘাটার মধ্যে মাথাভাঙ্গা এলাকায় শহিদ শেখ রাসেল ইকোপার্কে, নগরীর গিলাতলা বনবিলাস চিড়িয়াখানা ও শিশুপার্ক, লবণচরার ভুতের আড্ডা, মুজগুন্নীর এসওএস শিশুপার্ক, রূপসা সেতুর দু’পাড়, শহিদ হাদিস পার্ক ও ফরেস্ট ঘাটে তিলধারণের ঠাঁই থাকছে না। ডুমুরিয়া উপজেলার চাকুন্দিয়া গ্রামে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য হা-ডু-ডু খেলা এবং চুকনগরে দড়া টানাটানি করে গ্রামবাসী। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রীতি ফুটবল, ক্রিকেট ও কেরাম প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজন নিয়ে কেউবা মেতে উঠছেন রূপসী রূপসায় ও ভৈরব নদে নৌকা ভ্রমণে। শহর-গ্রাম সবমিলে ঈদ আনন্দে একাকার খুলনা। 

খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, প্রায় দেড়শ’ বিঘা জমিতে শেখ রাসেল ইকোপার্কটি তৈরি করা হচ্ছে। রূপসা ব্রীজ থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে ৪নং মাথাভাঙ্গা মৌজায় পার্কটি গড়ে উঠার পর এটি হবে এ এলাকার অন্যতম একটি চিত্ত বিনোদন স্থান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ