ঢাকা, রোববার 26 August 2018, ১১ ভাদ্র ১৪২৫, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অনিয়মে ধ্বংসের পথে শিলাইদহ কুঠিবাড়ী রক্ষা বাঁধ প্রকল্প

কুষ্টিয়া : শিলাইদহ কুঠিবাড়ি বাঁধ

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা: কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ী রক্ষা বাঁধ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি, নির্ধারিত পরিকল্পনাসহ নকশা লঙ্ঘন, অর্থ অপচয় এবং বরাদ্দকৃত টাকা প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় না করে অব্যয়িত রাখায় প্রায় ২শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটি এখন ধ্বংসের মুখে। ফলে সরকার যে গুরুত্ব বিবেচনায় বাঙালির অন্যতম এই ঐতিহ্য শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রক্ষায় প্রকল্পটি হাতে নিয়েছিলো তা এখন ভেস্তে যেতে বসেছে। এজন্য প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেই দায়ী করে ক্ষতিপূরণ আদায়সহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়ম-অনিয়ম যা কিছু হয়েছে সবই পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরামর্শেই হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, অটো মেশিনে তৈরী যেসব ব্লক দিয়ে পার বেধেছে সেগুলি সব এখন পানির ঢেউয়ে ধুয়ে চলে যাচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খান বলেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়া ডিভিশনের তত্ত্বাবধায়নে “কুষ্টিয়া জেলায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ী সংলগ্ন এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় পদ্মা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ” প্রকল্পের সুলতানপুর অংশে ২ হাজার ৭২০ মিটার এবং শিলাইদহ অংশে ১ হাজার মিটার সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু দুই অংশের মাঝখানে ১হাজার ৫শ ৩০মিটার কাজ না হওয়ার ফলে নতুন করে সৃষ্ট নদী ভাঙ্গন নির্মিত বাধ এবং শিলাইদহ কুঠিবাড়িকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে এমন কথা শিকার করেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক হস্তান্তরিত অসমাপ্ত প্রকল্পের কিছু অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন এবং সে কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার এই নির্বাহী প্রকৌশলী।

স্থানীয় শিলাইদহ ইউপি চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন তারেক বলেন, ইউপি চেয়ারম্যন হিসেবে দায়বোধ থেকে প্রকল্প নির্মাণ কাজ দেখতে মাঝে মধ্যে গিয়েছি। সেখানে কিছু কিছু অনিয়মও দেখেছি; বিষয়গুলি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নজরে নেয়ার অনুরোধ করেছি।

শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে কর্মরত কাস্টোডিয়ান মুখলেচুর রহমান জানান, বাঙালি জাতির ঐতিহাসিক হেরিটেজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত সাহিত্য চর্চার তীর্থ শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা প্রকৃত অর্থে কুঠিবাড়ি রক্ষার জন্যই করেছেন। কিন্তু বাস্তবে এখানে যে কাজ হয়েছে তাতে কুঠিবাড়ি রক্ষার কাজ হয় নাই। 

নির্মাণ কাজ পুরোপুরি সমাপ্ত না করেই প্রকল্পটি ক্লোজ করে দেয়া হয়েছে। 

মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডিজেল প্লান্টের সাথে নির্মাণ কাজ সম্পন্নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েষ্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কোং এর প্রকল্প তদারককারী প্রকৌশলী রাজিব আহমেদ বলেন, প্রকল্প মেয়াদের শর্তানুযায়ী ২০১৮ সালের ৩১মে থাকলেও ৩০জুন অসম্পূর্ণ প্রকল্পকে সম্পূর্ণ হয়েছে দেখিয়ে কাগজে কলমে দাপ্তরিক নিয়মে হস্তান্তরের মধ্যদিয়ে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রক্ষাবাঁধ প্রকল্পটি সমাপ্ত ঘোষণা করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়া। যদিও এ প্রকল্পের অর্থব্যয়ে তৈরী ১৩ লক্ষ ব্লকের মধ্যে ২লক্ষ ৫০হাজার ব্লক অব্যবহৃত পড়ে আছে। যেখানে শর্তানুযায়ী মেইন্ট্যানেন্স কাজের জন্য মাত্র ৬% রাখার কথা। কিন্তু পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন করে ভাঙ্গন সৃষ্টি হওয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি।

কুষ্টিয়া-৪ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য (কুমারখালী-খোকসা) আব্দুর রউফ বলেন, আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত ও প্রভাবশালী সন্ত্রাসীদের আঁখড়ায় পরিনত কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক কোন কাজই সুচারুরূপে সম্পন্ন হয় না।

তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানান, শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রক্ষা প্রকল্পটির বাস্তবায়নে যে সব ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ও নকশা বহির্ভূত কাজ হয়েছে এবং অসম্পূর্ণ প্রকল্প সম্পূর্ণ দেখিয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো। শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রক্ষা প্রকল্প যেন সত্যিকার অর্থেই কুঠিবাড়ি রক্ষায় স্থায়ী ও টেকসই প্রকল্প হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানালেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ