ঢাকা, সোমবার 27 August 2018, ১২ ভাদ্র ১৪২৫, ১৫ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ওদের ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে

গত বছর ২৫ আগস্ট শুরু হয়েছিল মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক অভিযান। এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে গত শুক্রবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অনুষ্ঠিত হয় এক বহুজাতিক ও আন্তধর্মীয় প্রতিবাদ সভা ও পদযাত্রা। এর আয়োজক ছিল বার্মা টাস্কফোর্স নামের একটি নাগরিক অধিকার সংগঠন। ম্যানহাটনের ইসলামিক কালচারাল সেন্টার থেকে শুরু হয়ে পদযাত্রাটি শেষ হয় মধ্য ম্যানহাটনে জাতিসংঘে মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধির দপ্তরের সামনে। সেখানে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি স্মারক পত্র হস্তান্তর করা হয়। স্মারকপত্রে অবিলম্বে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধের পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানরত সব রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে নিরাপদে প্রত্যাবর্তন ও তাদের নাগরিকত্বসহ সব মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দাবি করা হয়।

স্মারকপত্রে যে দাবি করা হয় তার যৌক্তিকতা সভ্য পৃথিবী উপলব্ধি করে, কিন্তু মিয়ানমার তো তা বিবেচনায় আনছে না। বেপরোয়া অপরাধীর মতো মিয়ানমার সরকার শঠতা ও চাতুর্যের পথ অবলম্বন করে মানব জাতিকে অপমান করে যাচ্ছে। নাগরিক জমায়েতে বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা মজলুম রোহিঙ্গা মুসলমানদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য প্রদান করেন। বার্মা টাস্কফোর্সের অন্যতম সমন্বয়কারী এডেম ক্যারল জানান, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্ক ছাড়াও ওয়াশিংটন ডিসি, শিকাগো এবং কানাডাতে পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। মার্কিন সরকার যাতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সে উদ্দেশ্যে এই টাস্কফোর্স কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন বলে জানানো হয়।

এদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই মর্মে মন্তব্য করেছে যে, বিশ্বনেতাদের ব্যর্থতার কারণে রাখাইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত মিয়ানমারের সেনা সদস্যরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। গত এক বছরের চালচিত্র বিশ্লেষণ করলে বিশ্বনেতাদের ব্যর্থতার বিষয়টিই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ক্ষদ্র ক্ষুদ্র স্বার্থের মোহে বিশ্বনেতারা বড় অপরাধকে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। এমন ভ’মিকার জন্য তাদের ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ