ঢাকা, সোমবার 27 August 2018, ১২ ভাদ্র ১৪২৫, ১৫ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আরও রিপোর্ট পর্যালোচনা করবে কোটা সংস্কার কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার বা বাতিল সংক্রান্ত বিষয়ে দেশ-বিদেশের আরও রিপোর্ট পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল হওয়ায় কমিটি রিপোর্টগুলো অধিকতর পর্যালোচনা করছে। এরপরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

গতকাল রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের কক্ষে কোটা পর্যালোচনা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিধি) ও কমিটির মুখপাত্র আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন। দুপুর ১২টায় বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর ২টায়। 

এর আগে গত ১৩ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোটা নিয়ে সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত। আমরা মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে অলমোস্ট (প্রায়) কোটা উঠিয়ে দেয়ার সুপারিশ করব। তবে আদালতের একটা রায় রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা সংরক্ষণ করতে হবে। এ ব্যাপারে আদালতের মতামত চাইব, আদালত যদি মুক্তিযোদ্ধা কোটা উঠিয়ে দেয় তবে এ কোটাও থাকবে না।

গতকাল বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে মুখপাত্র বলেন, আমরা এখনও পর্যালোচনার মধ্যে আছি। বিভিন্ন দেশের রিপোর্ট...আমরা কোনো কনক্রিট ডিসিশনে আসতে পারিনি। কোটা নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের রিপোর্ট পেয়েছেন কি-না জানতে চাইলে বলেন, কী কী দরকার সবকিছু তো পাইনি। যেটা যেটা পাচ্ছি, সেগুলো পর্যালোচনা করছি। কবে নাগাদ সিদ্ধান্ত আসবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেখা যাক, এই মুহূর্তে বলা যাবে না। আপনারা দেখেছেন পর পর কয়েকটি মিটিং আমরা করেছি। আপনারা কী এখন আদালতেরও মতামত নেবেন- এ বিষয়ে যুগ্ম সচিব বলেন, ‘দেখা যাক।’ আমাদের আরও অনেক রিপোর্ট বাকি আছে। সেগুলো পর্যালোচনা করে তারপর...।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বলেন, কিছু হয়নি, কোনো ইয়েই আমরা করতে পারিনি।

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ জুলাই কোটা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে তা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে সুপারিশ দিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটিকে ১৫ কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। ৮ জুলাই প্রথম সভা করে কমিটি। পরে কমিটির মেয়াদ আরও ৯০ কার্যদিবস (৩ মাস) বাড়ানো হয়।

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা ৫৬ শতাংশ। বাকি ৪৪ শতাংশ নেয়া হয় মেধার ভিত্তিতে। বিসিএসে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০, জেলা কোটায় ১০, নারী কোটায় ১০ ও উপজাতি কোটায় ৫ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ আছে। এ ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সে ক্ষেত্রে ১ শতাংশ পদে প্রতিবন্ধীদের নিয়োগের বিধান রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে কোটা পর্যালোচনা কমিটির সদস্য হিসেবে আছেন আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহম্মদ, অর্থ বিভাগের সচিব মুসলিম চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব অপরূপ চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশনের সচিব আকতারী মমতাজ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ