ঢাকা, সোমবার 27 August 2018, ১২ ভাদ্র ১৪২৫, ১৫ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় বাসের টিকিট সঙ্কট অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

 

খুলনা অফিস : ঈদ-উল আযহা শেষে ঢাকার কর্মস্থলমুখি খুলনাবাসীর দূরপাল্লার বাসের টিকিট পাওয়া যেন কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ঈদের সময় সপরিবারে গ্রামের বাড়িতে আসার আগেই সপরিবারে ঢাকায় ফেরার প্রস্তুতি আগেভাগে। তাই তো তারা অগ্রিম টিকিট সংগ্রহে ছুটছেন এক বাস কাউন্টার থেকে অপর বাস কাউন্টারে। ২৮ আগস্ট পর্যন্ত বাসের টিকিটের চাপ খুব বেশি। কোনো কোনো কোম্পানির বাসের টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি শেষ হয়েছে। এ সুযোগে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বাস ম্যানেজারদের বিরুদ্ধে। তবে তারা এ অভিযোগ মানতে নারাজ। তারা বলছে, সরকারের বেঁধে দেয়া নিয়মেই তারা ভাড়া রাখছেন।

নগরীর খালিশপুর এলাকার রিপন মোল্যা ২৬ আগস্টের টিকিটের জন্য এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে ছুটেছেন। কিন্তু তিনি এসি বাসের টিকিট পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, টিকিট সংগ্রহের জন্য সোনাডাঙ্গা, শিববাড়ি ও রয়েলের মোড় সকল বাস কাউন্টার ঘুরে বেড়িয়েছেন। কিন্তু কোথাও ওই দিনের টিকিট পাননি। তিনি বলেন, দাম বেশি রাখা কোনো ব্যাপার নয়, এখন টিকিট পাওয়াই আসল বিষয়।

সোহাগ পরিবহণ বাসের শিববাড়ি মোড় কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা ইমরান হোসেন বলেন, গত ১২ আগস্ট থেকে কর্মস্থলমুখি খুলনাবাসীর অগ্রিম টিকিট ছাড়া হয়। ইতোমধ্যে তাদের সকল টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। ২৯ আগস্ট পর্যন্ত তার কোম্পানির বাসের টিকিটের চাপ রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে চেয়ার কোচের ভাড়া আরিচা রুটে ৫৫০ টাকা আর ঈদের পরের চার দিন ৬১৫ টাকা করা হয়েছে। মাওয়া রুটে ৪৫০ টাকার পরিবর্তে ৫৫০ টাকা রাখা হচ্ছে। আর এসি বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়নি বলে জানান।

ঈগল পরিবহণের (বাস) শিববাড়ি মোড় কাউন্টারের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম দারা বলেন, এসি টিকিটের চাহিদা বেশি থাকলেও চেয়ার কোচের চাহিদা তেমন নেই। ২৮ আগস্ট পর্যন্ত এসি ও চেয়ার কোচের যাত্রীর চাপ রয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চেয়ার কোচের যাত্রীরা মাওয়া রুটে ঢাকায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। ওই রুটে টিকিট না পেলে তারপর আরিচা রুটের টিকিট সংগ্রহে নামছে। ঈদের আগে এসি টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ১২শ’ টাকা। তবে অগ্রিম টিকিটের দাম রাখা হচ্ছে ১৬শ’ টাকা। চেয়ার কোচের ভাড়া ৫৫০ টাকার পরিবর্তে অগ্রিম টিকিটের মূল্য রাখা হচ্ছে ৬২০ টাকা। যা সরকারি রেট অনুযায়ী ঠিক আছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশন কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মোতাবেক খুলনা থেকে ঢাকাগামী একজন যাত্রীর ভাড়া রাখা হচ্ছে। যেহেতু স্বাভাবিক সময়ে যাত্রী কম থাকে তাই ভাড়া কম রাখা হয়। ঈদের পর চাপ থাকায় যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়া রাখা হয়। বিগত ঈদে কর্মস্থল ফেরত যাত্রীরা টিকিটের জন্য যেভাবে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো এবার তেমন ভিড় দেখা যাচ্ছে না। এবার মাওয়াগামী যাত্রীদের চাপ বেশি বলে তিনি মনে করেন।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস গ্রীন লাইন পরিবহণের রয়েলের মোড় কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা শেখ জাহিদুর রহমান রিপন জানান, ইতোমধ্যে তাদের সকল টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। আগামী ২৮ আগস্ট পর্যন্ত কোনো টিকিট নেই। তাদের প্রতিদিন সকালে ২টি ও রাতে ২টি বাস ঢাকার উদ্দেশে খুলনা ত্যাগ করে। বাসের ভাড়া আরিচা রুটে রাখা হচ্ছে ১৩শ’ টাকা, মাওয়া রুটে ১১শ’ টাকা এবং লঞ্চে পারাপার ৮শ’ টাকা রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, তাদের কোম্পানি ঈদের সময় যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া রাখছে না। তারা একই ভাড়া সব সময় রাখছে। যারা নানা অজুহাতে ভাড়া বেশি রাখছে এটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার।

হানিফ পরিবহণের ম্যানেজার আবু সাহান চৌধুরী জানান, ২৮ আগস্ট পর্যন্ত টিকিটের চাপ বেশি। তবে এখনও তাদের কাছে অল্প কিছু টিকিট রয়েছে। তিনি বলেন, আরিচা রুটে পরিবহণ ব্যবসায়ীরা এখন লোকসানের মুখে। লাভের মুখে রয়েছে মাওয়া রুটের পরিবহণ ব্যবসায়ীরা। তিনি বলেন, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী আরিচা রুটে যাত্রী প্রতি ভাড়া আসে ৬২১ টাকা। তারা রাখছে ৬২০ টাকা। তবে স্বাভাবিক সময়ে ভাড়া রাখা হয় ৫৫০ টাকা করে। এসি বাসের ভাড়া ১২শ’ টাকার স্থলে ১৬শ’ টাকা রাখা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ