ঢাকা, সোমবার 27 August 2018, ১২ ভাদ্র ১৪২৫, ১৫ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় ব্যস্ত সড়কেই চামড়া সংরক্ষণ দুর্গন্ধে নগরবাসীর চরম দুর্ভোগ

খুলনা অফিস : খুলনায় ব্যস্ত সড়কেই কুরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ করছেন ব্যবসায়ীরা। ঈদের ৫ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো সেই চামড়া সরানো হয়নি। কাঁচা চামড়া সড়কের ওপর সংরক্ষণ করায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে। এতে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই এলাকার আবাসিক বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, খুলনায় চামড়া ব্যবসায়ীদের জন্য পৃথক কোনো মার্কেট নেই। এক সময়ে নগরীর শেখপাড়া চামড়াপট্টি এলাকাতেই ছিলো চামড়া ব্যবসায়ীদের মার্কেট। ব্যক্তিমালিকানা দোকানঘর ভাড়া নিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করতেন তারা। কিন্তু গত ৫/৬ বছর ধরে চামড়ার দোকানগুলো চলে গেছে লৌহজাত দ্রব্যের দখলে। দুগর্ন্ধের কারণে চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে দোকান ভাড়া দিচ্ছেন না বাড়ির মালিকরা। ফলে চামড়া ব্যবসায়ীরা রয়েছেন ভাসমান অবস্থায়। দোকান না থাকায় রাস্তার ওপরই চামড়া সংরক্ষণ করছেন তারা।

এদিকে সিন্ডিকেট করে দাম কমানোর সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের দাবি উঠেছে। মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষকরা জানান, খুলনার গুটি কয়েক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে নিয়েছে এবারের ঈদের চামড়ার বাজার। ট্যানারি মালিক ও চামড়া কারখানাগুলোর বেশিরভাগই খুলনা থেকে সরাসরি চামড়া কিনেনি। ফলে শেখপাড়া চামড়াপট্টির ব্যবসায়ীদের কাছে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদরাসাগুলো। এই সুযোগে চামড়ার দাম একেবারে কমিয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সরকার প্রতিফুট চামড়ার মূল্য ৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও খুলনায় সেই চামড়া বিক্রি হয়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে। এতে প্রকৃত চামড়া বিক্রেতারা ক্ষতির সম্মুখীন হলেও বিপুল অংকের টাকা মুনাফা করতে যাচ্ছেন গুটিকয়েক ব্যবসায়ী।

তারা জানান, কম দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন মাদরাসা ও এতিমখানা। মাদরাসা শিক্ষকরা জানান, কুরবানির সময় মানুষের দান করা চামড়া দিয়েই বছরের অর্ধেক ব্যয় নির্বাহ করেন তারা। এজন্য খুলনার অধিকাংশ এতিমখানা ও কওমী মাদরাসা ঈদের সময় চামড়া সংগ্রহ করে। কিন্তু এবারের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। এতো কম দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন-যে চামড়া সংগ্রহের খরচও ওঠেনি। সারা বছর এসব মাদরাসা ও এতিমখানা কিভাবে চলবে এটা নিয়েই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

চামড়াপট্টি ঘুরে দেখা গেছে, চামড়া সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় রাস্তার ওপরেই চামড়া সংরক্ষণ করছেন ব্যবসায়ীরা। চামড়াপট্টির সংযোগস্থলের একপাশ জুড়ে লবণ মেশানো চামড়া স্তুপ করে রাখা হয়েছে। শেরে বাংলা সড়কের পাশেও চামড়া ছিলো। সড়কে চামড়া রাখায় সড়ক সংকুচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে দুর্ভোগে পড়ছেন এলাকার মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, শেখপাড়া প্রধান সড়ক ও শেরে বাংলা রোডের সংযোগস্থলই চামড়াপট্টি হিসেবে পরিচিত। ওই সড়কেই রয়েছে জনতা ব্যাংক, পূর্বালী ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকের শাখা কার্যালয়। এছাড়া একাধিক বীমা ও বেসরকারি কোম্পানির অফিস। কেসিসির নগর স্বাস্থ্য ভবন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমিও পাশে অবস্থিত। এসব কারণে এই এলাকার বাড়ির মালিকদের এখন আর চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে দোকান ভাড়া দিতে নিষেধ করা হচ্ছে।

তারা জানান, দোকান ভাড়া না দেয়ায় ব্যবসায়ীরা সড়কের ওপর চামড়া রাখছেন। এতে এসব অফিসে বিভিন্ন কাজে আসা শত শত মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন। দুগর্ন্ধের কারণে সড়ক দিয়ে চলাচল করাই এখন কষ্টকর হয়ে পড়েছে। খুলনা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম ঢালী বলেন, চামড়া ব্যবসায় ধস নামায় অনেক ব্যবসায়ী দোকান ছেড়ে দিয়েছেন। এছাড়া বাড়ির মালিকরা চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে দোকান ভাড়া দিতে চাইছেন না। এজন্য ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে চামড়া রাস্তার ওপর প্রক্রিয়াজাত করছেন। তাদের পৃথক কোনো মার্কেট বা বাজার থাকলে তারা সেখানে প্রক্রিয়াজাত করতেন।

তিনি বলেন, চামড়া ব্যসায়ীদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট মার্কেট নির্মাণের জন্য কেসিসির মেয়র ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। এই শিল্পকে বাঁচাতে চামড়ার পৃথক মার্কেট ও সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার কোনো বিকল্প নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ