ঢাকা, সোমবার 27 August 2018, ১২ ভাদ্র ১৪২৫, ১৫ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এখনই ট্রাম্পের অভিশংসন চান না কেন ডেমোক্র্যাটরা?

২৬ আগস্ট, গার্ডিয়ান : যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব মার্কিন রাজনীতিতে আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা তার বিরুদ্ধে অন্তত আটটি অভিযোগের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন যার যে কোনওটির সূত্রে তাকে অভিশংসিত করার প্রস্তাব উত্থাপন করা যাতে পারে। কিন্তু যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম লিখেছে, বিরোধী রাজনীতিতে থাকা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির রাজনীতিবিদরা ট্রাম্পের অভিশংসনের দাবি তুলছেন না দুইটি কারণে ডেমোক্র্যাটদের এমন অবস্থান প্রথমত, অভিশংসনের মাধ্যমে ট্রাম্পকে অপসারিত করলে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো হবে, তারা জন রায়কে আইনি কৌশলের মাধ্যমে পাশ কাটাতে চেয়েছেন। এমন প্রচারণা আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। আর দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, ডেমোক্র্যাটরা চায়, ২০১৬ সালের নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপর বিষয়ে রবার্ট মুলারের তদন্ত সম্পন্ন হোক। এতে করে ট্রাম্পের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক এবং নির্বাচনে আঁতাতের ঘটনা তথ্য-প্রমাণসহ প্রকাশিত হবে।

 যেসব অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সমালোচনা প্রবল হয়েছে সেসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত পর্নো অভিনেত্রী স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্কের ঘটনাটি। ওই অভিনেত্রী সম্মতির ভিত্তিতে শারীরিক সম্পর্কে জড়ালেও পরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে যদি অভিশংসনের প্রস্তাব আনা যায়, তাহলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও তেমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। এদিকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধেও উঠেছে বড় বড় অভিযোগ। তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেন কর ফাঁকিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আদালতে স্বীকার করেছেন। আগামী ডিসেম্বরে তার সাজা ঘোষিত হবে। ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণা শিবিরের প্রধান পল ম্যানাফোর্টের বিরুদ্ধেও আদালতে বিচার চলছে।

 ডেমোক্র্যাটরা অভিশংসনের পথে হাঁটতে চায় না। তারা এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও ঘোষণা না দিলেও হাউজ অব অব কমন্সে বিরোধী দলীয় নেত্রী ন্যান্সি পেলোসি দলের সংসদ সদস্যদের প্রতি লেখা এক চিঠিতে মন্তব্য করেছেন, অভিশংসন ডেমোক্র্যাটদের ‘অগ্রাধিকার তালিকায় নেই।’ তারা অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণের বিষয়ে শক্তিশালী বার্তা দিয়ে যেতে এবং দুর্নীতি দূর করে কেন্দ্রীয় সরকারকে কর্মক্ষম রাখতে সহায়তার লক্ষ্যে অবিচল থাকতে চান।

এই অবস্থানের পেছেন দুটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, ডেমোক্র্যাটরা মনে করে, ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত ট্রাম্পকে অভিশংসনের মাধ্যমে পদচ্যুত করলে তা নিয়ে রিপাবলিকান শিবির ঋণাত্মক প্রচারণা চালাবার সুযোগ পেয়ে যতে পারে। অথচ আগামী নভেম্বরে নির্বাচন। এমন সময় কোনও ঋণাত্মক প্রচারণার ঝুঁকি নিতে চায় না ডেমোক্র্যাটরা। দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে, নিশ্চিতভাবে ট্রাম্পের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের বিষয়টি প্রমাণে সহায়তা করতে চাওয়া। ২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে জয়ী করতে রাশিয়া তৎপরতা চালিয়েছিল কি না সে বিষয়ে তদন্ত করছে। স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুলার। তার তদন্ত শেষ হতে দিতে চায় ডেমোক্র্যাটরা। এতে করে ট্রাম্প ও রাশিয়ার যোগাযোগের বিষয়টি দালিলিকভাবে প্রমাণিত হবে।

এ বিষয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের উপদেষ্টা বিল গ্যালস্টোন মন্তব্য করেছেন, ‘মুলারের প্রতিবেদন চূড়ান্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাটাই ডেমোক্র্যাটদের জন্য ভালো। এতে যদি যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ থাকে তাহলে ডেমোক্র্যাটদের অভিশংসনের প্রস্তাব তোলা ছাড়া আর পথ থাকবে না। আর যদি প্রমাণ না থাকে, তাহলে তাদের ওই বিষয় থেকে দূরেই থাকতে হবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ