ঢাকা, সোমবার 27 August 2018, ১২ ভাদ্র ১৪২৫, ১৫ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রুয়েলিয়া ফুলের সৌন্দর্য্যে মন জুড়িয়ে দেয়

আমাদের চারপাশে জানা অজানা অনেক ফুল ফোটে থাকে। কোনটি আমাদের কাছে অনেক পরিচিত আবার কোনটির নাম আমরা কখনো শুনিনি। তেমনই একটি ফুল পটপটি। যার ভাল নাম রুয়েলিয়া। তবে মানিকগঞ্জ এলাকায় রুয়েলিয়া নামে এ ফুল জংলী ফুল হিসেবেই পরিচিত। রুয়েলিয়া মূলত এক প্রকারের বনফুল। গ্রাম অঞ্চলে পটপটি ফুল নামে পরিচিত হলেও শহরে একে রুয়েলিয়া চিনে থাকে। চারধার, পুকুর পাড়, বন জংগল ও ছায়া ঘেরা জায়গায় এ ফুল ফোটে থাকে। রুয়েলিয়া সাধারণত দলবেঁধে থাকতে পছন্দ করে। তাই যেখানে এ ফুল গাছ জন্মে সেখানে অনেক গাছ একসাথে দেখা যায়। রুয়েলিয়া খুব লাজুক প্রকৃতির ফুল। সকালে যে ফুল ফোটতে দেখবেন দুপুর হলেই দেখা যায় সে ফুল আবার তার খোলস বন্ধ করে আছে। রাস্তার ধারে শত শত রুয়েলিয়া ফুটলে দেখে মনে হয় যেন প্রাকৃতিক ফুলের বাগিচা। জানা যায়, রুয়েলিয়া বর্ষজীবি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। গাছের তুলনায় ফুল বেশ বড়। এর আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকা, ষোড়শ শতকে এ দেশে আসে। পটপটি বা রুয়েলিয়া ফুলের ইংরেজী নাম: Popping pod. বৈজ্ঞানিক নাম :Ruellia tuberosa. পরিবার : Acanthaceae. এ ফুলের রঙ হালকা বেগুনি। দেখতে অনেকটা কলমি ফুলের মতো। অনেকে আবার ধুতরা ফুলের সাথে মিলিয়ে থাকেন। পাপড়ির উপরের অংশ পাঁচ ভাগে বিভক্ত বর্ষজীবী এই গুল্মের শিকড় বেশ মোটা ও শক্ত। বেগুনী রঙের এ ফুল যেকোন মানুষের মনকে নাড়িয়ে দেয়। অনেকে শখ করে বাড়ির ছাদে টবে রুয়েলিয়া গাছ লাগিয়ে থাকেন। রুয়েলিয়া ফুলের ভেষজ গুণ রয়েছে। বিশিষ্ট আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক হাকিম উত্তম পালিত বলেন, এ গাছের শিকড় মূত্রনালীর পাথর অপসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখে বলে জানা যায়। রুয়েলিয়ার পাতার রস কণ্ঠনালীর রোগে ব্যবহার করা হয়।  আমরা না জেনেই আমাদের চারপাশের অনেক প্রয়োজনীয় ও সুন্দর গাছ ধ্বংস করি। তাই আমাদের এসব গাছ সংরক্ষণ করা এবং আশেপাশের মানুষকে সচেতন করা উচিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ