ঢাকা, রোববার 18 November 2018, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বায়ুদূষণে আয়ু কমছে

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

বায়ুদূষণে একজন সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিকের গড় আয়ু প্রায় প্রায় ২২ মাস কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গবেষকরা।  যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অস্টিন এ গবেষণাটি চালিয়েছে।

তারা মনে করেন, বাতাস আরও পরিষ্কার করা গেলে সারা বিশ্বে, বিশেষত বাংলাদেশের মানুষের আয়ু উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

এই প্রথমবারের মতো বায়ুদূষণের সঙ্গে মানুষের আয়ু নিয়ে একসঙ্গে গবেষণা করা হলো।  পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের বাতাসের দূষণ সেসব এলাকার মানুষের আয়ুকে কিভাবে প্রভাবিত করে তা পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অস্টিনের গবেষকরা বাতাসে ২.৫ মাইক্রোনের চেয়ে ছোট কণা বা পিএমের উপস্থিতি পরীক্ষা করেন। ‘পিএম ২.৫’ বলে পরিচিত এসব কণা ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। এসব কণা হৃদরোগ, স্ট্রোক, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা ও ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।

পাওয়ার প্ল্যান্ট, গাড়ি, ট্রাক, আগুন কৃষিকাজ ও শিল্প কারখানা থেকে পিএম ২.৫ নির্গত হয়।

এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি লেটারস-এ প্রকাশিত গবেষণাপত্রটিতে বলা হয়, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের মতো বিশ্বের ‘সবচেয়ে দূষিত দেশগুলোর’ মানুষ দূষিত বাতাসের কারণে বিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গবেষকরা দেখতে পান, পরিবেশের পিএম২.৫-এর কারণে বাংলাদেশের মানুষ স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৮৭ বছর তথা ২২ মাস কম বেঁচে থাকেন।

বায়ুদূষণের ফলে মানুষের আয়ু মিশরে ১.৮৫ বছর, পাকিস্তানে ১.৫৬ বছর, ভারতে ১.৫৩ বছর, সৌদি আরবে ১.৪৮ বছর, নাইজেরিয়ায় ১.২৮ বছর, এবং চীনে ১.২৫ বছর কমছে বলে জানান গবেষকরা।

বিজ্ঞানীরা প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রে এবং সামগ্রিকভাবে গোটা বিশ্বে বায়ু দূষণের প্রভাব খতিয়ে দেখেন।

গবেষণা দলের প্রধান যশুয়া আপ্টে বলেন, ‘ক্ষুদ্র কণার দ্বারা বায়ুদূষণ মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এটা জানাই ছিল। কিন্তু এটা পৃথিবীর মানুষের আয়ুও আসলে কতটা কমিয়ে আনছে সেটাই আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে চিহ্নিত করতে পেরেছি।’

‘ফুসফুস ও স্তনের ক্যানসার নিরাময়ের পদ্ধতি আবিষ্কার করলে যত মানুষের উপকার হবে, তার চেয়ে বেশি মানুষ বায়ু দূষণের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত’ বলেন আপ্টে।

এশিয়ার বেশিরভাগ এলাকা থেকে প্রাণঘাতী বায়ুদূষণ দূর করা গেলে ৬০ বছর বয়সীদের ৮৫ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বিশেষ লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হু-এর ‘গ্লোবাল অ্যাম্বিয়েন্ট এয়ার কোয়ালিটি ডাটাবেস ফর-২০১৮’ বলছে, দেশের সবচেয়ে দূষিত শহরটি হল কানপুর। এই শহরের প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ১৭৩ মাইক্রোগ্রাম রয়েছে। ফরিদাবাদ, বারাণসী, গয়া, পাটনার বায়ুতে উপস্থিত মাইক্রোগ্রামের পরিমাণ প্রতি ঘনমিটারে যথাক্রমে ১৭২, ১৫১, ১৪৯ এবং ১৪৪। এর পরেই রয়েছে রাজধানী। সেখানকার দূষণের মাত্রা ১৪৩। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ অবশ্য ২০১৭ সালে বাতাসে উপস্থিত দূষণ কণা সংক্রান্ত কোনও তথ্যই প্রকাশ করেনি এখনও।

এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি লেটারস-এ প্রকাশিত গবেষণায় টেক্সাস বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধ্যাপক জশুয়া আপ্তে দেখিয়েছেন পৃথিবীর ১৮৫টি দেশের মানুষের আয়ু কী ভাবে নির্ভর করছে বায়ুতে পিএম ২.৫-এর উপস্থিতির ওপর। আপ্তে বলছেন, “মানুষের গড় আয়ু কত হওয়া উচিত আর বাস্তবে কত দাঁড়িয়েছে, এই দুইয়ের মধ্যে যে ক্রমবর্ধমান ফারাক, এটাই আসলে বায়ু দূষণের পরিমাণ। এই ফারাক সবচেয়ে বেশি প্রকট ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে। এখানে মানুষের গড় আয়ু কমছে দেড় থেকে দু বছর।”

বায়ু দূষণের আওতায় কিন্তু ঘরে এবং বাইরের, দু’ধরনের দূষণই পড়ছে। ওজোন দূষণের পাশাপাশি ঘরে রান্না করা, খাবার গরম করাও কিন্তু দূষণ বাড়াচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এই দু’ধরনের দূষণই বাড়ছে।

সূত্র: ইউএনবি

ডিএস/আ.হু

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ