ঢাকা, সোমবার 19 November 2018, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কোন মামলার রায় কবে হবে তা নির্ধারণ করেন আইনমন্ত্রী: ফখরুল

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ (সোমবার) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, কোন মামলার রায় কবে হবে এটা এখন আর বিচারকরা নন, নির্ধারণ করেন, আইনমন্ত্রী। আর এটিই দেশের রীতি হয়ে গেছে। বিচারের আগেই রায় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আগাম বক্তব্য অগণতান্ত্রিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০১১ সালে পুলিশ রিপোর্ট পেশ হওয়ার আগেই তৎকালীন আইনমন্ত্রী প্রকাশ্য জনসভায় ঘোষণা করেছিলেন, গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানকে জড়িত করা হবে। হয়েছেও তাই। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রায় হওয়ার আগেই কি করে বলতে পারেন যে এই মামলার রায় হওয়ার পর বিএনপি নেতৃত্ব সংকটে পড়বে। এর অর্থ হলো তিনি জানেন কী রায় হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘২১ অাগস্ট হামলা মামলার রায়ের ২০০৪ সালের চার্জশিটে ২২ জনের নামের তালিকায় বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নাম ছিল না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলায় নতুন মোড় নেয়। মামলায় জিয়া পরিবারের নাম না থাকায় মামলার চলমান বিচার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। এই মামলায় ৬১ জন সাক্ষী ছিলেন। সেসময় শেখ হাসিনা এই মামলার দুই নম্বর সাক্ষী ছিলেন। কিন্তু তিনি কোর্টে আসেননি এবং এ বিষয়ে কোনো কথাও বলেননি। মূল সাক্ষী তো তিনিই। ১৬১ ধারার কোথাও তারেক রহমানের নাম উল্লেখ নেই৷ এমনকি শেখ হাসিনাও কখনো খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ইন্টারপোল তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় রেড এলার্ট জারি করেছিল। পরবর্তীতে ইন্টারপোলের প্রধান কার্যালয় প্রয়োজনীয় তদন্ত করে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে তারেক রহমানের কোন সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পেয়ে গত ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ লিখিতভাবে সেই রেড এলার্ট প্রত্যাহার করে। রাজনৈতিক কারণে তারেক রহমানকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সরিয়ে দেয়ার আওয়ামী ইচ্ছা পূরণ হয়নি- হবেও না ইনশাআল্লাহ। 

তিনি বলেন, সরকার তাদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন ও দুর্বল করার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে চাইছে বলেই দলীয় একজন নেতাকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে মামলার অন্যতম আসামীকে দিয়ে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করেছিল। কিন্তু সেই স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করে মুফতি হান্নান সরকারের ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দিয়েছে। তবে, বিএনপির রাজনীতি থেকে তারেক রহমানকে সরানোর চক্রান্ত সফল হবে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, অন্যায়ভাবে মিথ্যা অভিযোগে খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দিয়ে সরকার জনগণকে ক্ষুব্ধ করেছে। এ ধরণের ঘটনায় পুনরাবৃত্তি দেশে জনগণের মধ্যে দারুণ ক্ষোভের সৃষ্টি করবে যা কারো জন্যই প্রত্যাশিত নয়। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানকে দেশের স্বার্থে একান্ত প্রয়োজনীয় মনে করি। নতুন সংকট সৃষ্টির পরিবর্তে সরকারের উচিত বিদ্যমান সমস্যাদি সমাধানের উদ্যেশ্যে ইতিবাচক উদ্যোগ নেয়া। 

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান,  ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন মিজবাহ প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ