ঢাকা, শুক্রবার 16 November 2018, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জাতিসংঘের রিপোর্ট: মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রাখাইন অঞ্চলে হত্যা, ধর্ষণ সহ ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে

 

 

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

মিয়ানামারের রোহিঙ্গা মুসলমান এবং অন্যান্য নৃ-তাত্ত্বিক সংখ্যালঘুদের উপর গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দেশটির সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই অভিযোগ উত্থাপন করা উচিত বলে সুপারিশ করা হয়েছে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনে।

জাতিসংঘের ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দেশটির শীর্ষ ছয়জন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত এবং বিচার হওয়া দরকার।

কয়েকশ' মানুষের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের উপর সহিংসতার বিষয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করে জাতিসংঘ, যা সোমবার প্রকাশ করা হয়েছে।

এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে জাতিসংঘের দিক থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠোর ভাষায় নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়েছে।

রাখাইন অঞ্চলে প্রকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকির তুলনায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পদক্ষেপ অনেক বেশি অসম ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের শীর্ষ ছয়জন সামরিক কর্মকর্তার বিচার হওয়া প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির সরকার এবং তাতমাদেও (সেনাবাহিনী) এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে, যাতে ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক বক্তৃতা বৃদ্ধি পায়, মানবাধিকার লংঘনকে বৈধতা দেয়া হয় এবং বৈষম্য ও সহিংসতায় প্ররোচিত করে।

সু চির সমালোচনা

রোহিঙ্গাদের উপর সহিংসতা থামানোর জন্য হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হওয়ায় মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি'র কড়া সমালোচনাও করা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘‘ স্টেট কাউন্সিলর হিসেবে দাউ অং সান সু চি রাখাইন অঞ্চলে প্রকাশ্যে ঘটা (গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের) ঘটনা প্রতিরোধ অথবা দমন করার জন্য সরকার প্রধান হিসেবে তার অবস্থান এবং নৈতিক কর্তৃত্বকে কাজে লাগাননি।’’

এছাড়া, ঘটনা বিচারের জন্য বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানোর জন্য আহবান জানানো হয়েছে জাতিসংঘের এ প্রতিবেদনে।খবর আল জাজিরা, বিবিসি সহ আন্তর্জাতিক মিডিয়ার।

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি'র সাথে দেশটির সেনাপ্রধান।

মিয়ানমারের সরকার বরাবরই বলেছে যে রাখাইন অঞ্চলকে জঙ্গিদের ঝুঁকি মুক্ত করার জন্য সুনির্দিষ্ট অভিযান চালানো হয়েছে।

এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, "সামরিক প্রয়োজনে নির্বিচারে হত্যা, গণ-ধর্ষণ, শিশুদের উপর হামলা এবং পুরো গ্রাম জ্বালিয়ে দেবার বিষয়টি কখনো সমর্থনযোগ্য হতে পারে না।"

মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ তদন্ত করার জন্য ২০১৭ সালের মার্চ মাসে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল একটি নিরপেক্ষ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন গঠন করে।

ওই বছরের অগাস্ট মাসে রাখাইন অঞ্চলে সেনাবাহিনীর ব্যাপক অভিযানের আগেই এটি গঠন করা হয়। মিয়ানমারের ওই অভিযানের ফলে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

এ প্রতিবেদনে রাখাইন অঞ্চল ছাড়াও মিয়ানমারের কাচিন এবং শান অঞ্চলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।ওইসব এলাকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্রও উঠে এসেছে জাতিসংঘের এ প্রতিবেদনে।

গত বছরের অগাস্ট মাসের ২৫ তারিখের পর থেকে সাত লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।জাতিসংঘের গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন অবশ্য মিয়ানমারে ঢুকতে পারেনি।

গত সোমবার জেনেভায় বক্তব্য রাখা কালে তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান মারজুকি দারুসমান বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তাদেরকে মিয়ানমারে প্রবেশ করতে না দিলেও তারা ৮৭৫ জন প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ, স্যাটেলাইট ইমেজ, ছবি এবং ভিডিও'র উপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে মিয়ানমারের যে শীর্ষ ছয় সেনা কর্মকর্তাকে এসব ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর প্রধান মিং অং হ্লাইং।

সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি

ডিএস/আ.হু

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ