ঢাকা, মঙ্গলবার 28 August 2018, ১৩ ভাদ্র ১৪২৫, ১৬ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নতুন জার্সিতে টাইগারদের এশিয়া কাপের প্রস্তুতি শুরু 

স্পোর্টস রিপোর্টার : আনুষ্ঠানিকভাবে এশিয়া কাপের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। গতকাল প্রথম দিনে উপস্থিত ছিলেন ২৯ জন ক্রিকেটার। কুরবানির ঈদের আগেই জানিয়ে দেয়া হয়েছিল এশিয়া কাপের জন্য ৩১ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড। সেই স্কোয়াডের ২৯ জন খেলোয়াড়কে নিয়েই শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি পর্ব। প্রথম দিনে উপস্থিত ছিলেন না সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। পবিত্র হজ্ব পালনে সৌদি আরব থাকায় সাকিব আল হাসান ও ক্যারিবিয়ান লিগ খেলতে ওয়েস্ট ইন্ডিজে থাকায় রিয়াদ প্রস্তুতি ক্যাম্পের শুরু থেকে যোগ দিতে পারেননি। সকাল ৯টায় মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ইনডোরে রিপোর্টিং শুরু করে স্কোয়াডে থাকা ২৯ জন ক্রিকেটার প্রস্তুতি শুরু করে। প্রথম চারদিন তথা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কেবল ফিটনেস অনুশীলন করবেন ক্রিকেটাররা। শুক্রবার একদিন বিশ্রাম নিয়ে শনিবার থেকে শুরু স্কিল ট্রেনিং তথা ব্যাটিং-বোলিংয়ের অনুশীলন। শুরুতে স্কিল  ট্রেনিং না থাকায় প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরুর পরেই দলের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন প্রধান কোচ স্টিভ রোডস। এদিকে নতুন জার্সি পরে অনুশীলন করে ক্রিকেটাররা। কারণ একদিন আগে মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘রবি’র সঙ্গে বিসিবির চুক্তি বাতিল করে। তাই ক্যাম্পের জন্য ক্রিকেটারদের যে প্র্যাক্টিস কিট বা জার্সি দেয়া হয়েছে তাতে  কোথাও রবির লোগো বা নাম লেখা নেই। গতকাল ক্রিকেটারদের পরনে ছিল নীল ও লালের সংমিশ্রণে তৈরি নতুন পপ্রাকটিস কিটস। যাতে ছিল না রবি’র  কোনো লোগো। ২০১৫ সালে প্রথম দফায় বিসিবির সঙ্গে চুক্তির পর থেকেই বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের জার্সি ও অনুশীলনের জন্য সরবরাহকৃত পোশাকে রবির লোগো ব্যবহার করা হয়। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হতে যাচ্ছে এশিয়া কাপের এবারের আসর। উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা। আসরটি শেষ হবে সেপ্টেম্বরের ২৮ তারিখে। অন্য যে কোনো টুর্নামেন্টের চেয়ে এশিয়া কাপ ক্রিকেটটা বড্ড বেশি সৌভাগ্যকর বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের জন্য। ২০১২ ও ২০১৬ সালের আসরের ফাইনাল খেলেছিল টাইগাররা। তাই এশিয়া কাপের আসন্ন আসরকে ঘিরেও ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ দল। এর আগে দুইবার এশিয়া কাপ শিরোপার খুব কাছে গিয়েও হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ।  ২০১২ সালে পাকিস্তানের কাছে মাত্র ২ রানে ও দ্বিতীয়বার ২০১৬ সালে ভারতের কাছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে শিরোপা বঞ্চিত লাল সবুজের দল। তবে এবার আর কোন ভুল নয়। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সংযুক্ত আমিরাতে অনুষ্ঠেয় ৬ জাতির টুর্ণামেন্টে এশিয়া কাপ শিরোপা জিততে চায় বাংলাদেশ দল। গতকাল মিরপুর হোম অব ক্রিকেটে ক্যাম্পের ফাঁকে টিম মিটিংয়ে সতীর্থদের সঙ্গে এশিয়া কাপ নিয়ে অধিনায়ক মাশরাফি পরিকল্পনা করেছেন বলে জানালেন দলের তরুণ পেসার আবু যায়েদ রাহি। তিনি বলেন, ‘যদি পরিকল্পনা জানতে চান, তাহলে বলবো আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। একটু আগে ড্রেসিং রুমে একটা মিটিং হয়েছিল আমাদের মধ্যে। মাশরাফি ভাই বলেছেন, সবার মধ্যে বিশ্বাস রাখতে যেন আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারি। আমরা শুধুই অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছি না।’ মাশরাফির সঙ্গে রাহির ড্রেসিং রুম শেয়ার কিংবা টিম মিটিংয়ের অভিজ্ঞতার ঝুলি মোটেও ভারি নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেই প্রথমবার একই সঙ্গে মাঠে নেমেছেন দু’জন। তবে প্রথমের অভিজ্ঞতায়ই মুগ্ধ এই টাইগার পেসার।  এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাশরাফি ভাইয়ের সঙ্গে এটাই আমার প্রথম সফর ছিল। গায়ানাতে যখন তাকে দেখেছি, অনেক আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছিল। উনি আমাদের বিশ্বাস দিয়েছিলেন যে, তোরা যদি বিশ্বাস রাখিস তাহলে তোরা পারবি। আর আমরা সেটা পেরেছি।’

৩১ সদস্যের প্রাথমিক টাইগার স্কোয়াড

মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, আনামুল হক বিজয়, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ,  সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান,  মোহাম্মদ সাইফ উদ্দীন, মোস্তাফিজুর রহমান, মোসাদ্দেক  হোসেন সৈকত, লিটন কুমার দাস, আবু হায়দার রনি, নাজমুল  ইসলাম অপু,  মেহেদি হাসান মিরাজ, মুমিনুল হক, নুরুল হাসান সোহান, রুবেল হোসেন,  আরিফুল হক, আবু যায়েদ রাহি, নাজমুল হোসেন শান্ত, শরিফুল  ইসলাম, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, কামরুল ইসলাম রাব্বি, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, জাকির হাসান, সানজামুল ইসলাম,  মোহাম্মদ মিঠুন ও ফজলে রাব্বি মাহমুদ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ