ঢাকা, মঙ্গলবার 28 August 2018, ১৩ ভাদ্র ১৪২৫, ১৬ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাঘের আবাসভূমি সুন্দরবন বেপরোয়া শিল্পায়নে হুমকির মুখোমুখি

গতকাল সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির যৌথ উদ্যোগে সুন্দরবন রক্ষায় অবিলম্বে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বেপরোয়া শিল্প স্থাপন বন্ধের দাবিতে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট সুলতানা কামাল -সংগ্রাম

# রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র একটি অসচ্ছতার প্রতীক
স্টাফ রিপোর্টার : বাপা’র সেমিনারে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সুন্দরবনের পাশে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি একটি অসচ্ছতার প্রতীক। প্রকল্পটি যে কেবল আত্মঘাতী তা-ও  নয়, এর ভেতরে অসচ্ছতায় ভরা। আর এজন্য এপ্রকল্পটি নিয়ে সরকার দেশের পরিবেশবাদিদের সাথে কোনো ধরনের মুক্ত ও গঠনমূলক আলোচনায় রাজী নয়। অসচ্ছতা দূরে তারা কোনো ধরনের পদক্ষেপও নিচ্ছে না। বরং পরিবেশবাদিদের বিরুদ্ধে নানান ধরনের কুৎসা রটাচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি’র উদ্যোগে গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। “সুন্দরবন রক্ষায় অবিলম্বে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বেপরোয়া শিল্প স্থাপন বন্ধের” দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিন, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিলসহ মোঃ মোজাহেদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বিশিষ্ট লেখক-বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, বাংলাদেশের নারী নদী ও বনভূমি চরমভাবে আক্রান্ত। তিনি বলেন, দেশে কোনো বন বিভাগ আছে বলে মনে হয় না। থাকলে সুন্দবনের এমন হাল হত না। তিনি বলেন, সুন্দরবন এখন সরকারের নানান কর্মকান্ডে বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। অথচ এ সুন্দরবন আমাদের দেশের মানুষের গর্ব ও আমাদের অমূল্য সম্পদ।
সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি কর্তৃক সরকারের নিকট জমাকৃত ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিবেদন এবং সম্প্রতি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন ও ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির জুলাই ’১৭ সভার সুপারিশের ভিত্তিতে বন রক্ষায় সার্বিক পদক্ষেপ নিতে বলেন তিনি।
জাতিসংঘের মানবাধিকার ও পরিবেশ সংরক্ষণে নিয়োজিত বিশেষ রেপোরটিয়ার প্রদত্ত সুন্দরবন বিষয়ক সর্বশেষ ও শক্তিশালী বিবৃতির প্রেক্ষিতে আয়োজিত এ সাংবাদিক সম্মেলনে বাপা’র সহ-সভাপতি ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, সুন্দরবন বিষয়ে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির প্রস্তাব সস্পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। নির্মাণের সকল কাজ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ সুন্দরবনের পার্শ্ববতী বা অভ্যন্তরের নির্মাণাধীন ও পরিকল্পিত ৩২০টি ও সকল সরকারি-বেসরকারি প্রকল্প ও স্থপানা অপসারণ, নির্মাণাধীন প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ, বরাদ্দকৃত সকল প্লট অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
সম্মেলনে  জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ মি. ন´ কর্তৃক উপস্থাপিত রির্পোট পড়ে শোনান তিনি।  এতে বলা হয়, বাঘের আবাসভূমি সুন্দরবন বেপরোয়া শিল্পায়নে হুমকির মুখোমুখি। তাই বাংলাদেশকে অবশ্যই সুন্দরবন সংরক্ষিত বনের মধ্যে শিল্পায়ন বন্ধ করতে হবে, যা বিশে^র এই বৃহত্তম জলীয় শ^াসমূলসম্পন্ন বা ম্যানগ্রোভ বনসংলগ্ন একটি বিশেষ সত্ত্বা।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরের পাড়জুড়ে বিস্তৃত এই সুন্দরবন এক প্রাকৃতিক বিস্ময় হিসেবে পরিগণিত। জলাভূমি সংরক্ষণ বিষয়ক রামসার কনভেনশন ও ইউনেস্কোর বিশ^ ঐতিহ্য হিসেবে এই বন বিশেষ স্থান হিসেবে বিবেচিত।  মি. নক্স বলেন, “অধিক শিল্পায়ন শুধুমাত্র এই বনের অনন্য রয়েল বেঙ্গল টাইগার, গাঙ্গেয় নদী-ডলফিন ও অন্যান্য বিপদাপন্ন প্রাণীধারণকারী পরিপার্শকতার (ইকোসিস্টেম) উপরই হুমকি নয়; বরং ৬৫ লাখ অধিবাসী জনগোষ্ঠী যাদের  জীবন, স্বাস্থ্য, বসতি, খাদ্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড এই নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল।”
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, এমন কোন দিন নাই যে পরিবেশবাদিরা সরকারকে সুন্দরবনের পাশে এ ধরনের ক্ষতিকর প্রকল্পটি না করতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে না। অথচ সরকার কোনোভাবেই কর্ণপাত করছে না। তারা সুন্দরবনকে ঘিরেই সব ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ