ঢাকা, মঙ্গলবার 28 August 2018, ১৩ ভাদ্র ১৪২৫, ১৬ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রূপসা রেলসেতু এখন দৃশ্যমান বসবে ১৪২টি স্প্যান

খুলনা অফিস : খুলনা-মংলা রেল প্রকল্পের কাজ শুরুর প্রায় তিন বছর পর খুলনা অংশের প্রথম প্যান বসানো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে রূপসা রেলসেতু এখন দৃশ্যমান। পর্যায়ক্রমে ১৪২টি স্প্যান বসিয়ে তৈরি হবে এই সেতু। আগামী ২০২০ সালের মধ্যে সেতুর কাজ সমাপ্ত করতে চায় কর্তৃপক্ষ। তবে ২০২১ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় দফা সময় ও প্রকল্প ব্যয় বাড়ানোর আবেদন করেছে রূপসা সেতুর ভারতীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লারসেন এন্ড টাব। বাংলাদেশ রেলওয়ের রূপসা রেল সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম জানান, সেতুর খুলনা অংশে ৬৬ ও ৬৭ নম্বর পিলারের ওপর মাটি থেকে ১৬ মিটার উঁচুতে এই প্যান গত ৯ আগস্ট বসানো হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছেছে ভারতে নির্মিত ৩২ দশমিক ৫ মিটারের আরও ৮টি স্প্যানের বিভিন্ন অংশ। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, খুলনা-মংলা রেলপথ প্রকল্পটির কাজ ৩টি অংশে বিভক্ত। যার একটি রেল সেতু, অপরটি রেললাইন এবং অন্যটি টেলিকমিউনিকেশন ও সিগন্যালিং। প্রকল্পের অধীনে লুপ লাইনসহ রেলওয়ে ট্র্যাকের দৈর্ঘ্য ৮৬ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ হবে। আর রূপসা নদীর ওপরে হযরত খানজাহান আলী (র.) সেতুর দেড় কিলোমিটার দূরে যুক্ত হবে ৫ দশমিক ১৩ কিলোমিটার রেলসেতু। এছাড়া ২১টি ছোটখাট ব্রিজ ও ১১০টি কালভার্ট নির্মিত হবে। ফুলতলা থেকে মংলা পর্যন্ত ৮টি স্টেশন হবে। স্টেশনগুলোর মধ্যে ফুলতলা, আড়ংঘাটা, মোহাম্মদ নগর, কাটাখালী, চুলকাঠি, ভাগা, দিগরাজ ও মংলা। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে রেললাইনের জন্য ১ হাজার ১৪৯ কোটি ৮৯ লাখ এবং ব্রিজের জন্য ১ হাজার ৭৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। বাকী টাকা জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানান, রূপসা রেল সেতু বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) ও ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় এই রেলপথটি নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের রেললাইন তৈরির জন্য ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর ভারতের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ভারতের ইরকন এর সাথে চুক্তি হয়েছে। আর ব্রিজ তৈরির জন্য ওই বছরের ২৪ আগস্ট ভারতের লারসেন এন্ড টাব নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি হয়। এর আগে ২০১২ সালের নবেম্বর প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় ভারতের সিইজি নিপ্পন কোয়ি জেভি প্রতিষ্ঠান। স্টুপ কনসালট্যান্টস লিমিটেড টিম লিডার গোলাম ফরুক জানান, ৫ দশমিক ১৩ কিলোমিটার রেলসেতু নির্মাণের প্রথম দফায় বর্ধিত সময়সীমা শেষ হয়েছে জুন মাসে, কিন্তু কাজের অগ্রগতি মাত্র ২২ শতাংশ। তাই দ্বিতীয় দফায় সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ফলে প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে ৩০০ কোটি টাকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ