ঢাকা, মঙ্গলবার 28 August 2018, ১৩ ভাদ্র ১৪২৫, ১৬ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জিয়া পরিবারকে অন্যায়ভাবে আবারো সাজা দেয়া হলে তা কারো জন্যই ভালো হবে না

স্টাফ রিপোর্টার : ২১ আগস্ট গ্রেনেড মামলায় বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান জড়িত-প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সিনিয়র নেতাদের এহেন অভিযোগ খন্ডন করে বিএনপি বলেছে, বিচার বিভাগকে দিয়ে এখন সরকার নিজেদের ইচ্ছাপূরণের অপচেষ্টায় রত। গতকাল সোমবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব একথা বলেন।  মির্জা ফখরুল বলেন, ২০০৭ সালে ১৬১ ধারায় দেওয়া জবানবন্দীতে শেখ হাসিনা কোথাও খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেননি। তিনি বলেন, এখন ২১ আগস্ট মামলাকে পুঁজি করে সরকার বিএনপি নেতৃবৃন্দকে বিপদে ফেলার নগ্ন প্রয়াস চালাচ্ছে। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় দল বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্যই বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে সরকার এই অপচেষ্টা চালাচ্ছে ৷ সরকারের এই প্রয়াসের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় রাজনীতিতে এসব কর্মকাণ্ডের বিষয় পরিণতি সম্পর্কে পুনরায় ভাবার সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছি৷ অন্যায়ভাবে মিথ্যা অভিযোগে খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দিয়ে সরকার জনগণকে ক্ষুব্ধ করেছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি জনগণের মধ্যে দারুণ ক্ষোভের সৃষ্টি করবে যা কারো জন্যই প্রত্যাশিত নয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান,  ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নাল আবেদিন, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন মিজবাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ষড়যন্ত্র ও প্রতিশোধের পথ পরিহার  করে নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা বরং আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানকে দেশের স্বার্থে একান্ত প্রয়োজনীয় মনে করি। নতুন সংকট সৃষ্টির পরিবর্তে সরকারের উচিত বিদ্যমান সমস্যাদি সমাধানের উদ্দেশ্যে ইতিবাচক উদ্যোগ নেয়া৷ মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, কোন মামলার রায় কবে হবে, কী হবে এটি বিচার বিভাগ নয়, আইনমন্ত্রী নির্ধারণ করছেন। বিচার বিভাগের ওপর সরকার যে প্রভাব বিস্তার করেছে তা প্রমাণিত। মামলার রায় কবে হবে সরকারের মন্ত্রীদের এমন বক্তব্য প্রমাণ করে, ২১ আগস্ট হামলা মামলার রায় সম্পর্কে তারা অবগত।
তিনি বলেন, ২১ আগস্ট হামলা মামলার রায়ের ২০০৪ সালের চার্জশিটে ২২ জনের নামের তালিকায় বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নাম ছিল না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলায় নতুন মোড় নেয়। মামলায় জিয়া পরিবারের নাম না থাকায় মামলার চলমান বিচার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। এই মামলায় ৬১ জন সাক্ষী ছিলেন। সেসময় শেখ হাসিনা এই মামলার দুই নম্বর সাক্ষী ছিলেন। কিন্তু তিনি কোর্টে আসেননি এবং এ বিষয়ে কোনো কথাও বলেননি। মূল সাক্ষী তো তিনিই। ১৬১ ধারার কোথাও তারেক রহমানের নাম উল্লেখ নেই৷ এমনকি শেখ হাসিনাও কখনো খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি।
ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর পুরো ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আ: কাহহারকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি নিজ এলাকা কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন এবং পোস্টার, ব্যানার নিয়ে প্রচারণাও চালিয়েছিলেন। তিনি বিএনপি সরকারের সময় অনিয়মের অপরাধে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন। সেই কাহহারকেই তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে আওয়ামী লীগ বেছে নেয়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২ মাসের মধ্যে চার্জশিট পেশ করার জন্য ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রায় ২ বছর পর ২০১১ সালের ২ জুলাই তারেক রহমানসহ ৩০ জনকে আসামী করে চার্জশিট দাখিল করেন। তার এই অভিযোগের ভিত্তি ছিল প্রায় ৪০০ দিন রিমা-ে নির্মম নির্যাতনের পর আদায় করা মুফতি হান্নানের ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী। মুফতি হান্নান পরে তাকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করে এবং তিনি তারেক রহমানের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। কিন্তু তার হঠাৎ করে মৃত্যুদ- হয়ে যাওয়ায় তিনি আর আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে বক্তব্য দিতে পারেননি।
ফখরুল বলেন, একুশে আগস্টের হামলার বিরুদ্ধে আমরা তখনও নিন্দা জানিয়েছি, এখনো জানাই। আমরা এর সঙ্গে জড়িতদের বিচার চাই। কিন্তু বিএনপির ক্ষতি করার জন্য যে অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে তা সভ্য সমাজে হতে পারে না। মির্জা ফখরুল বলেন, এই ঘটনায় তারেক রহমান জড়িত বলে সরকার প্রধান থেকে শুরু করে মন্ত্রী-নেতারা যে বক্তব্য দিচ্ছেন তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দূরভিসন্ধিমূলক ছাড়া আর কিছু নয়।
সাংবাদিক সম্মলনে মির্জা ফখরুল বলেন, গত কয়েক দিন ধরে প্রধানমন্ত্রী ও সেতুমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতাদের সবচেয়ে মুখে বেশি প্রচারিত হচ্ছে, তা হলো ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জড়িত। আইনমন্ত্রী বলছেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এই মামলায় রায় হবে, সেতুমন্ত্রী বলেছেন, এই রায়ের পর বিএনপির নেতৃত্ব সংকটে পড়বে। মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি হলো- বিচারাধীন মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রী ও নেতারা নির্বিঘেœ ক্রমাগত এমন বক্তব্য দিতে পারেন  যা মামলার রায় প্রভাবিত করতে পারে। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচারকালেও এমনটা হয়েছে এবং তার ফলাফল মামলার রায়ে প্রতিফলিত হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০১১ সালে পুলিশ রিপোর্ট পেশ হওয়ার আগেই তৎকালীন আইন প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্য জনসভায় ঘোষণা করেছিলেন, গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানকে আসামী করা হবে। হয়েছেও তাই। ওবায়দুল কাদের রায় হওয়ার আগেই কী করে বলতে পারেন- এই মামলার রায় হওয়ার পর বিএনপির নেতৃত্ব সংকটে পড়বে। অর্থাৎ তিনি জানেন, কী রায় হতে যাচ্ছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলা নিয়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ নেতার বক্তব্য কোনো বিচারেই গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসনের পক্ষে বলা যাবে না বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা এবং আইভি রহমানসহ অনেক নারী পুরুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনার আমরা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরাও সেই ঘটনার জন্য দায়ী প্রকৃত অপরাধীদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। কারণ আমরাও চাই এমন নির্মম অরাজনৈতিক ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না হয়। কিন্তু এই ঘটনাকে পুঁজি করে সরকার ও সরকারি দল যেভাবে বিএনপি এবং বিএনপির মূল নেতাদের অন্যায়ভাবে বিপদাপন্ন করার জন্য সরকারের পুলিশ, গোয়েন্দা, তদন্ত কর্মকর্তা এমনকি বিচার বিভাগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের নগ্ন প্রয়াস চালাচ্ছে তা কোনো সভা সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার এমন অরাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক আচরণ গণতান্ত্রিক সভ্য সমাজে অচল। সরকার অনির্বাচিত এবং এর ফলে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ না হওয়ার জন্যই তারা রাষ্ট্র ক্ষমতার এমন অপব্যবহার করার সাহস পাচ্ছে।’
সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোল তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এই মামলায় রেড এলার্ট জারি করেছিল। পরবর্তী সময়ে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় প্রয়োজনীয় তদন্ত করে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে তার কোনো সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পেয়ে ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ লিখিতভাবে সেই রেড এলার্ড প্রত্যাহার করে নেয়। রাজনৈতিক কারণে তারেক রহমানকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সরিয়ে দেয়ার আওয়ামী লীগের ইচ্ছা পূরণ হয়নি, হবেও না। প্রকৃতপক্ষে সরকার গোটা বিষয়টিকে তাদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন ও দুর্বল করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে বলেই দলীয় একজন নেতাকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে মামলার অন্যতম আসামিকে দিয়ে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করেছিল। কিন্তু সেই স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করে মুফতি হান্নান সরকারের ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দিয়েছেন। এখন তারা বিচার বিভাগকে দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ইচ্ছা পূরণের অপচেষ্টায় রত হয়েছে।
সরকারের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, জাতীয় রাজনীতিতে এর বিষময় পরিণতি সম্পর্কে পুনরায় ভাবার জন্য সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছি। অন্যায়ভাবে মিথ্যা অভিযোগে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাদ- দিয়ে সরকার জনগণকে ক্ষুব্ধ করেছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেশে জনগণের মনে দারুণ ক্ষোভের সৃষ্টি করবে যা কারো জন্যই প্রত্যাশিত নয়। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা বরং আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানকে দেশের স্বার্থে একান্ত প্রয়োজনীয় মনে করি। নতুন সংকট সৃষ্টির পরিবর্তে সরকারের উচিত বিদ্যমান সমস্যাদি সমাধানের উদ্দেশে ইতিবাচক উদ্যোগ নেয়া।
শেখ হাসিনাকে বহনকারী গাড়িতে কয়েকটি বুলেট ছোড়া হয়েছে এবং তা গাড়ির কাঁচ ও চাকায় আঘাত করেছে’-এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের সমালোচনা করেন বিএনপির এই মহাসচিব। এ সময় তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন তাহলে কোনো তদন্ত প্রতিবেদনে কিংবা  স্বীকারোক্তিমূলক জবাববন্দিতে গ্রেনেড হামলা ছাড়া গুলি ছোড়ার কোনো কথারই উল্লেখ নেই কেন। তিনি জানতে চান কে বা কারা এসব গুলি ছুড়েছে তা কি এই ঘটনার জন্য প্রাসঙ্গিক নয়?
২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার পরপরই তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের আইনগত পদক্ষেপসমূহ, সন্দেহভাজন আসামীদের গ্রেপ্তার এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার মামলার গতি পরিবর্তনের বিষয়গুলো তথ্য-উপাত্ত দিয়ে তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা নিয়ে কিছু প্রশ্ন রাখেন ফখরুল। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট মহানগর আওয়ামী লীগের  নির্ধারিত সমাবেশ মুক্তঙ্গন থেকে পরিবর্তন করে পুলিশকে না জানিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে কেনো দলীয় কার্যালয়ে সামনে নেয়া হলো?  বিএনপি সরকার সময়ে ইন্টারপুল, এফবিআই  ও অন্যান্য তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ শেখ হাসিনাকে বহনকারী গুলিবিদ্ধ গাড়িটি আলামত হিসেবে পরীক্ষা করতে চাইলে কেনো শেখ হাসিনা তাতে অসম্মতি জানান? ভারতীয় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কুলদীপ নায়েরকে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, গ্রেনেড হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ সেনা বাহিনী জড়িত। এই খবর ২০০৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর দৈনিক ডন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। শেখ হাসিনা কিসের ভিত্তিতে এমন অভিযোগ করেছিলেন তা কখনো কোনো আদালত কিংবা তদন্তকারী তাকে জিজ্ঞাসা করেনি কেনো?
মির্জা ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনার নিরাপত্তা কর্মকর্তাগণ বলেছেন, তাকে বহনকারী গাড়িতে কয়েকটি বুলেটে ছোঁড়া হয়েছে এবং তা গাড়ির কাঁচ ও চাকায় আঘাত করেছে। অথচ কোনো তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা স্বীকারোক্তিমূলক জবাববন্দিতে গ্রেনেড হামলা ছাড়া গুলি ছোঁড়ার কোনো কথারই উল্লেখ নেই কেনো? কে বা কারা গুলি ছুঁড়েছে তাও  কি এই ঘটনার সাথে প্রাসঙ্গিক নয়।এই মামলায় শেখ হাসিনা  ২ নম্বর উইটনেস সাক্ষী ছিলেন। সি ওয়াজ এ উইটনেস অব দি কেইস, বাট সি ডিডনট টার্ন আপ ই্ন দি কোর্ট।  তিনি কোর্টে আসেননি। প্রথম সাক্ষী ছিলেন বাদী এসআই শরীফ আহমেদ। তারপর শেখ হাসিনা। কারণ মূল সাক্ষী তো তিনিই। সেই সাক্ষী কিন্তু আদালতে আসেন নাই। কেনো? বিএনপি সরকারের আমলে ২০০৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মুফতি হান্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো। মুফতি হান্নানের সাথে তারেক রহমানের যোগ সাজস থাকলে বিএনপি সরকারের আমলে তাকে(মুফতি হান্নান) গ্রেপ্তার করা হবে কেনো? মুফতি হান্নানের প্রথম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করা হয় ২০০৭ সালে। অন্যদিকে দ্বিতীয় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় হয় ২০১১ সালে। অর্থাৎ প্রায় চার বছর পর। একজন প্রধানমন্ত্রীর ছেলের সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে কিনা এটা কারো মনে করার জন্যে চার বছর সময় লাগে? কবে তাদের সাক্ষাৎ হয়েছে এটা মুফতি হান্নান মনে করতে পারেননি। আসলে কোনো একটা তারিখ বললে তারেক রহমানের কর্মসূচি দিয়ে প্রমাণ করা যেতো সেদিন তিনি আদৌও ঢাকায় ছিলেন কিনা? এজন্য তারিখটা উল্লেখ নেই।
নিন্দা ও প্রতিবাদ: শেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ হযরত আলী, টাংগাইল জেলার নাগরপুর থানা বিএনপি‘র যুগ্ম আহবায়ক আহাম্মদ আলী রানা, দেলদুয়ার থানা বিএনপির আতিকুর রহমান, নাগরপুর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিহাদ হোসেন, থানা বিএনপির সদস্য মোনায়েম খান, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন, পাকুটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিকী ও থানা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক খন্দকার লেলিন ১০/১২ জন নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করার তীব্র  নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিবাদ ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে দুরে যেতে পারছেনা বর্তমান অবৈধ সরকার। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বর্তমান সরকার বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করতে দেশকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। আর সেজন্যই বেপরোয়া হয়ে গুম, খুন, অপহরণ ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের লাগাতার গ্রেফতার ইত্যাদিকে রাষ্ট্রীয় নীতি করা হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের জন্য দেশের কারাগারগুলো বন্দী ধারণ ক্ষমতা নেই। সরকারের সকল অপকর্মের ম–ল লক্ষ্য একটাই-তাহলো ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করা। কিন্তু সরকার এসব কুকর্ম করে আর বেশীদিন ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে পারবেনা। জনগণের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণ এখন আরো বেশী ঐক্যবদ্ধ। ভয়াবহ দু:শাসন ও জুলুমের বিরুদ্ধে জনগণের মিলিত শক্তির কাছে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর পরাজয় বরণ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
কাজী জাফরের মৃত্যু বার্ষিকী: গতকাল পালিত হয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম জাতীয় রাজনৈতিক নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফরের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে মির্জা ফখরুল বলেন, কাজী জাফর এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ছিলেন। তিনি ষাটের দশকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রনেতা হিসেবে আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অগ্রণীভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীকালে শ্রমিক নেতা হিসেবে ছিলেন কিংবদন্তি তুল্য । ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অনন্য সাধারণ নেতৃত্বের পরিচয় দেন। কাজী জাফর স্বাধীনতাত্তোর কালে তৎকালীন একদলীয় শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এবং বাকশালের বিরোধীতা করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপ–র্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন সময়ে দক্ষতার সাথে দায়িত পালন করেছেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সংহতি সম্মেলনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করার জন্য বিএনপিসহ ৭ দলীয় জোট গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে ২০১৩ সালে স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটে যোগ দিয়ে আমৃত্যু সংগ্রাম করেছিলেন।
শোকবার্তা : পাবনা জেলাধীন সুজানগর পৌর বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দিন প্রামাণিক এর  (৯৫) মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবর্গ, আত্মীয়স্বজন এবং শুভাকাÍখীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ