ঢাকা, মঙ্গলবার 28 August 2018, ১৩ ভাদ্র ১৪২৫, ১৬ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নতুন ওই আইন নিয়ে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ‘উচ্ছ্বসিত’ হওয়ার কোনো কারণ নেই -চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে অনুমোদনের বিধান রেখে সরকার আইন করার উদ্যোগ নিলেও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীন সংস্থা হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশন কারো অনুমতি নিয়ে কাজ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেছেন, নতুন ওই আইন নিয়ে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ‘উচ্ছ্বসিত’ হওয়ার কোনো কারণ নেই।
গতকাল সোমবার দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, “দুদক একটি স্বাধীন সংস্থা, দুদকের আইন আছে। যতক্ষণ পর্যন্ত দুদককে পরাধীন সংস্থা করা হচ্ছে না ততদিন কিন্তু স্বাধীন থাকবে। দুদক কারো অনুমতি নিয়ে কাজ করবে না, এটা আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই।”
 ফৌজদারি মামলায় কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে গৃহিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করতে হলে অনুমোদন নেওয়ার বিধান রেখে ‘সরকারি চাকরি আইনের’ খসড়ায় গত ২০ অগাস্ট মন্ত্রিসভার  বৈঠকে অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
এ আইন পাস হলে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদক সংকটে পড়বে কিনা জানতে চাইলে সরকারের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ইকবাল মাহমুদ বলেন, “আইনটা যেভাবেই পাস হোক না কেন, যে সকল অসৎ এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা রয়েছে তাদের কিন্তু উচ্ছ্বসিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশনের কোনো অসুবিধা হবে না।”
তবে কোনো আইনই দুর্নীতিবাজদের ‘রক্ষা করার জন্য’ হয় না মন্তব্য করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “সৎ কর্মচারীদের সুরক্ষা দেওয়ার আইনের প্রয়োজন আছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমরাও চাই সৎ যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে তাদের সুরক্ষার প্রয়োজন। “যে আইনই হোক না কেন... জনগণের ইচ্ছা ও কল্যাণেই আইন হয়, জনকল্যাণেই আইন হবে আমি এটা প্রত্যাশা করি।”
নতুন আইন পাস হলে দুদকের ক্ষমতা খর্ব হবে কি না জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, “দুদক ঠুঁটো জগন্নাথ হবে না এবং গ্রেপ্তারও থেমে থাকবে না। প্রয়োজনের সময় গ্রেপ্তার হবে। দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তার করা সমস্যা হবে না।”  কমিশন যতদিন আছে ততদিন দুর্নীতি করে পার পাওয়া ‘সহজ হবে না’ দাবি করে চেয়ারম্যান বলেন, “হয়ত কৌশলে কোনো পরিবর্তন করে... যুদ্ধক্ষেত্রের নিয়ম এমনই।”
সরকার এ আইনের খসড়ায় অনুমোদন দিলেও পরবর্তী পদক্ষেপে যাওয়ার আগে দুদক এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি না বলে জানান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে কথা বলার প্রয়োজনও নেই। আমরা মনে করি সরকার দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষার জন্য কোনো আইন তৈরি করবে না। প্রস্তাবিত আইনটা দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষার জন্য আইন না, বরং এটাকে আমি দেখি সৎ কর্মচারীদের সুরক্ষার আইন।”
নতুন আইন হলে ফাঁদ পেতে ঘুষের ঘটনা ধরার ক্ষেত্রে দুদক সমস্যায় পড়বে কি না– এ প্রশ্নে ইকবাল মাহমুদ বলেন, “ফাঁদ মামলা চলবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কেউ যদি মনে করে থাকে- আমি অবারিত দ্বার ... ঘুষের রাজত্বে আমি বাস করি এবং আমি ঘুষ খেয়ে আইনের সুরক্ষা পাব, এগুলো ইম্পসিবল।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ