ঢাকা, মঙ্গলবার 28 August 2018, ১৩ ভাদ্র ১৪২৫, ১৬ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নানা আয়োজনে কবি কাজী নজরুলের মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

স্টাফ রিপোর্টার : যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের  শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মধ্যদিয়ে কবির কবরস্থান ফুলে ফুলে ছেয়ে যায়। সকাল সাড়ে সাতটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের পক্ষ থেকে কবির কবরস্থানে পুষ্পার্ঘ অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যসূচি শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. মুহম্মদ সামাদসহ বিশ্ববিদালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা পর পর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এর পর ঢাবি’র বিভিন্ন সংগঠন ও হলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নানা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টরা পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন। কবর প্রাঙ্গণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কবি স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ঢাবি প্রো-ভিসি কবি ড. মুহম্মদ সামাদ এতে সভাপতিত্ব করেন। আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী, সংগীত বিভাগের শিক্ষক টুম্পা সমদ্দার, অধ্যাপক ড. মোহসিনা আখতার খানম (লীনা তাপসী), অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী, ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল ও অধ্যাপক আখতার কামাল।
আলোচনায় জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম কবির প্রতি শ্রদ্ধা জািনয়ে বলেন, কবির কবরস্থল পরিষ্কার পরিচ্ছনতা আরও বাড়ানো দরকার। তিনি কবর প্রাঙ্গণে আরও ফুলগাছ ও অন্যান্য গাছ রোপণের আহবান জানিয়ে বলেন, কবির বিভিন্ন কবিতায় অনেক গাছের ও ফুলের নাম রয়েছে। সেই সব ফুল ও গাছ লাগানোর জন্য তিনি অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, কবির কবরকে যেন স্মৃতি সৌধ করে ফেলা না হয়। এটা কবরস্থানই থাকবে। কবরস্থানের পরিবেশ আরো আকর্ষণীয় করার জন্য তিনি ষড় ঋতুতে যে সব ফুল ফোটে, সে সব গাছ রোপণ করার আহ্বান জানান।
ঢাবির প্রো-ভিসি ড. মুহম্মদ সামাদ সভাপতির বক্তব্যে বলেন, আগামী বছর নজরুল জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠান বড়সড় করে আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, নজরুল সারাবিশ্বের নির্যাতিত মানুষের কবি। মানবতা, অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি। বিশ্বে এখন এই কবি মানবতার ও সৃষ্টিশীলতার কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল , শিল্পী ইয়াকুব আলী খান, শিল্পী লীনা তাপসী ও ঢাবির সংগীত দলের শিল্পীরা। কাজী নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করা হয়।
কবরস্থানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান, আওয়ামী লাীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা এডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি, দিপু মণি এমপি প্রমুখ।
এসময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের জাতীয় কবি অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী চেতনায় সমৃদ্ধ ছিলেন। বিদ্রোহী কবিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তার মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা শপথ নিব বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িকতা বিষবৃক্ষ এখন ডালপালা বিস্তার করে আছে। দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নজরুলের চেতনায় এই সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষকে আমরা উৎপাটন করব।
কাদের বলেন, কবি নজরুলের সব লেখনী, গান, কবিতা সব কিছুতেই অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী চেতনা সুদৃঢ় রয়েছে। আজকে জাতীয় কবির মহাপ্রয়াণ দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিদ্রোহী কবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সমাহিত আছেন। যেটি দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন। না আনলে হয়তো পশ্চিমবঙ্গে তার মৃত্যু হতো। বাংলার কবি বাংলাদেশে তার  মৃত্যু হয়েছে এবং বাংলার মাটিতে তিনি শুয়ে আছেন।
অন্যদিকে কবির কবরে বিএনপির পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যমান অন্যায় এবং অনাচারের প্রতিবাদ করে একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে এই দেশকে পুনরায় গড়ে তুলতে হবে।
এ ছাড়াও কবির কবরে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানায় কবির পরিবারের সদস্যরা, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ঢাবি শিক্ষক সমিতি, বাসদ (মার্কসবাদী), বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় কবিতা পরিষদ, গণগ্রন্থাগার, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, রোকেয়া হল, মহিলা আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ঢাবি একাত্তর হল, নজরুল ইন্ইটটিউট , বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ, জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্র , ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, কপি রাইট অধিদফতর, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল, শহীদ সার্জেন্ট জহিরুল হক হল, ঢাবি অফিসার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল, কবি সুফিয়া কামাল হলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়।
কবির স্বরণে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়। এতে আলোচনায় অংশ নেন কবি আসাদ চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী। পরে বিভিন্ন শিল্পীরা নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন। দিবসটি উপলক্ষে বিটিভিসহ বেসরকারি টিভি থেকে কবির ওপর নানা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ