ঢাকা, মঙ্গলবার 28 August 2018, ১৩ ভাদ্র ১৪২৫, ১৬ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মৃত্যুপথযাত্রী ছেলেকে বাঁচাতে বিচারকের মর্মস্পর্শী চিঠি

স্টাফ রিপোর্টার : ‘মৃত্যু পথযাত্রী সন্তানের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমি বাংলাদেশের বিচার বিভাগের একজন সদস্য হিসেবে আপনিসহ আপনার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিচার বিভাগের সকল কর্মকর্তা/ কর্মচারীর নিকট আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সবিনয় আবেদন করছি।’
একজন যুগ্ম-জেলা ও দায়রা জজের পত্র এটি। স্ত্রী-সন্তান ছাড়াও বৃদ্ধা মা ও ভাইকে নিয়ে যার রোজগারে চলে পুরো পরিবার। এরই সঙ্গে গত সাড়ে ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে সন্তানকে মৃত্যুর হাত থেকে আগলে রাখার নিত্যসংগ্রাম তার।
পত্রে তিনি লিখেছেন, ‘আমি একজন নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। আমার বাবা বেঁচে নেই। আমার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ আমার ছোট ভাই ও বৃদ্ধা মা আমার উপার্জনের উপর নির্ভরশীল। শুধুমাত্র আমার অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসার জন্য আমাকে ঢাকা শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হচ্ছে।’
‘জন্মের পর থেকে এ পর্যন্ত তাকে ঢাকা মেডিকেল, বিএসএমএমইউ, পপুলার, ল্যাবএইড, কমফোর্ট, আইসিডিডিআরবি, ব্রাইটন হাসপাতাল, এপোলো হাসপাতাল, মিরপুর কিডনি ফাউন্ডেশন, ঢাকা শিশু হাসপাতাল, ভারতের নয়া দিল্লীর ম্যাক্স হেলথ কেয়ার হাসপাতাল (গধী ঐবধষঃয ঈধৎব, ঐড়ংঢ়রঃধষ) সহ দেশের আরো অনেক হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়েছে।’
‘ইতিমধ্যেই আমাদের অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসার পিছনে আমার নিজের উপার্জনসহ পরিবারের সঞ্চিত অর্থ শেষ হয়ে গেছে। ধার দেনা করে কোনো মতে সন্তানের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি।’
গত ১৫ মে বিচারক এইচএম শফিকুল ইসলাম সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর পত্রটি পাঠান। পত্রে সহায়তা চেয়ে দুইটি ব্যাংক হিসাব নম্বর দেয়া হয়েছে। নম্বর দুটির একটি হচ্ছে: ব্যাংক হিসাব নং- ০১০২৮৩২৪, সোনালী ব্যাংক লি:, কর্পোরেট শাখা, নারায়ণগঞ্জ। অপরটি হচ্ছে: ব্যাংক হিসাব নং- ৪৩০৫১০৩২৬৯৫৪১০০১, ব্র্যাক ব্যাংক লি:, নারায়ণগঞ্জ শাখা, নারায়ণগঞ্জ।
এরপর গত ৩ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মো: গোলাম রব্বানী একটি পত্র পাঠান বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্টদের বরাবর।
এতে আবেদনের বিষয়বস্তু তুলে ধরে বলা হয়েছে, ‘নারায়ণগঞ্জ জজশিপের যুগ্ম জেলা জজ জনাব এইচ, এম, শফিকুল ইসলাম এর মুমূর্ষু জ্যেষ্ঠ পুত্রের কিডনি অকেজো হওয়ায় চিকিৎসার জন্য জরুরি আর্থিক সহায়তা পাওয়ার আবেদন বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আপনাকে অনুরোধ করা হলো। একই সাথে আপনার অধীনস্থ একজন কর্মকর্তাকে এতদ্উদ্দেশ্যে দায়িত্ব প্রদানক্রমে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয় করার জন্যও অনুরোধ করা হলো।’
বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের  অবহিত করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, সব বিভাগীয় বিশেষ জজ, সব জেলা ও দায়রা জজ, সব মহানগর দায়রা জজ, সব চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সব মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্টদের এই পত্র পাঠানো হয়েছে।
এতে তাদের উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে, ‘আপনার অধীনস্ত সকল বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হলো’।
জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি অবহিত করার ব্যবস্থা করেছি। কেউ কেউ সহযোগিতা করেছেনও। তবে এর মোট পরিমাণটা জানা নেই। প্রধান বিচারপতি বলেছেন তিনিও সহযোগিতা করবেন।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম-জেলা জজ এইচ, এম, শফিকুল ইসলামের সাড়ে ছয় বছরের ছেলে এবিএম সামসুদ্দিন ওরফে সানজিদ জন্মকালীন সময় থেকেই দূরারোগ্য জটিল কিডনি রোগে আক্রান্ত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ