ঢাকা, মঙ্গলবার 28 August 2018, ১৩ ভাদ্র ১৪২৫, ১৬ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ

বড় বড় দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা মানবজাতির জন্য উত্তম উদাহরণ হতে পারতেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় তেমনটি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বরং বড় বড় দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা নিজ দেশের জনগণ ও বিশ্ববাসীর জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তাদের ভ্রান্ত ভাবনা, দাম্ভিক আচরণ, মন্দ জীবনযাপন এবং নীতিহীন চাতুর্যের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা বলা যায়। তাকে নিয়ে এখন ইমপিচমেন্টের (অভিশংসন) আলোচনা হচ্ছে। ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইমপিচমেন্টের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি বয়ে আনবে। তিনি আরো বলেন, যদি আমি কখনো ইমপিচমেন্টের শিকার হই, আমার মনে হয় তাহলে বাজারে ধস নামবে। সবাই তখন গরিব হয়ে যাবে। ভাবতে অবাব লাগে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের ভুল-ত্রুটি ও অনিয়মের কথা স্বীকার করে সংশোধনের পথে না গিয়ে কী করে মানুষকে দারিদ্র্যের ভয় দেখাচ্ছেন? এতে তো তার বিচার-বিবেচনা ও কা-জ্ঞান সম্পর্কেই প্রশ্ন জাগে।
এদিকে গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় প্রচারণায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আদালতে স্বীকার করে নিয়েছেন ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী মাইকেল কোহেন। নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব এড়ানোর উদ্দেশ্যেই ‘প্রার্থীর নির্দেশনায়’ এমনটি করেছিলেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন কোহেন। তিনি জবানবন্দীতে স্বীকার করেছেন যে, ট্রাম্পের নির্দেশেই ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে দুই পর্নো তারকাকে অর্থ দিয়েছিলেন তিনি। শর্ত ছিল, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের কথা তারা প্রকাশ করবেন না। এভাবে অর্থ দেয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অর্থায়নের আইন লংঘনের পাশাপাশি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ক্রমবর্ধমান চাপে ট্রাম্প তার শীর্ষ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনসের সমালোচনা করে বলেন, সেশনস কখনো বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। আক্রমণাত্মক এমন মন্তব্যের জবাবে জেফ সেশনস হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাজনৈতিক চাপের কাছে বিচার বিভাগ নতি স্বীকার করবে না। সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটাই হবে দেখার মত বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ