ঢাকা, মঙ্গলবার 28 August 2018, ১৩ ভাদ্র ১৪২৫, ১৬ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খেলার মাঠে অস্থায়ী শেডে ক্লাস, মেঘে ছুটি

চৌগাছা : অস্থায়ী শেডে ক্লাস নেয়া হচ্ছে পাঁচনমনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা: টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি দেয়ার পর ঠিকাচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণের জায়গার জন্য পুরাতন ভবন অপসারণও করা হয়েছে। চুক্তি মোতাবেক ভবন নির্মাণের মেয়াদ জুন মাসে শেষ হয়েছে। ঠিকাচুক্তির মেয়াদ শেষে দ্রব্যমূল্য বেশির অজুহাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোন কাজ না শুরু করেই ছেড়ে দেয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
পুরাতন জরাজীর্ণ স্কুল ভবন ভেঙে বিক্রি করার পর এখন খোলা আকাশের নিচে ক্লাশ করতে বাধ্য হচ্ছে যশোরের চৌগাছার পাঁচনমনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তাহেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ফলে সামান্য বৃষ্টি বা অতিরিক্ত রোদ পড়লেই শিক্ষার্থীদের ছুটি দিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন উপজেলা প্রকৌশল অফিসের অবহেলার কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশল অফিস বলছে ঠিকাদার কাজ করতে না চাওয়ায় ঠিকাচুক্তি অনুযায়ী তাদের জামানতের টাকা বাজেয়াপ্তের সুপারিশ করা হয়েছে। এমন অবস্থায় স্কুল দুটির ভবন নির্মাণ কবে শুরু হবে অথবা আদৌ ভবন নির্মাণ হবে কিনা সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দু’অফিসের কোন দায়িত্বশীল ব্যক্তিই এ বিষয়ে নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে এবিষয়ে তথ্যের জন্য উপজেলা প্রকৌশলী তারিকুল হাসানের সাথে কয়েকবার যোগাযোগ করলেও তিনি কোন প্রকার সহযোগিতা করেন নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, প্রকৌশল অফিস ও সংশ্লিষ্ট স্কুল দু’টির শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের (পিইডিপি-৩) অধীনে স্কুল দুটি’র নতুন ভবন নির্মাণের জন্য গত জানুয়ারী মাসে দরপত্র আহবান করা হয়। স্কুল প্রতি বরাদ্দ ছিল ৭৬ লাখ টাকা। সেখানে বেশ কয়েকজন ঠিকাদার অংশগ্রহণ করেন।
সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঝিনাইদহের মহেশপুরের চৌধুরী কনস্ট্রাকশন বিদ্যালয় দুটির নতুন ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পায়। সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি ঠিকাচুক্তিও সম্পন্ন করে। ঠিকাচুক্তি অনুযায়ী চার মাসের মধ্যে বিদ্যালয় দু’টির নতুন ভবন নির্মাণ কাজ সমাপ্তের কথা ছিল। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কোন কাজ না করে সম্প্রতি ভবন নির্মাণ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় এবং জামানতের টাকা বাজেয়াপ্তের আবেদন করে। সে প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রকৌশলী তাদের জামানতের টাকা বাজেয়াপ্তের সুপারিশ করে এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন।
এ সকল কারণে বর্তমানে দিন দিন স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমতে শুরু করেছে।
তবে উপজেলা প্রকৌশলী তারিকুল হাসানের দপ্তরে একাধিকবার ধর্ণা দিলেও তিনি সাইডে আছেন বলা হয়। পরে গত ৯ আগস্ট তাকে নিজের দপ্তরে তাকে পাওয়া যায়। সে সময় তিনি বলেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজটি না করে জামানতের টাকা বাজেয়াপ্তের আবেদন করেছেন। সে প্রেক্ষিতে তাদের জামানত বাজেয়াপ্তের সুপারিশ করে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে বিষয়টি আমাকে ফাইল দেখে বলতে হবে। বলেই তিনি বলেন আমাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডেকেছেন, সেখানে যাচ্ছি। আপনি পরে আমাকে ফোন করলে ফাইল দেখে সঠিক তথ্য দিতে পারব।
প্রায় দেড় সপ্তাহ যাবৎ এবিষয়ে তার সেল ফোনে কল করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে প্রতিবারই তিনি সংযোগ কেটে দিয়েছেন। এসময়ে কয়েকবার তার দপ্তরে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। প্রতিবারই তার অফিসের কর্মচারীরা বলেছেন স্যার সাইডে আছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ