ঢাকা, শুক্রবার 21 September 2018, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

‘এলএনজি সরবরাহ সত্ত্বেও গ্যাস পাচ্ছেন না’ চট্টগ্রামের ভোক্তারা

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

গত ১৮ আগস্ট থেকে চট্টগ্রামে আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ চালু হলেও এই অঞ্চলের ভোক্তারা প্রয়োজন অনুযায়ী ‘বিপুল পরিমাণ গ্যাসের অভাবে’ রয়েছেন।

সরকারি সূত্র মতে, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশে এলএনজি সরবরাহের দ্বিতীয় চালান আসা পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে না। ইতিমধ্যে পাইপলাইনের সীমাবদ্ধতাও দূর করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের বণ্টন সংস্থা, কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা জানান, কোম্পানির নির্ধারিত এলাকার অধীনে পাঁচ লাখ ১২ হাজার ৪৩১ জন গ্রাহকের কাছে সরবরাহের জন্য আমদানিকৃত এলএনজি থেকে তারা দৈনিক প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস পাচ্ছেন।

কেজিডিসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জি. খাইজ আহমেদ মজুমদার ইউএনবিকে বলেন, ‘আমরা এখন ৫০০ এমএমসিএফডি চাহিদার বিপরীতে ১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাচ্ছি। কিন্তু এটি যথেষ্ট নয় কেননা আমাদের বেশিরভাগ গ্রাহকরাই গ্যাস পাচ্ছেন না।’

তিনি উল্লেখ করেন, রাউজান বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা লিমিটেডের (সিইউএফএল) সবচেয়ে বেশি গ্রাহক রয়েছেন, যাদের যৌথ চাহিদা ২০০ এমএমসিএফডি এর বেশি।

তিনি বলেন, এলএনজি সরবরাহ শুরুর পর, শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাত্র এক ইউনিট ৩০-৩৬ এমএমসিএফডি গ্যাস পাচ্ছে। বাকি দুই ইউনিট চালাতে এখনো ৪৭ এমএমসিএফডি গ্যাসের প্রয়োজন। অন্যদিকে রাউজান বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৯০ এমএমসিএফডি এবং সিইউএফএল এর ৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস প্রয়োজন।

মজুমদার উল্লেখ করেন, এই তিন কারখানায় এখনো চাহিদা মেটাতে ১৮০ এমএমসিএফডি গ্যাসের প্রয়োজন।

এছাড়া কেজিডিসিএল এ নতুন গ্যাস সংযোগের জন্য প্রায় এক হাজার ৩০০ আবেদন জমা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কেজিডিসিএল এর প্রধান নির্বাহী জানান, যদিও আমদানিকৃত এলএনজি চট্টগ্রামে সরবরাহ করা হচ্ছে, তবে সরকারের সরবরাহ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিদ্যমান সরবরাহ লাইন থেকে গ্যাস ঢাকায় এবং অন্যান্য অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।

চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহের অভাবের কথা স্বীকার করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম কামরুজ্জামান আশা করছেন, দ্বিতীয় এলএনজি চালান আসলে রাজধানী ঢাকাসহ বন্দর নগরী ও অন্যান্য অঞ্চলের গ্যাস সরবরাহের অবস্থা আরো উন্নত হবে।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় এলএনজি চালান ৯ সেপ্টেম্বর দেশে পৌঁছাবে এবং এলএনজি সরবরাহের ক্ষমতা ৫০০ এমএমসিএফডিতে উন্নীত করবে।

‘তবে পাইপলাইনের সীমাবদ্ধতার কারণে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) ৩০০ এমএমসিএফডি থেকে বেশি গ্যাস পাবে কিনা সেটি স্পষ্ট নয়’, যোগ করেন তিনি।

জিটিসিএল সূত্র জানায়, তারা আনোয়ারা ও ফৌজদারহাটের মধ্যে একটি নতুন পাইপলাইন বসাচ্ছেন। তবে এটি পরিচালনার জন্য প্রস্তুত হতে আরো সময় প্রয়োজন।

রাষ্ট্রীয় মালিকাধীন আরপিজিসিএল কাতার থেকে এলএনজি আমদানি করছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জিটিসিএল ওই গ্যাসকে জাতীয় গ্রিডে প্রেরণ করার দায়িত্বপালন করছে।

গত ২৪ এপ্রিল এফএসআরইউ-ভিত্তিক একটি কার্গো জাহাজের মাধ্যমে আমদানিকৃত এলএনজি গ্যাস প্রথমবারের মতো দেশে পৌঁছায়। কিন্তু কিছু ফুটো ও কারিগরি সমস্যার কারণে আরপিজিসিএল গত তিন মাসে নেটওয়ার্কে আমদানিকৃত গ্যাস সরবরাহ করতে পারেনি।

সম্প্রতি কারিগরি সমস্যাগুলোর সমাধান করা হয়েছে এবং এফএসআরইউ নেটওয়ার্কে গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

সূত্র: ইউএনবি নিউজ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ