ঢাকা, বুধবার 29 August 2018, ১৪ ভাদ্র ১৪২৫, ১৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

‘গণতন্ত্র হুমকিতে’ জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের হুঁশিয়ারি

২৮ আগস্ট, এআরডি : জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল জোর দিলেন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং স্বাধীন বিচারব্যবস্থার ওপর।

জার্মানির পাবলিক ব্রডকাস্টার এআরডিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা না গেলে গণতন্ত্রকেও রক্ষা করা যাবে না’। সম্প্রতি বেশ কিছু রাজনীতিবিদ জার্মানির বিচারকদের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। বিশেষ করে ওসামা বিন লাদেনের সাবেক দেহরক্ষী সামি এ-কে অবৈধভাবে তিউনিশিয়ায় ফেরত পাঠানোর বিরুদ্ধে রায় দেয়ার পর তারা এর বিরোধিতা করেন।নর্থ রাইন-ভেস্টফালিয়া রাজ্যের উচ্চতর প্রশাসনিক আদালত সামিকে জার্মানিতে ফেরত আনার আদেশ দেয় এবং যারা তাকে তিউনিশিয়ায় পাঠানোর সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছেন, তাদের জরিমানারও নির্দেশ দেয়।সম্প্রতি ড্রেসডেনে চরম ডানপন্থিদের একটি বিক্ষোভে সংবাদ সংগ্রহের সময় এক সংবাদকর্মীকে আটক করে পুলিশ। তারপর গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টিও বেশ জোরেশোরেই আলোচনায় এসেছে।বাভেরিয়ার সিএসইউ দলের সঙ্গে বোঝাপড়ার ফলে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল আপাতত রাজনৈতিক সংকট থেকে রেহাই পেয়েছেন। কিন্তু সরকারের তৃতীয় জোটসঙ্গী এসপিডি এখনো সেই সমঝোতায় ছাড়পত্র দেয়নি। অভিবাসননীতি নিয়ে সংকট ম্যার্কেলের জোট সরকারেই প্রায় ভাঙন ধরিয়েছিল। সে সংকট আপাতত কাটিয়ে ওঠা গেলেও এখন তার মন্ত্রিসভায় দেখা দিয়েছে নতুন বিতর্ক- অবসরভাতা।

ম্যার্কেল এআরডিকে বলেন, এ বিষয়ে ‘শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসবে’। অবশ্য ২০৪০ সাল পর্যন্ত অবসরভাতা স্থিতিশীল রাখা সংক্রান্ত মধ্যবামপন্থি সামাজিক গণতন্ত্রী দল এসপিডির প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন ম্যারকেল।এসপিডির আরো একটি প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর। আশ্রয়প্রার্থনা মঞ্জুর না হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীরা চাকরি পেলে এবং জার্মান সমাজের সাথে একীভূত হতে পারলে দীর্ঘদিনের জন্য তাদের জার্মানিতে বসবাসের অনুমতি দেয়ার প্রস্তাব ছিল এসপিডির। ম্যার্কেল বলছেন, এমন সিদ্ধান্ত অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ভুল বার্তা দেবে। ম্যার্কেলের পাশে সেহোফার গ্রীষ্মের শুরুতে নিজের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট সেহোফারের কাছ থেকেই সবচেয়ে বেশি বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিলেন ম্যার্কেল। এক পর্যায়ে সরকার থেকে পদত্যাগের হুমকিও দিয়েছিলেন সেহোফার। তবে এখন দুই নেতার মধ্যে কার্যত অলিখিত এক শান্তিচুক্তি বিরাজ করছে। অবসরভাতা নিয়ে বিতর্কে ম্যার্কেলের পাশেই দাঁড়াচ্ছেন সেহোফার৷ জার্মানির আরেক পাবলিক ব্রডকাস্টার জেডডিএফকে তিনি বলেছেন, ‘সরকার এখন ধীরে ধীরে অবসরভাতা, বেকারভাতা, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি এবং দক্ষ শ্রমিকদের অভিবাসনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে’। এ বছরের জুন-জুলাইয়ে কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে সেহোফারের অবস্থান এবং ম্যার্কেলের সাথে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব জোট সরকারের অস্তিত্ব হুমকিতে ফেলে দেয়। তবে পরবর্তীতে ম্যারকেলের খ্রিস্টীয় গণতন্ত্রী ইউনিয়ন সিডিইউ, বাভারিয়া রাজ্যে দলটির সহযোগী সেহোফারের খ্রিস্টীয় সামাজিক ইউনিয়ন সিএসইউ এবং সামাজিক গণতন্ত্রী দল এসপিডি এ বিষয়ে এক ধরনের সমঝোতায় পৌঁছায়।১৪ অক্টোবর বাভারিয়া রাজ্যে নির্বাচন৷ অনেকেই বলছেন, অক্টোবরের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতেই ডানপন্থি নীতির দিকে ঝুঁকছেন সেহোফার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ